kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সাকিবের বিজ্ঞাপনের ভূত নামাল বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১২ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাকিবের বিজ্ঞাপনের ভূত নামাল বিসিবি

একটু আগেই এক ঝাঁক পরিচালককে নিয়ে ধানমণ্ডিতে নিজের কর্মস্থলে জরুরি সভা সেরেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। গতকাল দুপুরের সেই সভার পর বেটউইনার নিউজের সঙ্গে সাকিব আল হাসানের বিতর্কিত চুক্তি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে গরমাগরম বক্তব্যও দিয়ে ফেলেছেন ততক্ষণে। সেই পর্ব শেষে একে একে বেরিয়ে যেতে থাকা পরিচালকদের একজন কণ্ঠে অসহায়ত্ব ফুটিয়েই বলছিলেন, ‘ভালো জিনিস কেউ ছাড়তে চায় নাকি? কিন্তু...। ’

কিন্তু সেই ‘ভালো’র মধ্যে ‘কালো’ ঢুকে যাওয়াতেই গত ২ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেটে জ্বলছিল সাকিব আগুন।

বিজ্ঞাপন

বেটিং সাইটের অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাকিব তাঁর ‘কালো চুক্তি’ বাতিল করবেন কি করবেন না, আগুন নেভা না নেভাও নির্ভর করছিল এর ওপরই। সেটি নেভার আভাস পাওয়া গিয়েছিল বৃহস্পতিবার দুপুরের সভার পরপরই। যখন আরেক পরিচালকের বিস্ময়মাখানো জিজ্ঞাসা, ‘বুঝলাম না বিষয়টি। চুক্তি বাতিলই যদি করবে, তাহলে চুক্তিটা করেছিল কেন?’

আগের দিন রাতেই সাকিব ফোনে নাজমুলকে জানিয়েছিলেন যে বেটউইনার নিউজের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করতে যাচ্ছেন তিনি। সভায় উপস্থিত পরিচালকরা বিসিবি সভাপতির মুখ থেকে এমনই শুনেছেন। যদিও সে বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে অন্ধকারেই রাখেন নাজমুল, ‘গতকাল (বুধবার) রাতে একটি কথাই হয়েছে। সে শুধু বলেছে, চিঠির উত্তর দিচ্ছি। ’ সাকিব মৌখিকভাবে জানালেও এই অলরাউন্ডারের মুখের কথায় নাজমুল কিছুতেই আর বিশ্বাস রাখছিলেন না বলে দাবি তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের। এ জন্যই চুক্তি বাতিলের কথা চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে না জানানো পর্যন্ত লাল পতাকা উড়িয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ কর্তা ব্যক্তি। তাই মৌখিক নিশ্চয়তা পাওয়ার ঘণ্টা বিশেক পরও তাঁর কথায় ছিল আগুনের উত্তাপই, ‘আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত লিখিত কোনো কাগজ না পাব এবং সেটি (বক্তব্য) যদি সন্তোষজনক না হয়, সাকিবকে দলে নেওয়ার কোনো সুযোগই নেই। আপনি বলতে পারেন এই কম্পানি আলাদা; কিন্তু তাদেরই তো আরেকটি কম্পানি বেটিংয়ের সঙ্গে জড়িত। এটি নিয়ে কোনো ঝামেলা চাই না। এখন ওকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সে কি বাংলাদেশ ক্রিকেটের হয়ে খেলবে, নাকি বেটিংয়ের সঙ্গে থাকবে?’

বেটিং সাইটের সঙ্গে সম্পর্কোচ্ছেদের খবরও আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবিকে জানানোর মধ্য দিয়ে কিছুদিন ধরে জ্বলতে থাকা আগুনে জলও শেষ পর্যন্ত ঢেলেছেন সাকিবই। পরিচালকদের সঙ্গে নাজমুলের জরুরি সভার পর আর বেশিক্ষণ অপেক্ষায়ও রাখেননি বাংলাদেশের শীর্ষ তারকা। তিনি ই-মেইলে চুক্তি বাতিল নিশ্চিত করেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরীকে। যিনি নিজেও যেন স্বস্তির সঙ্গেই বলতে পারলেন, ‘আগুন নিভেছে বলতে পারেন। আমি তো আগেই আপনাদের বলেছিলাম যে বিষয়টি সহজ করে দেখলে সহজ, জটিল করলে জটিল। সাকিব অবশেষে জটিলতার অবসান ঘটিয়েছেন। ’ নির্ভার বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির প্রধান জালাল ইউনুসও, ‘আমরা আশাবাদী ছিলাম যে এর একটি ইতিবাচক সমাধান হবে। সেটি হয়েছেও। তবে একই সঙ্গে আশা করব, ভবিষ্যতে আর কোনো ক্রিকেটার এ ধরনের ভুল করবে না। ’ তাই বিলম্বে হলেও শনিবার এশিয়া কাপের যে দল ঘোষিত হতে যাচ্ছে, তাতে সাকিবের থাকা নিয়েও আর কোনো সংশয় থাকার  কোনো কারণ নেই।

অবশ্য এই ঘটনায় টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্বে ফেরার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, সেটিও বিলীন হয়ে গেছে পুরোপুরি। কারণ একেই চুক্তিটা ছিল বিতর্কিত, তার ওপর চুক্তি করার আগে বিসিবির কাছে অনুমতি নেওয়ার যে নিয়ম, সেটিও ভেঙেছেন দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা। যেকোনো চুক্তির আগে ‘প্লেয়ার এন্ডোর্সমেন্ট প্রসিডিউর’ বা পিইপি নামের একটি ফরম পূরণ জমা দেওয়ার নিয়ম। ওই ফরমে ক্রিকেটারকে পণ্যদূত করতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার সইও থাকতে হয়। বেটউইনার নিউজের সঙ্গে চুক্তির আগে সেটি তো সাকিব জমা দেনইনি, এমনকি মৌখিকভাবেও বিসিবিকে জানানোর প্রয়োজন মনে করেননি তিনি। এখন চুক্তি বাতিল করলেও নিয়মভঙ্গের বিষয়টি তো আর মুছে যাচ্ছে না। এ জন্যই নেতৃত্ব নিয়ে সাকিবের ওপর বিসিবির আস্থা বিসর্জনে গেছে বলে জানা গেছে। অথচ সাকিবকে অধিনায়ক ধরেই এশিয়া কাপের দল গোছানো হচ্ছিল; কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বদলে গেছে বিসিবির অবস্থানও। সাকিবকে অধিনায়ক করা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিচালকের বক্তব্যে যেন নিয়মভঙ্গের শাস্তিই ঘোষিত হলো, ‘অবশ্যই না। প্রয়োজনে অন্য কাউকে অধিনায়ক করা হবে। ’

 



সাতদিনের সেরা