kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী

চা শ্রমিকদের উন্নত জীবন নিশ্চিতে সরকার সচেষ্ট

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চা শ্রমিকদের উন্নত জীবন নিশ্চিতে সরকার সচেষ্ট

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার চা শ্রমিকদের উন্নত জীবন নিশ্চিত করার জন্য সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে। তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁদের নাগরিকত্ব প্রদান করায় তিনি তাঁদের প্রতি বিশেষ দায়িত্ব অনুভব করেন।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল শনিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চা শ্রমিকদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন। খবর বাসসের।

বিজ্ঞাপন

চা শ্রমিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা যেমন নাগরিকত্ব দিয়েছিলেন, তেমনি আপনাদের প্রতি আমার আলাদা দায়িত্ব রয়েছে। আমি সব সময় সেই অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছি। ’

ভিডিও কনফারেন্সে সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও চট্টগ্রাম থেকে যোগ দেওয়া চা শ্রমিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই চা-শিল্পকে বিকশিত করার পাশাপাশি চা শ্রমিকরা যাতে উন্নত জীবন যাপন করতে পারেন, সে বিষয়ে সর্বদা সচেষ্ট।

তিনি বলেন, ‘আমরা চা শ্রমিকদের সব সমস্যা সমাধান এবং চা-শিল্পকে (দেশের অন্যান্য অঞ্চলে) ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সর্বদা সচেষ্ট রয়েছি। ’ তিনি বলেন, তাঁরা পঞ্চগড়ে নতুন করে চা চাষ শুরু করেছেন।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন তৎকালীন চা বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন, তখন এই শিল্পের বিকাশ এবং চা শ্রমিকদের উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৫৭ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যখন মন্ত্রিত্ব্ব ছেড়ে দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন, তখন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী তাঁকে চা বোর্ডের চেয়ারম্যান করেন। জাতির পিতাই চা বোর্ডের প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৫৮ সালে তিনি গ্রেপ্তার হলে ২৩ অক্টোবর স্বৈরশাসক আইয়ুব খান সেই দায়িত্ব কেড়ে নেন। কিন্তু তিনি সেই সময়েই চা-বাগান ও শ্রমিকদের অবস্থা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে চা-শিল্প যেন নব-উদ্যমে যাত্রা শুরু করতে পারে, সে পদক্ষেপও তিনি নেন।

জাতির পিতা মতিঝিলে চা বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ের নির্মাণকাজ শেষ করেন এবং টি অ্যাক্টের ৭ নম্বর ধারার সংশোধনীতে টি লাইসেন্সিং কমিটি বিলুপ্ত করে কমিটির কার্যক্রমকে টি বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে চা গবেষণাগারও তিনি নির্মাণ করেন এবং বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানা সুযোগ-সুবিধারও ব্যবস্থা করেন।

চা শ্রমিকদের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চা শ্রমিকরা যাতে সঠিকভাবে জীবন যাপন করতে পারেন, সে জন্য তাঁর সরকার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের দৈনিক মজুরি এবং অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধি করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি যে আমরা তাদের (চা শ্রমিকদের) দাবিগুলো উপলব্ধি করতে পারি। ’

গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী চা-বাগান মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ থেকে বাড়িয়ে ১৭০ টাকা নির্ধারণ করেন। মজুরির সঙ্গে অন্য সুযোগ-সুবিধা আনুপাতিক হারে বাড়ানো হবে বলেও জানানো হয়।

সিলেট অফিস জানায়, চা-বাগানের ১৬৮ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার কোনো সরকারপ্রধান চা শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বললেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজেদের দুঃখ-কষ্টের কথা সরাসরি তুলে ধরতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হন চা শ্রমিকরা। প্রধানমন্ত্রী ধৈর্যের সঙ্গে তাঁদের কথা শোনেন এবং আশ্বস্ত করেন, চিকিৎসা, অ্যামু্বল্যান্স, বাসস্থান এবং সন্তানদের উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা তিনি করে দেবেন।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের পাত্রখোলা চা-বাগান দলই ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানস্থল থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন চা শ্রমিক রিতা পানিতা ও সোনমানি রাজ হংসিমান।

রিতা পানিতা বলেন, ‘আপনি আমাদের প্রধানমন্ত্রী হয়ে আছেন। আপনি চিরদিনই আমাদের কাছে এ রকম হয়েই থাকবেন। আপনার বাবার মতো আপনিও আমাদের কাছ থেকে কোনো দিন সরে যাবেন না। আমাদের সুখ-দুঃখ, আমাদের চা শ্রমিকরা কত অবহেলিত, এটা আপনি দেখেছেন। এ জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। ’ 

চা শ্রমিক সোনমানি রাজ হংসিমান বলেন, ‘আগে আমরা পাইতাম ১২০ টাকা। আপনি সেটা করেছেন ১৭০ টাকা। আপনাকে দেখে আমার বুকটা ফাটে। বাবা যদি থাকত তাহলে আমরা আরো কত-কী পেতাম! তিনি আমাদের ভোটের অধিকার দিয়ে গিয়েছিলেন। এখন আপনি আমাদের একমাত্র ভরসা। ’

উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবাইকে আমি ঘর করে দেব। ছেলেমেয়েদের নিয়ে আপনারা যাতে ভালোভাবে থাকতে পারেন, সে ব্যবস্থা করে দেব। ’

সিলেটের লাক্কাতুরা গলফ ক্লাব মাঠে আয়োজিত ভিডিও কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য এ কে আব্দুল মোমেন, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবুর রহমান, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ পিপিএম, সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ, সিলেটের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ প্রশাসন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।



সাতদিনের সেরা