kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

অভিমত

কৃষক ফসল উৎপাদনে নিরুৎসাহ হবে

জাহাঙ্গীর আলম

২ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কৃষক ফসল উৎপাদনে নিরুৎসাহ হবে

জাহাঙ্গীর আলম

সারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে নিশ্চিতভাবেই কৃষকের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। তাতে কৃষকের লাভ কমে যাবে। লাভ কমে গেলে তখন কৃষকরা পরের মৌসুমে ধান বা অন্যান্য ফসল উৎপাদনে নিরুৎসাহ হবেন। এমনিতেই আমরা খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল, এখন সারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে ভবিষ্যতে খাদ্য আমদানি নির্ভরতা আরো বেড়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন

তাই এই মুহূর্তে সরকারের উচিত হবে সারের মূল্যবৃদ্ধির যে ঘোষণা তা স্থগিত করা। ভর্তুকি বাড়িয়ে আগের দামেই কৃষকের কাছে সার সরবরাহ করা। এমনিতেই কৃষকরা ফসল উৎপাদনের অন্যান্য খরচ বৃদ্ধিতে ক্ষতির মুখে আছেন।

সারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে খুব দ্রুতই সারের ব্যবহার কমে আসবে। এখন আমন ফসল ফলানোর সময়, এই সময়ে আমন ধান উৎপাদনে সারের ব্যবহার কম হবে এবং এতে আমনের উৎপাদনও কমে আসবে। এর পরই আসছে বোরো মৌসুম, এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বোরো মৌসুমেও পড়বে। ইউরিয়া সারের ওপরই কৃষকের নির্ভরতা বেশি। ইউরিয়া সারের দাম যখন বাড়ে তখন অন্যান্য সারের ব্যবহারও আস্তে আস্তে কৃষকরা কমিয়ে উৎপাদনে আর্থিক পরিমাণটি ঠিক রাখেন। এতে আমাদের উৎপাদন বিঘ্নিত হবে।

এখন দেশের বাজারে খাদ্যের ঘাটতি পূরণ করতে সরকার জরুরি ভিত্তিতে চাল আমদানি করছে। এরই মধ্যে ১০ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, যা আরো পাঁচ লাখ বাড়িয়ে ১৫ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হতে পারে। এখন সারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন কমে গেলে সামনে আরো আমদানিনির্ভরতা বাড়বে।

সরকার বলছে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বেশি; এখন কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম কমতে শুরু করেছে। আশা করা যায়, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সারের দাম আরো কমে যাবে। চলমান আমন মৌসুমের মধ্যে সারের মূল্যবৃদ্ধি না করে কয়েক মাস অপেক্ষা করা উচিত ছিল।

সরকার হয়তো চিন্তা করছে, ইউরিয়ার দাম বাড়ালে কৃষক ডিএপি সারের ব্যবহার বাড়াবেন। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণই উল্টো। যখন ইউরিয়া সারের দাম বেড়ে যায়, তখন সব ধরনের সারের ব্যবহার কমে যায়। কারণ সারের ক্ষেত্রে কৃষক তাঁর মোট খরচ ঠিক রাখবেন।

আমাদের যেসব ইউরিয়া সার কারখানা রয়েছে, সেগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়িয়ে পুরোদমে চালু করার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন ইউরিয়া কারখানা চালু করার ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ইউরিয়া সার আমদানি কমিয়ে দেশের চাহিদা মেটাতে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারি।

লেখক : কৃষি অর্থনীতিবিদ



সাতদিনের সেরা