kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকলে দাওয়াত মিলবে না

তৈমুর ফারুক তুষার   

১৭ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকলে দাওয়াত মিলবে না

এক-দেড় মাসের মধ্যেই গণভবনে ডাক পাবেন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতারা। আগামী জাতীয় নির্বাচন এবং দলের জাতীয় সম্মেলনের বিষয়ে সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তাঁদের মতামত নেবেন, পরামর্শ দেবেন। তিনি পর্যায়ক্রমে দেশের আট বিভাগের সব জেলা, উপজেলা, থানা, ওয়ার্ড, ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে বসবেন। তবে যেসব জেলা, উপজেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই সেগুলোর নেতারা আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নিতে পারবেন না।

বিজ্ঞাপন

গতকাল দলের এক বৈঠকে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন। সকালে আট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকদের নিয়ে গণভবনে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। বৈঠকে সাংগঠনিক সম্পাদকরা জানান, অনেক জেলা, উপজেলার সম্মেলন সম্পন্ন হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। এ তথ্য জানার পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে জোরালো তাগিদ দেন শেখ হাসিনা। যেসব জেলা, উপজেলা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারবে না তাদের গণভবনে সভায় না ডাকার নির্দেশনা দেন শেখ হাসিনা।

বৈঠকে যোগ দেওয়া নেতাদের মধ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া। জানতে চাইলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি চান দ্রুত জেলা, উপজেলায় দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হোক। যেসব জেলা, উপজেলায় সম্মেলন হয়েছে কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি তাদের অবশ্যই গণভবনের সভার আগে তা করতে হবে। না পারলে তাদের সভায় ডাকা হবে না।

ঢাকা বিভাগে ১৭ সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। আওয়ামী লীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদকালে রাজবাড়ী, গাজীপুর ও টাঙ্গাইল—এই তিন জেলার সম্মেলন হয়েছে। তবে একটি জেলারও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই তিন জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা দেওয়ার সময় বেঁধে দিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা।

ঢাকা বিভাগে উপজেলা রয়েছে ৮৯টি। এর মধ্যে ৪৩টির সম্মেলন হয়েছে, ৪৬টি বাকি আছে। বিভাগটিতে সাংগঠনিক উপজেলার মর্যাদাসম্পন্ন থানা আছে ৮২টি। এর মধ্যে ৪৬টির সম্মেলন হয়েছে, বাকি আছে ৩৬টির। সম্মেলন হয়ে যাওয়া উপজেলা ও থানার মধ্যে বেশির ভাগেরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি।

ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নেত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যেসব ইউনিট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে না পারবে তাদের গণভবনে দাওয়াত দেওয়া হবে না। ফলে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ শেষ করতে হবে। ’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একাধিক সূত্র জানায়, রবিবার গণভবনের সভায় দলের সাংগঠনিক সম্পাদকরা তাঁদের বিভাগের অধীন শাখাগুলোর সাংগঠনিক অবস্থার বিষয়ে একটি লিখিত প্রতিবেদন সভাপতির কাছে জমা দেন। সাংগঠনিক সম্পাদকরা তাঁদের বক্তব্যে নানা সমস্যার কথা দলের সভাপতির কাছে তুলে ধরেন।

একাধিক সূত্র জানায়, রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক দিনাজপুর ও গাইবান্ধা জেলার নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এ দুটি জেলা কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। দিনাজপুরে প্রভাবশালী এক নেতার বাধার কারণে দল গোছানোর কাজ করতে পারছেন না বলে জানান শফিক। গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ সামস-উল-আলম বিদেশে অবস্থান করায় জেলা সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা যাচ্ছে না বলে জানান শফিক। তখন আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘সে দেশে ফিরতে দেরি হলে ফোনে যোগাযোগ করো। দরকার হলে সহসভাপতিকে আহ্বায়ক করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করে দাও। ’

গণভবনসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সেপ্টেম্বরে মতবিনিময় না-ও হতে পারে। কারণ এ মাসে শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন এবং ভারত সফর করবেন। ফলে অক্টোবরে তৃণমূলের নেতাদের গণভবনে ডাকার সম্ভাবনাই বেশি।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক কালের কণ্ঠকে বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন ও দলের জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে বসবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। সেখানে তৃণমূলের নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

 



সাতদিনের সেরা