kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০২২ । ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বিআরটি প্রকল্প

ছয় মৃত্যুর পরও নিরাপত্তা ছাড়া কাজ চলছে

শরীফ আহমেদ শামীম, গাজীপুর   

১৮ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছয় মৃত্যুর পরও নিরাপত্তা ছাড়া কাজ চলছে

অবহেলা : উত্তরায় গার্ডার পড়ে পাঁচজনের মৃত্যুর পরও টঙ্গীতে বিআরটি প্রকল্পের কাজ চলছে নিরাপত্তাবেষ্টনী ছাড়াই। ক্রেন দিয়ে ভারী মালপত্র তোলা হচ্ছে, আর ঝুঁকি নিয়ে নিচ দিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। গতকাল টঙ্গী স্টেশন রোডের মিলগেটে। ছবি : লুৎফর রহমান

বিশাল ক্রেন দিয়ে নির্মীয়মাণ পিলারে ওঠানো হচ্ছে টনকে টন রড, লোহার প্লেট, স্টিলের ফর্মা। নিচ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ছোট-বড় নানা ধরনের যানবাহন ও পথচারী। অথচ নেই ন্যূনতম নিরাপত্তাব্যবস্থা।

গতকাল বুধবার দুপুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে গাজীপুরের টঙ্গীতে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের টঙ্গী বাজার উড়ালসেতু অংশে।

বিজ্ঞাপন

মাত্র দুই দিন আগে গত সোমবার ঢাকার উত্তরায় বিআরটি প্রকল্পের কাজ চলাকালে ক্রেন থেকে ফ্লাইওভারের একটি গার্ডার পড়ে প্রাইভেট কারের পাঁচ আরোহী নিহত হন। এর আগে ১৫ জুলাই গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় ক্রেন থেকে ‘লঞ্চিং গার্ডার’ পড়ে নিহত হন একজন। কোনো রকম নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া কাজ করার সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার পর সমালোচনার ঝড় উঠেছে প্রকল্পের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে। দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও বিআরটি প্রকল্পের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু এই ছয় মৃত্যুর পরও টনক নড়েনি তাঁদের। মানুষকে জীবনের ঝুঁকিতে রেখে টঙ্গীতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।

এ ব্যাপারে গাজীপুর পরিবহনের যাত্রী একটি বায়িং হাউসের কর্মকর্তা মো. হেলাল শরীফ বলেন, ‘দিন-রাত ওপরে কাজ চলে। প্রায়ই ক্রেন দিয়ে নির্মাণ সরঞ্জাম, গার্ডার ওপরে ওঠানো হয়। জীবন হাতে নিয়া টঙ্গীর ওই অংশ পার হই। উত্তরার দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় ভেবেছিলাম কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে। নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করে কাজ চলবে। কিন্তু বাস্তবতা দেখে মনে হচ্ছে, দুর্ঘটনার বিষয়টি আমলেই নেয়নি তারা। ’

বলাকা পরিবহনের চালক আবদুল রাজ্জাক বলেন, ‘উত্তরার ঘটনার পর ধরে নিয়েছিলাম নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া কাজ চলবে না। হয়েছে উল্টোটি। তারা আগের মতো কাজ করেই যাচ্ছে। ’ 

স্থানীয় কাউন্সিলর মো. গিয়াস উদ্দিন সরকার বলেন, নিরাপত্তার বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে বহুবার সতর্ক করা হয়েছে। তারা আমলেই নিচ্ছে না। তারা মহাসড়ককে মৃত্যুফাঁদে পরিণত করেছে। ’

টঙ্গী বাজারের ব্যবসায়ী এনামুল হাসান বলেন,  ‘টঙ্গীতে ন্যূনতম নিরাপত্তা ছাড়া কাজ চলছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। ভয়ে অনেক ব্যবসায়ী আর ক্রেতা এক কিলোমিটার পথ ঘুরে বাজারে আসেন। ’

গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি প্রকৌশলী  মো. শামসুল হক বলেন, ‘গাজীপুরের সবচেয়ে ব্যস্ত এলাকা চান্দনা চৌরাস্তা। ওপরে একাধিক ফ্লাইওভারের কাজ চলছে। নিচ দিয়ে চলছে হাজারো যানবাহন ও পথচারী। অথচ নেই নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা ও পদক্ষেপ। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে জেনেও কর্তৃপক্ষ নিশ্চুপ। আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টি বহুবার বিআরটি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ’

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ কালের কণ্ঠকে জানান, কাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিআরটি কর্মকর্তাদের তিনি একাধিকবার নির্দেশনা দিয়েছেন। সোমবার উত্তরার দুর্ঘটনার পরও মোবাইলে একই কথা জানিয়েছেন। গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিআরটি প্রকল্পের টঙ্গী অংশের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মাহিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, গতকাল সকালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেপিটিই প্রাইভেট লিমিটেড ও কনসালট্যান্ট প্রতিষ্ঠানকে পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে। তা ছাড়া ভারী কাজ করার আগে অনুমতি নিতে বলা হয়েছে। গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে মামলা ও গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে গাজীপুর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, চান্দনা চৌরাস্তায় একজনের মৃত্যুর পর পুলিশ কমিশনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও বিআরটি প্রকল্পের কর্মকর্তাদের ডেকে নিরাপত্তা ছাড়া কাজ করার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গতকাল নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া কাজ করে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 



সাতদিনের সেরা