kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ষড়যন্ত্রীদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান

শোক-শ্রদ্ধায় জাতির পিতাকে স্মরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে




ষড়যন্ত্রীদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে মোনাজাত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : পিআইডি

শোক ও শ্রদ্ধায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করেছে জাতি। গতকাল সোমবার জাতীয় শোক দিবসে ধানমণ্ডিতে ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের এ বাড়িতেই হত্যা করে ঘাতকচক্র। টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনেও বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমন ঘটে।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় শোক দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে পঁচাত্তরের ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। সেই খুনিচক্র এখনো বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মন্ত্রী।

সকালে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রথমে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল জাতির পিতার প্রতি রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে ও বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন শেখ হাসিনা। শ্রদ্ধা জানানোর পর ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ডে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি বঙ্গবন্ধু ভবনের ভেতরে গিয়ে কিছু সময় অবস্থান করেন।

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু ভবন ছেড়ে গেলে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এলাকাটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনাররা শ্রদ্ধা জানান।

নানা বয়সী মানুষের আগমন : বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে শিশু-বৃদ্ধসহ নানা বয়সী মানুষের ঢল নামে।

খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে শ্রদ্ধা জানাতে আসে গণভবন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী কায়সান মোহাম্মদ। কালের কণ্ঠকে সে বলে, ‘বঙ্গবন্ধুকে আমার খুব ভালো লাগে। আগে কখনো এখানে আসা হয়নি। এবার বাবা বললেন, বঙ্গবন্ধুর বাড়ি যাব কি না। শুনে সকাল সকাল উঠেই চলে আসছি। ’

কায়সানের বাবা মো. নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার ছেলে সব সময় বলে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর দেখব। তাঁর বাড়ি দেখব। তাই আজকে নিয়ে এলাম। ’

কায়সানের মতো বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে আসে মণিপুর স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী আহনাব ফাহিম। কালের কণ্ঠকে ফাহিম বলে, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ছবিতে ফুল দিতে এসেছি। খুব ভালো লাগছে। বঙ্গবন্ধুকে দেখলে তাঁর মতো হতে ইচ্ছা করে। ’

আহনাবের বাবা মো. আজিজুর রহমান জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষে কর্মরত আছেন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে সব সময় প্রশ্ন করে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে মারল কেন? বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনলেই সে দৌড়ে যায়। আজকে সকাল ৬টায় উঠে আমাকে তুলছে। বলে—বাবা, চলো বঙ্গবন্ধুর বাড়ি যাব। পরে নিয়ে এলাম। ’

সকাল ৭টায় নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা থেকে আসেন ৬৭ বছর বয়সী মো. রফিকুল ইসলাম। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘আমি ১৯৭৮ সালে প্রথম ঢাকায় আসি। গুলিস্তান থেকে রিকশা নিয়ে এদিক দিয়ে যাচ্ছিলাম। রিকশাচালক বলেন, এটা বঙ্গবন্ধুর বাড়ি। আমি দেখে অবাক হই, এত সিম্পল বাড়ি ছিল তাঁর। তখন থেকে তাঁর প্রতি আমার ভালোবাসা দ্বিগুণ হয়। এর পর থেকে আমি প্রতিবছর এখানে আসি। ’

৭০ ছুঁই ছুঁই তোতা মিয়ার বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে। তিনি এ নিয়ে দুইবার ঢাকায় এসেছেন। প্রথমবার না পারলেও এবার বঙ্গবন্ধুর বাড়ি আসতে পেরে খুশি তোতা মিয়া। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর বাড়ি দেখার অনেক ইচ্ছা ছিল। এর আগে একবার ঢাকায় এসেছি, কিন্তু এখানে আসতে পারিনি। এবার আসতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। ’

বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন : শেখ হাসিনা ধানমণ্ডি থেকে সরাসরি বনানী কবরস্থানে গিয়ে ১৫ই আগস্টের নিহত ব্যক্তিদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে সুরা ফাতিহা পাঠ ও শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে।

প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ১৫ই আগস্টের শহীদদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উত্তরাধিকার হিসেবে তাঁর স্বপ্ন পূরণ করার সংগ্রাম করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বাধীনতা এবং মুক্তির সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ যুগ যুগ ধরে এ দেশের মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।

ষড়যন্ত্রকারীরা বর্ণচোরা, চিনে রাখতে হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘প্রতিবছর ১৫ই আগস্ট এলে প্রথমেই জাতির ষড়যন্ত্রকারীদের কথা মনে পড়ে। এই ষড়যন্ত্রকারীরা জাতির পিতার সঙ্গে মিশে থেকে ১৯৭৫ সালের এই দিনে তাঁকে সপরিবারে হত্যা করেছে। সেই ষড়যন্ত্রকারীরা ও তাদের বংশধররা এখনো প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে ষড়যন্ত্র চালিয়েই যাচ্ছে। ষড়যন্ত্রকারীরা বর্ণচোরা, তারা আমাদের সঙ্গেই মিশে থাকে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার জন্য হলেও তাদের আমাদের চিনে রাখতে হবে। ’

জাহিদ মালেক গতকাল জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট হাসপাতাল মিলনায়তনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আয়োজনে শোক দিবসের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

বিশ্বাসঘাতকদের বিচার করতে হবে : ইন্দিরা

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেছেন, জাতির পিতা ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের হত্যাকারী, ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড ১৫ই আগস্টের ষড়যন্ত্রকারী, নেপথ্য কারিগর ও হত্যাকারীদের রক্ষাকারী ঘৃণিত বিশ্বাসঘাতকদেরও বিচার করতে হবে।

তিনি গতকাল ঢাকায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত শোক দিবসের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, চট্টগ্রামে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ম্যুরালে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ, শোকযাত্রা, বঙ্গবন্ধু ও ১৫ই আগস্টের সব শহীদের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত, কালো ব্যাজ ধারণ, কাঙালি ভোজ, বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনাসভা, মসজিদে কোরআন খতম, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবাসহ নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়।

 

 



সাতদিনের সেরা