kalerkantho

শুক্রবার । ৭ অক্টোবর ২০২২ । ২২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

পণ্য পরিবহনে ভাড়া নির্ধারিত না হওয়ায় স্থবির খাতুনগঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৯ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পণ্য পরিবহনে ভাড়া নির্ধারিত না হওয়ায় স্থবির খাতুনগঞ্জ

হুট করে জ্বালানি তেলের বড় অঙ্কের মূল্যবৃদ্ধি ভোগ্য পণ্যের বাজারে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। ভোগ্য পণ্যের বড় আড়ত চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে বেচাকেনায় স্থবিরতা চলছে।

মূল্যস্ফীতির কারণে একে তো পণ্যের দাম বেড়েছে, তার ওপর পণ্য পরিবহনের ভাড়া এখনো নির্ধারিত না হওয়ায় পণ্যবাহী গাড়ি খেয়ালখুশি মতো দাম চাইছে। যৌথ ব্যবস্থায় যারা পণ্য পরিবহন করছে, সেখানে চলছে বাদানুবাদ।

বিজ্ঞাপন

এতে এই বাজারে বেচাকেনায় স্থবিরতা নেমে এসেছে।

সড়কপথে পণ্য পরিবহনে বাড়তি ভাড়া নির্ধারণে গতকাল সোমবার রাত ১১টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে তাঁর বাসভবনে বৈঠকে বসেন পণ্য পরিবহন মালিকরা।

বৈঠকে বসার আগে এ বিষয়ে বাংলাদেশ কাভার্ড ভ্যান-ট্রাক-প্রাইম মুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব চৌধুরী জাফর আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বৈঠকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে আগের ১৫ শতাংশ এবং এবারের ৩৫ শতাংশসহ মোট ৫০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরব। এরপর মঙ্গলবার (আজ) প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে একই দাবি বাস্তবায়নে আমরা স্মারকলিপি দেব। ’

খাতুনগঞ্জের আড়তদার মেসার্স তৈয়্যাবিয়া ট্রেডার্সের মালিক সোলায়মান বাদশা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি, ডলারের সংকট মিলিয়ে পণ্যের দাম এখন বাড়তি। এর সঙ্গে বড় আকারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এতে বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পণ্য পরিবহনের জন্য গাড়ি মিলছে না। যারা যেতে চায়, তারা ইচ্ছামতো ভাড়া চাইছে। পণ্য পরিবহন না থাকায় আমাদের বেচাকেনা নেই। ’

তিনি বলেন, ‘শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা পণ্য পরিবহন মালিকরা ভাড়া নির্ধারণে সরকারের সঙ্গে বসছেন; কিন্তু খাতুনগঞ্জ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে পণ্য পরিবহন হয়, সেগুলো চুক্তিভিত্তিক নয়। সেই ভাড়া ঠিক করার কেউই নেই। মইজ্জারটেক থেকে খাতুনগঞ্জের দূরত্ব তিন কিলোমিটার। আগে এই দূরত্বের ট্রাকভাড়া ছিল পাঁচ হাজার ৬০০ টাকা; সেখানে গতকাল থেকে নিচ্ছে সাত হাজার ৬০০ টাকা। আর পরিবহন মালিকরা যে ভাড়া হাঁকছেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে ভাড়া নির্ধারণে এখানে সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি। তা না হলে অরাজকতা সৃষ্টি হবে। ’

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য পরিবহনে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পণ্য পরিবহন মালিকদের চুক্তি থাকে; যেখানে বার্ষিক ভাড়া নির্ধারিত থাকে। কিন্তু খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই, পাহাড়তলী—এ ধরনের পাইকারি বাজারগুলো থেকে বিভিন্ন স্থানে পণ্য পরিবহনে ভাড়া নির্ধারিত নেই। ট্রাক মালিক-এজেন্ট এবং পরিবহন ব্যবসায়ীরা যে ভাড়া নির্ধারণ করত, সেভাবেই পণ্য পরিবহন করা হতো। এখন ডিজেলের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বাড়ানোর পর আড়তদারদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে ভাড়া নিয়ে।

খাতুনগঞ্জ পেঁয়াজের আড়তদার মোহাম্মদ ইদ্রিস কালের কণ্ঠকে বলেন, হিলি স্থলবন্দর থেকে যে ট্রাক চট্টগ্রাম আসে, সেগুলো ভাড়া নিত ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা। নতুন করে সেখান থেকে ট্রাক আসেনি। ফলে ভাড়া কত, তা জানি না। আর চট্টগ্রাম থেকে স্থানীয় দূরত্বে যে ট্রাকগুলোতে পণ্য পরিবহন করে, সেগুলো ট্রাক মালিকরাই নির্ধারণ করে দেন। এখনো ভাড়া ঠিক হয়নি। কবে হবে, তা-ও জানি না। এতে এখন বিচ্ছিন্নভাবে যেসব ট্রাক চলছে, সেগুলোও বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে।

 

 



সাতদিনের সেরা