kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

করোনাভাইরাস

মৃত্যুর তালিকায় আরো ছয়জন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মৃত্যুর তালিকায় আরো ছয়জন

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর তালিকায় আরো ছয়জন যোগ হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এই ছয়জনের মৃত্যু হয়। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয় পাঁচজনের। গত ২০ জুলাই থেকে গতকাল পর্যন্ত মোট ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

  

রোগ বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে আগেই এই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল যে মৃতের সংখ্যা ক্রমে বাড়তে পারে। তাঁদের যুক্তি, এখন যাঁরা মারা যাচ্ছেন তাঁরা প্রায় তিন সপ্তাহ আগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তখন প্রতিদিন রোগী শনাক্তের সংখ্যা ছিল এক শর কম।   কিন্তু  গত ২২ জুন থেকে প্রতিদিন রোগী শনাক্ত হচ্ছে হাজারের বেশি। গত ২৬ জুনের পর এ সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে যায়। সে কারণে চলতি জুলাই মাসের শেষ দিকে করোনায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

কভিড-১৯ বিষয়ে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ এ আশঙ্কার সঙ্গে একমত। গতকাল তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে গত ১৯ জুন পর্যন্ত কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া করোনায় মৃত্যুহীন দিন পার করেছি। কিন্তু গত ২০ জুন থেকে আবারও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে এবং এ সংখ্যা বাড়ছে। সম্প্রতি রোগী শনাক্তের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, সে অনুপাতে আগামী দিনে মৃতের সংখ্যাও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। ’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকালের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গত জুন মাসে করোনায় যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের টিকা গ্রহণ সম্পর্কে তথ্য জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, ওই  ১৮ জনের মধ্যে ১২ জন করোনার টিকা নিয়েছিলেন। বাকি ছয়জন এ টিকা নেননি। টিকা নেওয়া মৃত ১২ জনের মধ্যে সাতজন দুটি করে ডোজ ও পাঁচজন বুস্টার ডোজ নিয়েছিলেন।

টিকা নেওয়ার পরও করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ বলেন, ‘টিকা নেওয়ার পরও যাঁরা করোনায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং মারা যাচ্ছেন, তাঁদের অন্যান্য রোগের জটিলতা থাকতে পারে। এ ছাড়া টিকা নেওয়ার পর বেশিদিন এর প্রতিরোধক্ষমতা পুরোপুরি থাকে না। তার পরও টিকা নিলে করোনায় গুরুতর অসুস্থ হওয়া থেকে যে রক্ষা পাওয়া যায়, তা বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত। সে কারণে যাঁরা টিকা নেননি, বিশেষ করে দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর বুস্টার ডোজ নেননি, তাঁদের দ্রুত এ টিকা নিতে হবে। এ ছাড়া করোনা সংক্রমণ রোধের জন্য আমাদের বিশেষজ্ঞ কমিটি থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা সবাইকে মেনে চলতে হবে। এ ক্ষেত্রে মাস্ক পরার কোনো বিকল্প নেই। ’

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকাল জানায়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ১০৫ জন। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৩.২২ শতাংশ। এ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সরকারি ছুটির দিনে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা সাধারণত কম হয়।

এ ছাড়া জানা যায়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত ছয়জনের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও তিনজন নারী। এর মধ্যে ১১ থেকে ২০ বছরের একজন; ৩১ থেকে ৪০ বছরের দুজন; ৫১ থেকে ৬০ বছরের একজন; ৬১ থেকে ৭০ বছরের একজন এবং  ৭১ থেকে ৮০ বছরের একজন। এ ছয়জনের মধ্যে  তিনজন ঢাকা বিভাগের, দুজন চট্টগ্রাম বিভাগের ও একজন ময়মনসিংহ বিভাগের।

নতুন শনাক্তদের মধ্যে ঢাকা বিভাগেরই ৯৩২ জন। চট্টগ্রাম বিভাগের ৯৭ জন, বরিশালের ২৩ জন, খুলনার ১১ জন, রাজশাহীর ১৩ জন, ময়মনসিংহের ১৮ জন এবং সিলেটের ১১ জন রয়েছে। ওই ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে কেউ শনাক্ত হয়নি।  



সাতদিনের সেরা