kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

বিএনপির সমাবেশ

তীব্র যানজটে ব্যাপক দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



 তীব্র যানজটে ব্যাপক দুর্ভোগ

যানজট : ৯ মাস পর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গতকাল জনসভা করেছে বিএনপি। এর ফলে রাজধানীতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, ভোগান্তি পোহাতে হয় পথচারীদের। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘গুলিস্তান থেকে উত্তর বাড্ডা যেতে দুপুর ১টার দিকে বাসে উঠি; কিন্তু বাস আর এগোয় না। শেষমেশ যদিও কাকরাইল পৌঁছলাম, তবে আধাঘণ্টার এই পথ পাড়ি দিতে দেড় ঘণ্টা লেগে যায়। বিএনপির সমাবেশের কারণে এই যানজট বলে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি। ’

গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যাপক যানজটে দুর্ভোগ পোহানোর পর এই মন্তব্য করেন আকাশ পরিবহনের যাত্রী হাবিবুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই কাজের উদ্দেশ্যে গুলিস্তান থেকে বাসে উঠি। পল্টন এলাকায় সামান্য যানজট থাকে। এ কারণে গুলিস্তান থেকে কাকরাইল যেতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগে। আজ (গতকাল) বিএনপির সমাবেশের কারণে দেড় ঘণ্টা লেগেছে। ’

জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, নজিরবিহীন লোড শেডিং, গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং ভোলায় পুলিশের গুলিতে দলীয় কর্মী নূরে আলম ও আব্দুর রহিম নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বিএনপি সমাবেশ করে। এতে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত গুলিস্তান, পল্টন এলাকাসহ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ও আশপাশে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। নয়াপল্টনের আশপাশেও একই পরিস্থিতি দেখা দেয়।

মালিবাগ ফ্লাইওভারে শত শত গাড়ি আটকা পড়ে। বাংলামোটর, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও, মগবাজারসহ রাজধানীর বেশির ভাগ সড়কে এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। এ সময় যানবাহন ছেড়ে অনেকে হেঁটে যেতে থাকে। প্রখর রোদে পথচারীদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বেশ কষ্ট পোহাতে হয়। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের।

এ সময় কাকরাইল মোড়ে পুলিশের এপিসি (আর্মার্ড পারসোনেল ক্যারিয়ার) দাঁড় করানো ছিল। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে বেশ বেগ পোহাতে হয়। এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. শহিদুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, বিএনপির সমাবেশের কারণে সকালে কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হয় মানুষজনকে। তবে দ্রুত সেটা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এরপর যানজটও কমতে থাকে।

সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সমাবেশ ঘিরে কোথাও কোনো হট্টগোল হয়নি। এটা সম্ভব হয়েছে পুলিশ সতর্ক থাকার কারণে।    

সরেজমিন

দুপুর ২টা। নয়াপল্টনে সমাবেশ শুরু হওয়ার আগে সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন থানা-ওয়ার্ড থেকে মিছিল করে সমাবেশে এসেছেন তাঁরা। এক পর্যায়ে নয়াপল্টনের সড়কের এক পাশ বিএনপি নেতাকর্মীদের দখলে চলে যায়। এতে ম?তি?ঝিল ও ফকিরাপুল থেকে কাকরাইলগামী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে অন্যান্য সমাবেশের তুলনায় গতকাল নেতাকর্মীদের উপস্থিতির হার কয়েক গুণ বেশি দেখা গে?ছে। নয়াপল্টনে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় মতিঝিল থেকে কাকরাইল পর্যন্ত রাস্তা বিএনপির নেতাকর্মীদের দখলে চলে যায়।

এ সময় মাঠ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সমাবেশে বড় ধরনের শোডাউনের লক্ষ্যে ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের আনা হয়েছে।

বিএনপির নেতাকর্মীরা রাস্তা দখল করে বসে পড়ায় মালিবাগের দিক থেকে গুলিস্তানমুখী গাড়ি আটকা পড়ে। মালিবাগ ফ্লাইওভারের ওপরে সারি সারি বাস, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল থেমে থাকতে দেখা যায়।

বেশির ভাগ বাসে দেখা যায়, চালক ও তাঁর সহকারী ছাড়া আরে কোনো যাত্রী নেই। ফ্লাইওভারের ওপর আটকে থাকা ভিক্টর পরিবহনের চালক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেড় ঘণ্টার ওপরে বইসা আছি স্টার্ট বন্ধ কইরা। যাত্রীরা সব নাইমা হাঁইটা চইলা গেছে। ’

এই চালকের বক্তব্যর সত্যতা পাওয়া যায়। দেখা যায়, যাত্রীরা তীব্র রোদের মধ্যে ফ্লাইওভারে দাঁড়িয়ে থাকা বাসের ফাঁক-ফোকর গলে হেঁটে যাচ্ছেন। নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ ছিল বেশি।

বাসযাত্রী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সকালে জরুরি কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হই। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গুলিস্তান এসে বৃষ্টিতে ভিজলাম। বাসে ওঠার পর বৃষ্টি থেমে গিয়ে রোদ উঠল। বাসের ভেতর ব্যাপক গরম। এ অবস্থায় আবার ভিজলাম ঘামে। ’

বাংলামোটর এলাকায় যানজটে আটকা পড়া বাসযাত্রী আফজাল হোসেন বলেন, ‘সকালে মিরপুর থেকে পল্টনের উদ্দেশে বাসে উঠি; কিন্তু দুই ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছাতে পারিনি। ’

বাস থেকে নেমে হাঁটতে থাকা এক নারী যাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দেখেছেন ঘেমে কেমন নেয়ে উঠেছি! এই দেশে সমাবেশের নামে জনদুর্ভোগ কবে যে শেষ হবে!’

আরো অন্তত ৩০ জনের কথা বলে জানা যায়, তাঁদের কেউ অফিসে, কেউ আড়তে, কেউ বিভিন্ন পণ্য কেনার উদ্দেশ্যে বাসসহ বিভিন্ন গণপরিবহনে ওঠেন; কিন্তু সঠিক সময়ে কেউ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি।

বাস থেকে ১৪৮ যাত্রী আটক

?গতকাল সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উত্তরা ও বিমানবন্দর এলাকায় বলাকা পরিবহনসহ পাঁচটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে ১৪৮ যাত্রীকে আটক করে পুলিশ। এর মধ্যে বিমানবন্দর থানা ৫৮ ও উত্তরা পূর্ব থানা ৯০ যাত্রীকে আটক করে।

এ ব্যাপারে বিমানবন্দর থানার ওসি বি এম ফরমান আলী বলেন, তাঁরা নিয়মিত বাসে তল্লাশি চালান। প্রতিদিনের মতো আজও (গতকাল) বিমানবন্দর মহাসড়ক এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালিয়ে গাজীপুর ও অন্যান্য জায়গা থেকে রাজধানীগামী বলাকা পরিবহনসহ পাঁচটি যাত্রীবাহী বাস থেকে লোকজনকে আটক করেন।   

উত্তরা (পূর্ব) থানার ওসি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম অনেকটা একই ধরনের তথ্য দিয়ে বলেন, আবদুল্লাহপুরে চেকপোস্ট বসিয়ে বাসে তল্লাশি চালিয়ে ঢাকাগামী লোকজনকে আটক করা হয়েছে।

আটক কয়েকজনের স্বজনের ভাষ্য, ব্যবসার মালপত্র কেনার জন্য বাসে করে ঢাকায় যাচ্ছিলেন তাঁরা। বাস থামিয়ে কোনো কারণ ছাড়া তাঁদের আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

 



সাতদিনের সেরা