kalerkantho

শনিবার । ২০ আগস্ট ২০২২ । ৫ ভাদ্র ১৪২৯ । ২১ মহররম ১৪৪৪

চার মাস পর এক দিনে মৃত্যু দশের ওপরে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চার মাস পর এক দিনে মৃত্যু দশের ওপরে

চার মাস পর দেশে আবারও করোনায় এক দিনে মৃত্যু দশের ওপরে উঠেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত রবিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে গত মার্চের ৫ তারিখে ১৩ জনের মৃত্যু হয়।

মৃতের সংখ্যার সঙ্গে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ও শনাক্তের সংখ্যাও বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ছিল ১৬.৫১ শতাংশ। আর শনাক্ত হয়েছে দুই হাজার ২৮৫ জন।

এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে হাসপাতালগুলোতেও। রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল প্রায় দুই মাস করোনার রোগীশূন্য থাকার পর আবারও এ ভাইরাসে আক্রান্তদের ভিড় সামলানো শুরু করেছে। এ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক লে. কর্নেল ডা. নাজমুল হুদা গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত ১৬ জুনের আগের দুই মাস আমাদের হাসপাতালে করোনা রোগী ছিল না বললেই চলে। ১৬ জুনের পর থেকে রোগী বাড়ছে। গত রবিবার করোনা উপসর্গ নিয়ে ২৩২ জন আসে। এদের মধ্যে যারা পরীক্ষা করিয়েছে, তাদের ৩৫ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। পরীক্ষা না করিয়ে পরামর্শ নিয়ে ফিরে গেছে বেশ কয়েকজন। হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি আছে ৪০ জন। করোনা রোগীদের জন্য আইসিইউ আবারও চালু করা হয়েছে। বর্তমানে সাতজন রোগী আইসিইউতে আছে। ’

ডা. নাজমুল হুদা জানান, ১৬ জুনের আগে করোনা পরীক্ষার মেশিন চালানোর মতো নমুনা পাওয়া যেত না। এক সপ্তাহ ধরে নমুনা সংগ্রহের পর ওই মেশিন চালানো হতো। কিন্তু এখন করোনা উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন অনেকে আসছে। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার প্রায় ২০ শতাংশ।

হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীরা করোনার টিকা নিয়েছিল কি না—এ প্রশ্নে ডা. নাজমুল হুদা বলেন, রোগীদের ৯০ শতাংশ করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন। ১২ জন নিয়েছেন বুস্টার বা তৃতীয় ডোজ। টিকা নেওয়ার পরও আক্রান্ত হওয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, টিকা নেওয়ার পর একটা সময় পর্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রতিরোধক্ষমতা বহাল থাকে। পরে তা কমে আসে। তবে টিকা অনেক ক্ষেত্রেই গুরুতর অসুস্থ হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। আবার টিকা নিলেও বয়স্ক ব্যক্তি, যাঁরা কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ—এসব সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা করোনায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। সে কারণে টিকা নিলেও করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে মাস্ক পরাসহ সব ধরনের সতর্কতা মেনে চলতে হবে।

এই চিকিৎসক জানান, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের করোনা রোগীদের জন্য ১৭৫টি শয্যা রয়েছে। অনেক শয্যা এখনো খালি। আইসিইউ প্রস্তুত রয়েছে। সব মিলিয়ে রোগী সামাল দিতে তাঁরা প্রস্তুত।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকাল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১২ জনের মধ্যে পুরুষ ৯ জন ও নারী তিনজন। এর মধ্যে ৯ জন ঢাকা বিভাগের আর চট্টগ্রাম, খুলনা ও ময়মনসিংহের একজন করে তিনজন। বয়স বিবেচনায় ৪১-৫০ বছরের একজন, ৫১-৬০ বছরের দুজন, ৬১-৭০ বছরের চারজন, ৭১-৮০ বছরের দুজন, ৮১-৯০ বছরের দুজন এবং ৯০-১০০ বছরের একজন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এখন পর্যন্ত করোনায় মোট শনাক্তের সংখ্যা ১৯ লাখ ৮০ হাজার ৯৭৪। মৃতের সংখ্যা ২৯ হাজার ১৭৪। সর্বশেষ হাসপাতাল ও বাসায় সুস্থ হয়েছে ৪৮২ জন। এ নিয়ে ১৯ লাখ আট হাজার ৭৭৯ জন সুস্থ হয়েছে।

নতুন শনাক্তদের মধ্যে ঢাকা বিভাগেরই ৮৩৩ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে ২১১ জন, বরিশালে ৫৬ জন, খুলনায় ৪৪ জন, রাজশাহীতে ৪৫ জন, ময়মনসিংহে ৫৭ জন, রংপুরে ২৯ জন এবং সিলেটে ১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

গত ২৭ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত করোনায় মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, এ সময়ে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে টিকা নিয়েছিলেন ১৬ জন। আর নেননি ছয়জন। ১৩ জন টিকার দুটি করে ডোজ নিয়েছিলেন। আর তিনজন বুস্টার ডোজ নিয়েছিলেন। মৃত ২২ জনের মধ্যে ১৬ জনের কো-মরবিডিটি (ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ) ছিল।



সাতদিনের সেরা