kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

আবারও রাজায় নিঃস্ব বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আবারও রাজায় নিঃস্ব বাংলাদেশ

ওয়ানডেতে আট হাজার রানের মাইলফলকে তামিম ইকবাল। তাঁর মাইলফলকের ম্যাচটি ৫ উইকেটে হেরে গেছে বাংলাদেশ। ছবি : এএফপি

নামে যেমন, তেমনি কাজেও আক্ষরিক অর্থে গত সপ্তাহের টি-টোয়েন্টি সিরিজের রাজা ছিলেন সিকান্দার রাজা। দুই ম্যাচের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে সিরিজসেরা হওয়া জিম্বাবুয়ের এই মিডল অর্ডার ব্যাটার এবার ওয়ানডেতেও নিঃস্ব করে ছাড়লেন বাংলাদেশকে। রাজার ব্যাটে নিজেদের পছন্দের সংস্করণেও সফরকারী দলের বোলারদের অসহায়ত্বের সাক্ষী হয়েছে কালকের হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠ। তা-ও আবার সেই ব্যাটে এমনই আভিজাত্য যে বাংলাদেশের ৩০৩ রান তাড়ায় মোসাদ্দেক হোসেনের বলে ছক্কা মেরেই জিম্বাবুয়েকে জয়ের তীরে পৌঁছে দিয়েছেন ১০৯ বলে ১৩৫ রানের হার না মানা বিধ্বংসী ইনিংস খেলা রাজা।

বিজ্ঞাপন

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ১০ বল বাকি থাকতেই ৫ উইকেটের একরকম আয়েশি জয়ে ১-০তে এগিয়ে যাওয়া জিম্বাবুয়ে কাল দেখেছে আরেকজনের উত্থানও। তিনি টপ অর্ডার ব্যাটার ইনোসেন্ট কাইয়া, বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে যিনি একদমই ‘ইনোসেন্ট’ ছিলেন না। বরং খড়্গহস্ত হলেন। ৬ রানে ২ উইকেট হারানোর মতো শুরুর বিপদে তিনি প্রথমে দলের সহায় হন। সঙ্গী হিসেবে পান ওয়েসলি মাদভেরেকে। তবে সেই জুটি ফিফটি পেরোতে না পেরোতেই ভেঙে বাংলাদেশের যখন আরো চড়ে বসার অপেক্ষা, তখন ইনোসেন্টের সঙ্গে রাজার ব্যাট যোগ হয়ে এমন প্রতিরোধ গড়ে তোলে যে তামিম ইকবালের দলই বরং সম্ভাবনায় পিছিয়ে যেতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ছিটকেও যায়। ইনোসেন্ট-রাজার ১৯২ রানের চতুর্থ উইকেট জুটিতে স্বাগতিকরা যেখানে চলে যায়, সেখান থেকে জিম্বাবুয়ে হারলেই বরং সেটি চরম বিস্ময়কর কিছু হতো।

তেমন কিছু না হয়ে ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তামিম ইকবালদের জয়রথই থামল। ২০১৩ সালে শেষবার ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে হারিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। এরপর শুধুই হার আর হার। এই দুই দলের মুখোমুখিতে সবশেষ ১৯ ম্যাচেই হারা স্বাগতিকরা অবশেষে ৯ বছর পর জয়ের মুখ দেখল ইনোসেন্ট আর রাজার জোড়া সেঞ্চুরিতে। দুই ব্যাটারই সেঞ্চুরিতে পৌঁছেন একই ওভারে। প্রথমে ইনোসেন্ট, ক্যারিয়ারের মাত্র চতুর্থ ওয়ানডে খেলতে নেমে প্রথম সেঞ্চুরিতে পৌঁছেন ১১৫ বলে। এই ব্যাটার একটু রয়েসয়ে খেললেও উল্টো চেহারায় দেখা দেওয়া রাজার চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরির জন্য সাত বছরের অপেক্ষাও ফুরায়। মাত্র ৮১ বলে ৪ ছক্কা ও ৮ চারে পৌঁছে যান তিন অঙ্কে। জিম্বাবুয়ের হয়ে এটি দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি। দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি ব্রেন্ডন টেলরের, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে যেটি করেছিলেন ৭৯ বলে। ১২২ বলে ১১ চার ও ২ ছক্কায় ১১০ রান করা ইনোসেন্টকে শেষ পর্যন্ত ফেরানো গেলেও রাজা ছিলেন অবিচল। অপরাজিত ১৩৫ রানের ইনিংসে সেঞ্চুরির পর মেরেছেন আরো ২ ছক্কা, যার শেষটি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের একাধিপত্যের অবসানসূচকও।

অথচ এই ম্যাচে সম্ভাবনায় আগের যেকোনো সময়ের চেয়েও বেশি পিছিয়ে ছিল জিম্বাবুয়ে। চোটের থাবায় দলের শক্তিও কমে গিয়েছিল অনেকটা। নিয়মিত অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন খেলতে পারছেন না। দলের সেরা দুই পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি ও টেন্ডাই চাতারাও নেই চোটের জন্য। এই অবস্থায় আগে ব্যাটিং পাওয়া বাংলাদেশ ৩০০ ছাড়ানো সংগ্রহ দাঁড় করাতেই যেন ম্যাচ শেষ বলে ধরে নিয়েছিল অনেকেই। প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডেতে তামিম ইকবালের (৬২) আট হাজার রানের মাইলফলক পার হওয়ার দিনে লিটন কুমার দাসও (৮১) ছিলেন দারুণ ছন্দে। তামিমের বিদায়ে তাঁদের ১১৯ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপ ভাঙলেও সেঞ্চুরি উঁকি দিচ্ছিল লিটনের ব্যাটে। তবে মাংসপেশির টানে তিনি অবসর নিতে বাধ্য হওয়ার পরও বাংলাদেশের রানগতিতে ছেদ পড়েনি। কারণ দীর্ঘদিন পর ওয়ানডে খেলার সুযোগ পাওয়া এনামুল হক বিজয়ও ৬২ বলে ৩ ছক্কা ও ৬ চারে খেলা ৭৩ রানের ইনিংসে সচল রেখেছিলেন রানের চাকা। হজ করে ফেরা মুশফিকুর রহিমও (৫২*) ফিরেই ফিফটি করলেও সফরকারীদের সংগ্রহ যে যথেষ্ট ছিল না, ইনোসেন্ট আর রাজার ব্যাট সেটিই প্রমাণ করে ছাড়ল। তাতে অবশ্য বাংলাদেশের বোলারদের নির্বিষ বোলিংয়ের দায়ও কম নয়!

 

 



সাতদিনের সেরা