kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

অরক্ষিত চিড়িয়াখানায় হকারের উৎপাত

মোবারক আজাদ   

৯ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অরক্ষিত চিড়িয়াখানায় হকারের উৎপাত

জাতীয় চিড়িয়াখানায় ভ্রাম্যমাণ হকার নিষিদ্ধ। কিন্তু হকারে ভর্তি থাকে চিড়িয়াখানা। তাদের নিয়ন্ত্রণে তৎপর নয় কর্তৃপক্ষ। চিড়িয়াখানারই কিছু কর্মচারীর সহায়তায় দেয়াল ডিঙিয়ে হকাররা ভেতরে ঢোকে এবং চড়া দামে জিনিসপত্র বিক্রি করে।

বিজ্ঞাপন

এতে খাবারের উচ্ছিষ্ট ও ব্যবহৃত পলিথিন যত্রতত্র ফেলে দর্শনার্থীরা চিড়িয়াখানার পরিবেশ নোংরা করে তুলছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিদিন চিড়িয়াখানায় অর্ধশতাধিক ভ্রাম্যমাণ হকার হাঁকডাক করে ঝালমুড়ি, হাওয়াই মিষ্টি, বাদাম, আইসক্রিম, পপকর্ন, পেয়ারা, আমড়াসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছে। কেউ কেউ বিভিন্ন ধরনের ফুল, পুঁতির মালা, ফুলের মালা, ময়ূরের পালক ও শিশুদের খেলনা বিক্রি করছে। শিশু পার্কের সামনে হকারদের আনাগোনা বেশি।

প্রতিটি জিনিসের দাম বেশি নেওয়ার কারণ হিসেবে হকাররা জানায়, চিড়িয়াখানার কর্মীদের টাকা দিয়ে তাদের ভেতরে আসতে হয়। এ জন্য জিনিসের দাম কিছুটা বাড়িয়ে রাখা হয়। শরীফুল নামের এক হকার বলেন, ‘আমরা ছড়াইয়া-ছিটাইয়া, পলাইয়া-পলাইয়া বিক্রি করি। আবার বিভিন্নজনকে টাকাও দিতে হয়। ’

বোটানিক্যাল গার্ডেন, উত্তর ও দক্ষিণ পাশ মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার ফুট সীমানাপ্রাচীর অরক্ষিত। এসব এলাকা দিয়েই হকাররা প্রতিনিয়ত আসা-যাওয়া করে।

চিড়িয়াখানার মূল ফটকের সামনেও হকারের উৎপাত। ফুচকা ও চটপটির দোকানগুলোতে দামদর না করে খেতে বসলে ৪০ টাকার ফুচকা রাখা হয় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। ভুক্তভোগী রাশেদ নামের এক দর্শনার্থী বলেন, ‘ডেকে এনে আমাদের বসায়। ছয়জন ফুচকা খেয়েছি। বিল দিতে গেলে বলে ৭২০ টাকা। অথচ আমরা ধরেছিলাম, ৪০ টাকা প্লেট হিসাবে ২৪০ টাকা হবে। পরে তর্কাতর্কি করেও লাভ হয়নি। তাদের দাবিমতোই টাকা দিতে হয়েছে। ’

অরক্ষিত দেয়াল ও হকারের বিষয়ে জানতে চাইলে চিড়িয়াখানার তথ্য কর্মকতা ডা. ওয়ালিউর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সীমানাপ্রাচীরের বিষয়ে আমাদের মিটিং হয়েছে। এখান দিয়ে কোনো হকার যাতে না ঢুকতে পারে, সে ব্যাপারে কর্মচারীরা নজর রাখবেন। কারো গাফিলতি করার সুযোগ থাকবে না। প্রত্যেকের দায়িত্বে থাকা শেডের দায়িত্ব প্রত্যেকের যথাযথভাবে পালন করতে হবে। ’

চিড়িয়াখানার কিউরেটর মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা অনেক বিষয় সংশোধন করেছি। আরো সংশোধনের কাজ চলছে। সামনে বরাদ্দ হলে অরক্ষিত দেয়ালগুলো ঠিক করা হবে। ’

 



সাতদিনের সেরা