kalerkantho

শনিবার । ২০ আগস্ট ২০২২ । ৫ ভাদ্র ১৪২৯ । ২১ মহররম ১৪৪৪

বন্যা পরিস্থিতি

সিলেট ও সুনামগঞ্জে পানি আরো কমেছে

► গোয়ালন্দের পদ্মায় পানি বাড়ছে
► গ্রামের মানুষকে খেয়া নৌকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিলেট ও সুনামগঞ্জে পানি আরো কমেছে

চারপাশে পানি থইথই। চরাঞ্চল থেকে লোকজন নৌকায় করে পদ্মা নদী দিয়ে গরু নিয়ে আসছে রাজশাহী সিটি বাইপাস গরুর হাটে। গতকাল নগরীর হাই-টেক পার্কের আই বাঁধ থেকে তোলা। ছবি : সালাহ উদ্দিন

নদ-নদীর পানি কমায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরো উন্নতি হয়েছে। এতে বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মা নদীর পানি বাড়ছে। ফলে নদীতীরবর্তী প্লাবিত নিম্নাঞ্চলে পানি আরো বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

সিলেটে গতকাল রবিবার ভোরের পর থেকে থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়। তবে সকাল ৯টা থেকে সারা দিন প্রখর রোদ ছিল। ফলে নদীর পানি সিলেট জেলার বেশির ভাগ পয়েন্টে কমতির দিকে ছিল। এতে সিলেটের বেশির ভাগ উপজেলায় বন্যার পানি আধাহাতের মতো কমে। বাকি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত ছিল।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট সূত্রে জানা গেছে, কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমার পানি আগের দিনের তুলনায় ২০ সেন্টিমিটার কমে গতকাল বিকেল পর্যন্ত বিপত্সীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সিলেট পয়েন্টে শনিবার হঠাৎ সুরমার পানি বেড়ে বিপত্সীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে গতকাল পানি ৪৩ সেন্টিমিটার কমে বিপত্সীমার ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। জকিগঞ্জের অমলসিদে কুশিয়ারা নদীর পানি আগের দিনের তুলনায় ৬ সেন্টিমিটার বেড়ে গতকাল বিপত্সীমার ৬৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বিয়ানীবাজারের শেওলায় কুশিয়ারার পানি আগের দিনের তুলনায় ২৩ সেন্টিমিটার কমে গতকাল বিপত্সীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ ছাড়া ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারার পানি এবং গোয়াইনঘাটে সারি নদীর পানি অপরিবর্তিত ছিল।

গতকাল সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের জামাল হোসেন বলেন, ‘বন্যার পানি মনে হচ্ছে এবার আমাদের মুক্তি দেবে। চার দিন ধরে পানি কমতির দিকে। গতকালও আধাহাতের মতো পানি কমেছে। ’

সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল বন্ধ থাকায় পুরাতন সুরমা, যাদুকাটা, খাসিয়ামারা, পাটলাই, চেলা, চলতিসহ সব নদ-নদীর পানিই কমছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ পয়েন্টে সুরমার পানি বিপত্সীমার ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এদিকে বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় পানিবাহিত রোগ ও চর্মরোগ দেখা দিয়েছে। সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, সব নদ-নদীর পানি কমছে। নিম্নাঞ্চলের পানিও কমছে। পাউবোর আবহাওয়া ও বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

রাজবাড়ীর পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে গতকাল সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৮ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। এ নিয়ে তিন দিনে সেখানে ৪২ সেন্টিমিটার পানি বাড়ল। উপজেলা পাউবো অফিসের গেজ রিডার সালমা খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পদ্মা তীরবর্তী দৌলতদিয়া, দেবগ্রাম ও উজানচর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের হাঁটাপথও পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে গ্রামের মানুষকে খেয়া নৌকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট এবং সুনামগঞ্জ ও গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি। ]

 

 



সাতদিনের সেরা