kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

মেয়েদের শিরোপা ছোঁয়ার দিন আজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেয়েদের শিরোপা ছোঁয়ার দিন আজ

মেয়েদের সাফের ট্রফি নিয়ে ফটো সেশনে দুই অধিনায়ক—বাংলাদেশের সাবিনা খাতুন (ডানে) ও নেপালের আনজিলা সুব্বা। ছবি : মীর ফরিদ

ছেলেরা সাফ শিরোপা জিতেছে, তা-ও ১৯ বছর হয়ে গেছে। ২০০৩ সালের সেই স্বাদ ভুলেই গেছে মানুষ। মেয়েরা বয়সভিত্তিক পর্যায়ে জিতেছে, ছেলেরাও। কিন্তু মূল সাফের তৃষ্ণা কি তাতে মেটে! এই অঞ্চলে ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব যে এই একটি আসরেই।

বিজ্ঞাপন

মেয়েরা সেই সিংহাসনে বসবে, বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে কান পাতলে এই আশার রোমাঞ্চই শোনা যাচ্ছে।

সাবিনা খাতুনরা গত কয়েক দিনে বিশ্বাসের এই রেণু ছড়িয়েছেন! নেপালের দশরথ স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের স্তব্ধ করে দিয়ে আজ তাঁরা শিরোপায় হাত ছোঁয়াবেন—এই স্বপ্ন শুধু সত্যি হওয়ার অপেক্ষা এখন। গত এক যুগে বাংলাদেশ এই মঞ্চে উঠেছিল আরো একবার। ২০১৬ সালে, শিলিগুড়িতে ভারতের বিপক্ষে ছিল সেই ফাইনাল। কিন্তু এতটা শিরোপা-কাতর ছিল না সেই বাংলাদেশ। একে তো সামনে ভারত, তার ওপর প্রথম ফাইনালে পা রাখাও তখন ছিল মস্ত অর্জন। এবার যে বাংলাদেশ পেছনের সব রেকর্ড-ইতিহাস গুঁড়িয়ে নতুন গল্প লিখতে চলেছে। সন্দেহ নেই গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ই এই বাংলাদেশের সামর্থ্যের সবচেয়ে স্পষ্ট ছবি। আজকের ফাইনালের প্রতিপক্ষ নেপালও প্রথমবার ভারতকে হারিয়েই উঠেছে এই ফাইনালে। তারা অবশ্য জিতেছে ১-০ ব্যবধানে।

বাংলাদেশের মেয়েরা এই টুর্নামেন্টে নিজেদের শক্তিমত্তা জানাতে এতটুকু কার্পণ্য করেননি। চার ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ২০ বার বল পাঠিয়েছেন তাঁরা, সেটিও নিজেদের পোস্ট সুরক্ষিত রেখে। নেপাল গ্রুপ পর্বে ভুটানকে হারিয়েছিল ৪-০ গোলে। একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দ্বিগুণ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ।

এটা ঠিক যে, ইতিহাস বাংলাদেশের পক্ষে নয়। সাফে এর আগে প্রতিবারের দেখাতেই নেপালের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ। সিনিয়র পর্যায়ে কোনো ম্যাচেই নেপালিদের এখনো হারের স্বাদ দিতে পারেনি লাল-সবুজ। কিন্তু বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন বয়সভিত্তিক পর্যায়ের সাফল্যগুলো ভুলছেন না। বয়সভিত্তিক ধাপগুলো ভেঙে মেয়েরা এই পর্যায়ে উঠেছে, সেই উত্তরণকেও তিনি দেখছেন এই ম্যাচের প্রেরণা হিসেবে, ‘এই নেপালের মাটিতে নেপালকে হারিয়ে আমরা এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ শিরোপা জিতেছিলাম। এই মারিয়ারাই খেলেছিল। পরের বছর তাজিকিস্তানে ওদের ৯ গোল দিই। তারপর ভুটানে অনূর্ধ্ব-১৮তে ওদের হারিয়েছি। তো, এই মেয়েদের অভিজ্ঞতা কিন্তু কম নয়। আমার আশা, তারা কালকের দিনটায়ও নিজেদের সর্বোচ্চটা মেলে দিয়ে নতুন কিছু দেবে দেশকে। ’

রব্বানী যেমন বাংলাদেশের নারী ফুটবলের সেই গোড়ার খবর জানেন, নেপালের কুমার থাপা ততটা নন। দ্বিতীয়বারের মতো তিনি নেপালের মেয়েদের দায়িত্বে। প্রথমবারের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না। নেপাল যে একবার মাত্র এই আসরের ফাইনালে উঠতে পারেনি সেই ২০১৬ সালের আসরে তিনি ছিলেন দায়িত্বে। এবার অবশ্য কুমারের অধীনেই প্রথমবারের মতো ভারত-বর্ম ভেঙেছে তারা। তিনিও তাই আশাবাদী, ‘আমাদের পরিকল্পনা ঠিক আছে। মেয়েরা কঠোর পরিশ্রম করছে আর ঘরের সমর্থনও থাকবে। এই ট্রফি তাই আমরা নেপালের বাইরে যেতে দেব না। ’ তবে কুমারের বিচারে এই বাংলাদেশ অন্য যেকোনো বারের চেয়ে সেরা। দুই দলের সামনেই প্রথম শিরোপার হাতছানি। তাতে বাংলাদেশ কোচও বলেছেন, ‘ম্যাচটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে’। সাবিনারা এই শেষ ধাপে নিজেদের হারিয়ে ফেলবেন নাকি শিরোপা জিতেই ফিরবেন, জানতে আর কয়েকটা ঘণ্টা অপেক্ষা করতেই হচ্ছে। দশরথ স্টেডিয়ামে ফাইনাল শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল সোয়া ৫টায়।

 



সাতদিনের সেরা