kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

শোক দিবসের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী

একটি মানুষ কি ছিল না প্রতিবাদ করার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



একটি মানুষ কি ছিল না প্রতিবাদ করার

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনাসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : পিআইডি

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যার দিনে দলের নেতাদের নিষ্ক্রিয় থাকার সমালোচনা করলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনায় তিনি বলেন,

‘ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে লাশগুলো তো পড়ে ছিল। কত স্লোগান! বঙ্গবন্ধু তুমি আছ যেখানে, আমরা আছি সেখানে।   কিন্তু কোথায় ছিল সেই মানুষগুলো? একটি মানুষ কি ছিল না সাহস করে এগিয়ে আসার? একটি মানুষ কি ছিল না প্রতিবাদ করার?’

দলের নেতাদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা এরপর বলেন, ‘কেন করতে পারেনি? এত বড় সংগঠন, এত সমর্থক, এত লোক, কেউ কি একটা কথা বলার সাহস পায়নি?’

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনাসভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনা বলেন, ১৫ই আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট ওই লাশটি পড়ে ছিল। ১৬ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গেল টুঙ্গিপাড়ায়। কারণ দুর্গম পথ, যেতে ২২-২৪ ঘণ্টা লাগে, সেখানে কেউ যেতে পারবে না। তাই মা-বাবার কবরের পাশে বঙ্গবন্ধুকে মাটি দিয়ে আসে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমার একটা প্রশ্ন, আমাদের নেতারা এখানে আছেন। জাতির পিতা তো অনেককে ফোনও করেছিলেন, কী করেছিলেন তাঁরা? বেঁচে থাকতে সবাই থাকে, মরে গেলে যে কেউ থাকে না, তার জীবন্ত প্রমাণ। এ জন্য আমি কিছু আশা করি না। ’

শেখ হাসিনা বলেন, সব সহ্য করে নীলকণ্ঠ হয়ে শুধু অপেক্ষা করেছি, কবে ক্ষমতায় যেতে পারব, আর এই দেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারব। তাহলেই এই হত্যার প্রকৃত প্রতিশোধ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশের মানবাধিকার ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহলের নানা সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে যারা মানবাধিকার নিয়ে কথা বলেন, তাঁদের উদ্দেশে বলতে চাই, আমাদের মানবাধিকার কোথায় ছিল। আমরা বাবা-মা হারিয়েছি, কিন্তু বিচার চাইতে পারব না। মামলা করতে পারব না। কেন? আমরা কি দেশের নাগরিক না?...আমাদের মানবাধিকার যে লঙ্ঘন করা হয়েছিল, ১৯৯৬ সালে যদি ক্ষমতায় আসতে না পারতাম, ইনডেমনিটি আইন বাতিল করতে না পারতাম, বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার কোনো দিনই হতো না। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই হত্যার বিচার চাইতে গিয়েও বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। হত্যার বিচার চাইলে নাকি ক্ষমতায় যেতে পারব না—এসব আমাকে শুনতে হয়েছে। কিন্তু আমি বাধা মানি নাই। আমি সোচ্চার হয়েছি। দেশে-বিদেশে জনমত তৈরির চেষ্টা করেছি। ’

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয় দেওয়ার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে যেসব দেশ মানবাধিকারের প্রশ্ন তোলে, আমাদের নিষেধাজ্ঞা দেয়, তারা তো খুনিদের আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। খুনি রাশেদ ছিল মিন্টো রোডের অপারেশনের কমান্ডিং অফিসার। সেই খুনি রাশেদ, শাহরিয়ার ও মাজেদ—এদের নেতৃত্বে হত্যাকাণ্ড হয়। মাজেদকে আমরা আনতে পেরেছি। আমেরিকার সঙ্গে আমরা বারবার কথা বলছি, কিন্তু রাশেদকে তারা দিচ্ছে না। তাকে তারা লালন-পালন করে রেখে দিচ্ছে। আর নূর কানাডায়। এদের কাছ থেকে এখন আমাদের মানবতার ছবক নিতে হয়। যারা আমার মা-বাবা, নারী, শিশুদের হত্যা করেছে, তাদের রক্ষা করে এরা। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘রশীদ লিবিয়ায় পড়ে থাকে, মাঝেমধ্যে পাকিস্তানে যায়। ডালিম পাকিস্তানের লাহোরে থাকে, কিন্তু খুব বেশি খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। মোসলেম উদ্দিন ভারতের আসামের কোনো এক এলাকায় ছিল, তার খোঁজ পাওয়া যায়নি, নামধাম পাল্টে রয়ে গেছে। এ কয়জনকে আমরা আনতে পারিনি এখনো। ’

সাম্প্রতিক জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের মানুষের কষ্ট হচ্ছে। কষ্টটা আমি বুঝি। সে কারণে দেশের ৫০ লাখ পরিবারকে মাত্র ১৫ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ করব। আর এক কোটি পারিবারিক কার্ড দেব। এই কার্ডের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে চাল, ডাল, তেল এবং চিনি তারা কিনতে পারবে। যার যেটা প্রয়োজন সেটা নিতে পারবে। ’

সভাটি সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ। বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহ্মুদ প্রমুখ।

 



সাতদিনের সেরা