kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

ইউরোপের বড় নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে

♦ যুক্তরাজ্যে এ বছরের প্রথমার্ধ ছিল ১৯৭৬ সালের পর উষ্ণতম
♦ জার্মানিতে রাইন নদীর পানি কমায় বন্ধ হচ্ছে নৌচলাচল
♦ ইতালির উত্তরাঞ্চলে ৭০ বছরের ভয়াবহতম খরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইউরোপের বড় নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে

ইতালি : পো নদীর শুকনা খটখটে একটি অংশ। ছবি : এএফপি

ইউরোপের বিশাল অংশজুড়ে এখন চলছে চরম খরা। ইউরোপীয় কমিশনের যৌথ গবেষণা কেন্দ্র (ইসি-জেআরসি) সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ইউরোপের এবারের খরা গত ৫০০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক হতে পারে। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ৬০ শতাংশ এলাকাই খরা মোকাবেলা করছে।

ইইউয়ের বাইরে যুক্তরাজ্যসহ মহাদেশের অর্ধেক অংশ খরার প্রভাবে ভুগছে।

বিজ্ঞাপন

এর ফলে গত কিছুদিন ধরে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। নদীর পানির স্তর কমে যাওয়ায় নৌচলাচল ব্যাহত হচ্ছে। গরমে মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত হওয়া ছাড়াও জীববৈচিত্র্য পড়েছে ঝুঁকিতে।

ইংল্যান্ডের আট অংশে খরা ঘোষণা

যুক্তরাজ্যের পরিবেশ সংস্থা (ইএ) চলতি সপ্তাহের শুরুতে ঘোষণা করে, গোটা যুক্তরাজ্য খরাপূর্ব পরিস্থিতিতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে শুক্রবার ইংল্যান্ড অঞ্চলের ১৪টি অংশের মধ্যে আটটিতেই আনুষ্ঠানিকভাবে খরা ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ আরো দুটিতে খরা ঘোষণা করা হতে পারে। ইএ সতর্ক করেছে যে এ বছরের শেষ পর্যন্ত খরা পরিস্থিতি চলতে পারে। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর বলেছে, ১৯৭৬ সালের পর এ বছরের প্রথম ছয় মাস ছিল উষ্ণতম। গত জুলাই ছিল ১৯৩৫ সালের পর উষ্ণতম মাস। এ বছর বৃষ্টিপাতও রেকর্ড মাত্রায় হ্রাস পেয়েছে।

খরার কারণে কৃষি উৎপাদনে প্রভাব পড়েছে। ইংল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে বেশির ভাগ খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়। কিন্তু গত জুন থেকে সেখানে প্রয়োজনীয় পরিমাণে বৃষ্টি হয়নি, যা কৃষিকাজের জন্য জরুরি।

অকালে শুকিয়েছে জার্মানির রাইন নদী

জার্মানির রাইন নদীর পানির স্তর নিচের দিকে নামে প্রতিবছর অক্টোবরের শেষ দিকে। কিন্তু এবার তার অনেক আগেই আশঙ্কাজনক হারে পানি কমতে শুরু করে। প্রয়োজনীয় গভীরতার অভাবে পণ্যবাহী নৌযান ও ফেরি চলাচল বন্ধ হতে বসেছে। খরার কারণে নদীর পানির তাপমাত্রাও অত্যধিক বেশি।

জার্মানির নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্রাংকফুর্ট শহরের কাছাকাছি রাইন নদীর তীবরর্তী কাউব শহরে শুক্রবার পানির স্তর ৪০ সেন্টিমিটারের নিচে এসেছে, যা এ বছর সর্বনিম্ন। আগামী তিন-চার দিনে পানি আরো ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার হ্রাস পেতে পারে।

ক্যাপ্টেন আন্ড্রে কিমপেল রাইন নদীর এক ফেরিচালক। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে দেড় মিটারের মতো পানি রয়েছে। ফেরি পানির ১.২০ মিটার পর্যন্ত গভীরে ডুবে থাকে। অর্থাৎ ফেরির নিচে মাত্র ৩০ সেন্টিমিটার পানি রয়েছে। ’

বার্জ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় কয়লা, পেট্রলসহ পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। জার্মানির অর্থনীতির ওপর এটি বিপর্যয়কর প্রভাব ফেলতে পারে। এইচজিকে নামের একটি ফেরি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মী মার্টিনা বেকার বলেন, এ নদীতে ২০১৮ সালে সবচেয়ে কম পানির যে রেকর্ড ছিল (অক্টোবর), এ বছর এখনই তার কাছাকাছি রয়েছে।

খরার কারণে পানির তাপমাত্রা বাড়ায় নদীতে জীববৈচিত্র্য টিকে থাকা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাইন নদীর পোল্যান্ড ও জার্মানির ওপর দিয়ে প্রবাহিত অংশে পানির তাপমাত্রা অতিরিক্ত বাড়ায় জুলাই মাসের শেষ দিকে কয়েক টন মাছের মৃত্যু হয়েছে। জার্মানির পরিবেশমন্ত্রী স্টেফি লেমকি শুক্রবার পরিস্থিতিকে বিপর্যয়কর আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘একটি পরিবেশগত বিপর্যয় সন্নিকটে। ’

খরায় বিপর্যস্ত ইতালির কৃষি ও পর্যটন

ইতালির দীর্ঘতম নদী পো দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তুরিন শহর থেকে ভেনিসের দিকে প্রবাহিত হয়েছে। কৃষি ও শিল্প খাতের জন্য প্রসিদ্ধ ভেনেতা, লোম্বার্ডি ও এমিলিয়া রোমানা শহরের মধ্যবর্তী ফিকারোলা জায়গাটি পর্যটনশিল্পের জন্যও বিখ্যাত। সাধারণত গ্রীষ্মের তাপদাহে শরীর ভেজানোর পাশাপাশি এখানকার নৌকা ও বার্জগুলোতে বসে নানা খাবারের স্বাদ নেয় পর্যটকরা। কিন্তু এই জায়গায় পানির স্তর এখন আধামিটারে নেমে এসেছে। মানুষ এখন হেঁটে নদী পার হচ্ছে।

৬৫২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পো নদীর এমন বিপর্যয় তীরবর্তী এলাকার অর্থনীতিতে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের উত্তরে বৃষ্টিপাত ব্যাপক হারে কমে যাওয়ার পাশাপাশি শীত মৌসুমে তুষারপাত কম হওয়ায় পো নদীর পানিপ্রবাহ এত হ্রাস পেয়েছে।  

ফ্রান্সে ১৯৫৮ সালের পর রেকর্ড তাপদাহ

ফ্রান্সের আবহাওয়া দপ্তর গত ৭ আগস্ট জানায়, ১৯৫৮ সালে তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ শুরুর পর থেকে দেশটি এখন রেকর্ড দাপদাহ অতিক্রম করছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি নাগাদ এটি আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গত মাসে মাত্র ৯.৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে ফ্রান্সে। ১৯৬১ সালের মার্চের পর এটি ছিল শুষ্কতম মাস।

এই দুর্যোগের মধ্যে ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল শুরু হয়।

সূত্র : বিবিসি, গার্ডিয়ান, ডয়চে ভেলে



সাতদিনের সেরা