kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘এ মৃত্যু কিভাবে মেনে নিই, দায় নেবে কে?’

রেজোয়ান বিশ্বাস   

১৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘এ মৃত্যু কিভাবে মেনে নিই, দায় নেবে কে?’

‘সকালেও বিয়ের অনুষ্ঠানে কত আনন্দ করলাম! সবাই একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেছি। এই আনন্দ নিমেষেই কেন বিষাদে পরিণত হলো? এই মৃত্যু কিভাবে মেনে নিই, কেন এমন হলো, এর দায় নেবে কে?’

কাঁদতে কাঁদতে এভাবেই বলছিলেন মো. জাকির হোসেন। ঢাকার উত্তরায় বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের গার্ডারচাপা পড়ে গাড়িতে হতাহত সাত যাত্রীই তাঁর স্বজন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘গার্ডারচাপা দেওয়ার পর গাড়িটি থেকে তাঁর স্বজনদের দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা করেনি কেউ।

বিজ্ঞাপন

বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শুধু তাকিয়ে দেখেছি। চোখের সামনে এই তরতাজা মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। অথচ পুলিশ, র‌্যাবসহ যারা গার্ডারের কাজ করছিল, তারাও কিছু করল না। ’

গতকাল যখন জাকিরের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়, তখন ঘটনাস্থলে তিনিসহ নিহতের পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিল। তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে উত্তরার জসীমউদ্দীন রোড এলাকা। গাড়িচাপার ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে আসে এই স্বজনরা।

এ সময় সবুজ নামের এক স্বজন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নববধূকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন হৃদয়, পথে হারালেন মা, বাবা ও খালাকে। ’ তিনি বলেন, বউভাত শেষে রিয়াকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিল হৃদয় ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। বর হৃদয়ের বাবা রুবেল মিয়া (৬০) গাড়ি চালাচ্ছিলেন। গার্ডার তাঁদের গাড়ির ওপর পড়ে। এতে পাঁচজন নিহত হলেও বেঁচে গেছেন হৃদয় (২৮) ও তাঁর স্ত্রী রিয়া মণি (২১)। গত শনিবার বিয়ে হয় তাঁদের।

সবুজ আরো বলেন, চাপা পড়া সেই গাড়ি থেকে হৃদয় এবং তাঁর স্ত্রী রিয়াকে উদ্ধার করে উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হৃদয়ের বিয়ে গত শনিবারই হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর খালাতো ভাই রাকিব হোসেন বলেন, বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে মা-বাবাসহ স্বজনদের নিয়ে আশুলিয়া খেজুরবাগানে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন হৃদয়। স্বজনরা দাবি করে, কাজ চলাকালীন গার্ডারটি যখন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরানোর কাজ চলছিল তখন এই দুর্ঘটনা ঘটে। তারা এ ঘটনাকে অবহেলাজনিত মৃত্যু বলে অভিযোগ করে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, গার্ডারের ওজন ক্রেনের ওজনের চেয়ে বেশি হওয়ার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এটি সরাতে হলে গার্ডারের চেয়ে বেশি ওজনের ক্রেন লাগবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গার্ডার পড়ার পর বেশ কিছুক্ষণ পর্যন্ত প্রাইভেট কারের ভেতরে একটি শিশু বেঁচে ছিল। তবে গার্ডার সরানোর কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তাকে উদ্ধার করা যায়নি। পরে ওই শিশু মারা যায়।

দুর্ঘটনাস্থলের পাশের একটি ভবনে রডমিস্ত্রির সহযোগী ইমরান হোসেন ইমন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি দুপুরের খাবার খেয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দে প্রাইভেট কারের ওপর পড়ে গার্ডারটি। এরপর আমরা পাঁচ-ছয়জন রড-শাবল নিয়ে এসে গার্ডার সরানোর চেষ্টা করি। এ সময় এক যুবক গাড়ির ভেতর থেকে বের হন। তাঁর মাথা ফেটে গেছে। এরপর গাড়ির দরজা ভেঙে এক নারীকে উদ্ধার করি। তিনি বের হয়ে কান্নাকাটি করছিলেন। আমরা ভেতরে একটি শিশুকে দেখতে পেয়েছিলাম, শিশুটি বেঁচে ছিল। সে হাত-পা নাড়াচ্ছিল। কিন্তু গার্ডার সরাতে পারিনি বলে তাকে বাঁচাতে পারিনি। ’

 

 

 

 

 



সাতদিনের সেরা