kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

টিআইবির গবেষণা

টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড পাননি ৩৯% প্রকৃত উপকারভোগী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড পাননি ৩৯% প্রকৃত উপকারভোগী

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দেওয়া নিম্ন আয়ের এক কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানে অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। প্রকৃতভাবে যাঁরা প্রাপ্য, তাঁদের ৩৯ শতাংশ এই কার্ড পাননি।

দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ‘টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেছেন টিআইবির রিসার্চ ফেলো মোহাম্মদ নূরে আলম। এ সময় টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা ও বরিশালকে বাদ দিয়ে ৩৫টির মতো জেলায় গবেষণার ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, বাদ পড়া ব্যক্তিদের ৮০ শতাংশ মনে করেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে তাঁরা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি। ফ্যামিলি কার্ড পেতে ক্ষেত্রবিশেষে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ২০২২ সালের মার্চ-এপ্রিলে টিসিবি নিম্ন আয়ের এক কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে করোনাকালীন ‘দুই হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা’ কর্মসূচির সাড়ে ৩৮ লাখ এবং নতুন সাড়ে ৬১ লাখ উপকারভোগীকে সহায়তার সিদ্ধান্ত হয়।

টিআইবির গবেষণায় ৩৫টি জেলা থেকে এক হাজার ৪৭ জন উপকারভোগী জরিপে অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা সবাই ‘দুই হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা’ কর্মসূচির উপকারভোগী ছিলেন। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুনে এই গবেষণা পরিচালিত হয়।

টিআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী গবেষণায় দেখা যায়, উত্তরদাতা ব্যক্তিদের মধ্যে সাড়ে ৩৯ শতাংশই ফ্যামিলি কার্ড পাননি। তাঁদের ৮০ শতাংশ মনে করেন, অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে তাঁরা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি। ১৪ শতাংশ তাঁদের বাদ পড়ার কারণ জানেন না। উপকারভোগী ব্যক্তিদের বাদ পড়ার পেছনে ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কে তথ্য না জানা, তালিকা তৈরিতে স্বচ্ছতার ঘাটতি, সচ্ছল ব্যক্তিদের কার্ড দেওয়া, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আত্মীয়-স্বজনকে কার্ড দেওয়া, তদবির না থাকা এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় বাদ দেওয়া অন্যতম কারণ।

৪.৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তাঁরা উপকারভোগী বাছাই কমিটির সদস্য নন, এমন ব্যক্তির কাছ থেকে কার্ড পেয়েছেন। এই কার্ডদাতারা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দলের নেতা।

একটি ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে দুবারে যথাক্রমে তিন ও চারটি পণ্যের প্যাকেজ কেনা গেছে। প্যাকেজের দাম ছিল ৪৬০ ও ৫৬০ টাকা। পুরো প্যাকেজ কেনা বাধ্যতামূলক ছিল। সামর্থ্য না থাকায় কার্ড পাওয়া সাড়ে ৭ শতাংশ ব্যক্তি একটি প্যাকেজও কিনতে পারেননি। ডিলারের কাছ থেকে পণ্য কিনতে একজন উপকারভোগীর গড়ে ৩০ টাকা যাতায়াত খরচ হয়েছে। পণ্য কিনতে একজন উপকারভোগীর গড়ে সময় লেগেছে এক ঘণ্টা ২০ মিনিট।

পণ্য কিনতে গিয়েও অনিয়ম-দুর্নীতির শিকার হয়েছেন ১৩.৭ শতাংশ উপকারভোগী। কিছু ক্ষেত্রে ডিলার বা বিক্রয়কর্মী নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দাম রেখেছেন। এ ছাড়া নিম্নমানের পণ্য বিক্রয়, বিক্রির সময় লাইন না মানা, সিরিয়াল আসার আগেই পণ্য শেষ হয়ে যাওয়া, নির্ধারিত সময়ে ট্রাক না আসার মতো অনিয়ম হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, ব্যবস্থাপনা, নির্দেশনা ও জবাবদিহির ঘাটতি ছিল। অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে প্রকৃত অনেক উপকারভোগী বাদ পড়েছেন। তালিকা প্রণয়ন ও কার্ড বিতরণে বেশি ঘাটতি ছিল। দলীয় রাজনৈতিক বিবেচনায় তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া পরিহার করতে হবে।

 



সাতদিনের সেরা