kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

রাশিয়ার প্রস্তাব সাশ্রয়ী, তবে শর্তও আছে, যাচাই চলছে

সজীব আহমেদ   

১৮ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাশিয়ার প্রস্তাব সাশ্রয়ী, তবে শর্তও আছে, যাচাই চলছে

বাংলাদেশের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে পরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রির প্রস্তাবে রাশিয়া কিছু শর্ত দিয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এখন শর্তগুলো পর্যালোচনা করছে। এর জন্য একটি কমিটিও করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাশিয়া ছাড়া আরো কয়েকটি দেশ পরিশোধিত তেল বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশের কাছে।

বিজ্ঞাপন

সেগুলো নিয়েও কাজ চলছে। রাশিয়া কিছু শর্ত দেওয়ায় বিপিসি এখন প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করছে।

বিপিসি সূত্রে জানা যায়, তারা গত ৮ আগস্ট ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেছে। বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও পরিচালন) মোস্তফা কুদরত এলাহীর নেতৃত্বে এখন রাশিয়ার প্রস্তাবে থাকা শর্তগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

গত মে মাসে রাশিয়া অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশকে। কিন্তু রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা ইস্টার্ন রিফাইনারির নেই। ফলে ওই প্রস্তাব নিয়ে এগোতে পারেনি বাংলাদেশ। এবার পরিশোধিত তেল বিক্রির প্রস্তাব আসে রাশিয়ার কাছ থেকে। দিতে চায় সাশ্রয়ী মূল্যে। তবে গত ১৬ আগস্ট একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী রাশিয়ার কাছ থেকে সরাসরি তেল কেনার পথ খোঁজার নির্দেশনা দিলে তোড়জোড় শুরু হয়।   

জানতে চাইলে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. লোকমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাশিয়ার

রোসনেফ্ট অয়েল কম্পানি সম্প্রতি বিপিসিতে পরিশোধিত তেল ক্রয়ের জন্য একটি প্রস্তাব দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিপিসি একটি বৈঠক করে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, রাশিয়ার ওই কম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে জ্বালানি তেল ক্রয় সংশ্লিষ্ট বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। ’

ইউক্রন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পশ্চিমারা। ফলে রাশিয়া থেকে পণ্য ক্রয় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে দেশটির ব্যাংকিং লেনদেনও বন্ধ রয়েছে। ফলে তাদের কাছ থেকে জ্বালানি তেল কেনা হলে কিভাবে মূল্য পরিশোধ করা হবে, সে প্রশ্ন আছে। রাশিয়া বিশ্বের সঙ্গে এখন নিজস্ব মুদ্রা রুবলে লেনদেন করছে।

এ বিষয় জানতে চাইলে ইআরএলের এমডি বলেন, ‘এটি আন্তর্জাতিক একটি প্রক্রিয়া। এটি নিয়ে আলোচনা হবে। মূল্য পরিশোধ, কার্গো, কার্গোভাড়া—এমন অনেক ইস্যু এর সঙ্গে যুক্ত। তাই বলা যায়, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ’

রাশিয়া বাংলাদেশকে কতটুকু সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি তেল দেবে, জানতে চাইলে ইআরএলের এমডি বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন দেশ থেকে যে দামে জ্বালানি তেল আমদানি করি তার চেয়ে কম মূল্যে রাশিয়া জ্বালানি তেল দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে তারা কতটুকু সাশ্রয়ী মূল্যে দেবে, সেটা এখনো আমাদের জানায়নি। আলোচনার কোনো একটা পর্যায়ে গিয়ে তারা এটি প্রকাশ করবে। ’

বিপিসি সূত্র বলছে, চীন ও ভারত এখন ৩৫ শতাংশ কম দামে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কিনছে। যুদ্ধের এই সময়ে রাশিয়া চীনের কাছে ৩৪.৪৩ বিলিয়ন ডলার এবং ভারতের কাছে ৬.৩০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের জ্বালানি তেল, গ্যাস ও কয়লা বিক্রি করেছে।

বাংলাদেশ এখন আটটি দেশ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করে। দেশগুলো হলো কুয়েত, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও ভারত।

জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কিভাবে তেল কেনা যায়, তা পর্যালোচনা করছে বিপিসির একটি কমিটি। তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের জানাবে। এখন পর্যন্ত কমিটির পক্ষ থেকে আমাকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। ’

 



সাতদিনের সেরা