kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

জিতেই ট্রফি উদযাপন করল বসুন্ধরা কিংস

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৩১ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জিতেই ট্রফি উদযাপন করল বসুন্ধরা কিংস

শেষ ম্যাচে শেখ জামালের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়। এরপর শিরোপা উৎসবে মাতে বসুন্ধরা কিংস। ছবি : মীর ফরিদ

কিংস অ্যারেনা রাঙিয়ে গেল বসুন্ধরা কিংসের শিরোপার রঙে। এটা হ্যাটট্রিক শিরোপার রং। এই রংমশালের মধ্যে রবসন রোবিনহো হাজির হয়েছেন ব্রাজিলের পতাকা জড়িয়ে, ‘আমার ক্যারিয়ারে আজ অত্যন্ত আনন্দের ও গৌরবের দিন। আমার অধিনায়কত্বে শিরোপার স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশের একটি ক্লাব।

বিজ্ঞাপন

কাপটা হাতে নিয়ে আমি অভিভূত, বসুন্ধরা কিংসের মাঠের নেতা এক ব্রাজিলিয়ান!’

এই নেতা এলেবেলে ব্রাজিলিয়ান নয়, দুই মৌসুম ধরে তিনি দুপায়ের জাদুতে ফুটবলকে শিল্পিত রূপ দিয়ে বসুন্ধরা কিংসকে বসিয়েছেন শ্রেষ্ঠত্বের আসনে। কালকের দুই গোলেও আছে রোবিনহোর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদান। ২-১ গোলে শেখ জামাল ধানমণ্ডিকে হারিয়ে কিংস হ্যাটট্রিক শিরোপার ট্রফি নিয়ে মেতেছে আনন্দ উৎসবে। গতকাল প্রিমিয়ার লিগ কমিটির প্রধান আব্দুস সালাম মুর্শেদী সেরার ট্রফি তুলে দিয়েছেন কিংস খেলোয়াড়দের হাতে। সঙ্গে ছিলেন বাফুফে সহসভাপতি ও কিংস সভাপতি ইমরুল হাসান এবং বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ।

তবে কিংস অ্যারেনায় আগের ম্যাচটি ছিল ট্রফি বিতরণের জন্য আদর্শ। আবাহনীর বিপক্ষে স্বাগতিকদের এ ম্যাচে তুমুল আকর্ষণ তৈরি হলেও লিগ কমিটি রাজি হয়নি ট্রফি দিতে। সেই তুলনায় কালকের ম্যাচটি একরকম আনুষ্ঠানিকতার। কিংসও তাদের সেরা দুই বিদেশি ইরানি ডিফেন্ডার খালেদ শাফি ও ফরোয়ার্ড মিগেল ফিগেইরা এবং নিয়মিত গোলরক্ষক আনিসুরকে বাইরে রেখেই নামে। ফিরেছেন দুই ম্যাচ মূল একাদশের বাইরে থাকা রবসন রোবিনহো। তিনি ফর্মে থাকলে আসলে অন্য কারো দরকার হয় না, একাই রক্ষণ তছনছ করে খুলে ফেলেন প্রতিপক্ষের গোলমুখ। আগের ম্যাচে বদলি হয়ে নেমে আকাশি-নীলে কফিনে ঠুকে দিয়েছিলেন দু-দুটি চমৎকার গোল। সেটি খুব অহমে লেগেছিল ছয়বারের পেশাদার লিগ জয়ীদের!

সেরকম গতকালও হয়েছে রোবিনহো শো। অষ্টম মিনিটে মতিনের গোলে প্রথম গ্যালারিতে লাল উৎসব শুরু হলেও তার কারিগর ওই ব্রাজিলিয়ানই। বাঁ দিকে রোবিনহো গাম্বিয়ান নুহা মারংয়ের সঙ্গে দুটো পাস খেলেই চাপে ফেলেন জামালের রক্ষণভাগকে। এরপর ডানে মতিনকে ফাঁকায় দেখে বল ছাড়েন এবং এই দেশি ফরোয়ার্ডের লক্ষ্যভেদে এগিয়ে যায় চ্যাম্পিয়নরা। এটি তাঁর চতুর্থ গোল। বিরতিতে যাওয়ার আগে অবশ্য ম্যাচে ফেরার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি জামালের সোহানুর রহমান। তাঁর দুর্বল শট গ্লাভসে নিতে কোনো বেগ পেতে হয়নি কিংসের দুই নম্বর গোলরক্ষক হামিদের।

বিরতির পর কিংসের দাপট অব্যাহত থাকলেও শেখ জামাল চেষ্টা করে রোবিনহোকে আটকে দিতে। এ রকম বল প্লেয়ারকে আটকে দেওয়া কি অত সহজ! ৫২ মিনিটে নুহার পা ঘুরে আসা বলটি আয়ত্তে নিয়ে তিনি আর বক্সে ঢোকার চেষ্টা করেননি, বাইরে থেকেই এই ফরোয়ার্ড ডান পায়ের মাপা শটে জালে পাঠিয়ে করেছেন নিজের ১৬তম গোল। আগেরবার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবার প্রতিপক্ষের কঠিন প্রহরায় থেকেও করেছেন এত গোল!

২-০ গোলের লিডে স্বাগতিকদের হ্যাটট্রিক লিগ শিরোপা উদযাপনের সব আয়োজন প্রায় হলে গেলেও ভণ্ডুল হতে যাচ্ছিল হামিদের ভুলে। আসলে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামা এই গোলরক্ষক আতিকের লম্বা ক্রসটি গ্রিপে নিতে গিয়ে ব্যর্থ হন। সেই বলে সোহান দূরের পোস্টে বল পাঠিয়ে চাপে রাখে স্বাগতিকদের। ওই চাপে নাকাল হয়নি তারা, বিশ্বনাথ অযথা ওতাবেককে গুঁতা মেরে লাল কার্ড না দেখলে কোনো কালো দাগই পড়ে না স্বাগতিকদের শেষ ম্যাচে। প্রথম ম্যাচ হারের পর টানা ২১ ম্যাচ অপরাজিত থেকেই কিংস জেতে টানা তৃতীয় লিগ শিরোপা। ২২ ম্যাচ খেলে ১৮ জয়, তিন ড্র ও এক হারে ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা অভিযান শেষ করে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন কোচ অস্কার ব্রুজোন, ‘এই লিগটা খুব কঠিন ছিল। বিদেশিদের পাশাপাশি দেশি ফুটবলারদেরও অনেক অবদান আছে। তারা গোল পেয়েছে এবং সেরাটা দিয়ে নিজেদের প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে। অনেক ইনজুরির মধ্যে আমাকে বেশ হিসাব-নিকাশ করে দল সাজাতে হয়েছে। প্রত্যেক ম্যাচ পার হওয়ার জন্য আলাদা কৌশল করতে হয়েছে। ’

তাই তিনটি লিগ শিরোপার মধ্যে স্প্যানিশ কোচের কাছে এটিই সবচেয়ে কঠিন ও মধুরতম। খেলোয়াড়দের নিয়ে তাই মন ভরে উদযাপনটাও করেছেন। তাঁর মতো উৎসবে মেতেছিলেন গোলরক্ষক আনিসুর রহমানও, ‘আমি চেষ্টা করেছি, সেরাটা দিয়ে শিরোপা জয়ে দলকে সাহায্য করতে। আমার ক্যারিয়ার ঘুরেছে এই ক্লাবে এসে, এই সেরাটা জাতীয় দলকে দিয়ে যদি কিছু জেতাতে পারতাম। ’ ক্লাব ফুটবলে বসুন্ধরা কিংসকে শ্রেষ্ঠত্বের সিংহাসনে তুলে প্রতিটি দেশি ফুটবলার আক্ষেপ করছেন জাতীয় দল নিয়ে।



সাতদিনের সেরা