kalerkantho

মঙ্গলবার। ৯ আগস্ট ২০২২ । ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১০ মহররম ১৪৪৪

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নূপুর শর্মার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নূপুর শর্মার

‘দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণে’ বিজেপির বহিষ্কৃত মুখপাত্র নূপুর শর্মার ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল শুক্রবার দেশটির শীর্ষ আদালত বলেছেন, ‘দেশে যা হচ্ছে তার জন্য এই নারী একাই দায়ী। ...তাঁর উচিত সমগ্র জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া। ’

গত মাসে টিভি অনুষ্ঠানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে তোপের মুখে পড়েন নূপুর শর্মা।

বিজ্ঞাপন

দেশে-বিদেশে এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হয়। ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়।  

শীর্ষ আদালতে নূপুর শর্মার আইনজীবী তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগগুলো নয়াদিল্লিতে স্থানান্তরের অনুরোধ জানান। এ ছাড়া সব অভিযোগকে একত্র করে একটি অভিযোগে পরিণত করার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু আদালত সেই অনুরোধ খারিজ করে দেন। শুনানির সময় বিচারক বলেন, ‘নূপুর এবং তাঁর বাচালতা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। ’ নূপুর শর্মার মন্তব্য ‘একগুঁয়ে এবং উদ্ধত বৈশিষ্ট্যের’ বলেও উল্লেখ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। বিচারকরা বলেন, ‘তিনি কোনো দলের মুখপাত্র হয়েছেন তো কী হয়েছে? তিনি কি ধরে নিয়েছেন যে তাঁর পেছনে ক্ষমতা রয়েছে এবং তিনি দেশের আইনকে সম্মান না জানিয়ে যেকোনো মন্তব্য করতে পারবেন?’

বিচারকরা আরো বলেন, ‘এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ। তাঁর এসব মন্তব্য করার মানে কী? এসব মন্তব্য থেকে দেশে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে...এই মানুষগুলো ধার্মিক নয়। এদের অন্য ধর্মের প্রতি সম্মান নেই। ’

আদালত নূপুর শর্মার ‘সম-আচরণ’ ও ‘বৈষম্যহীনতার’ তর্ককেও তিরস্কার করেন। বিচারকরা বলেন, ‘আপনি যখন অন্যদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন, তখন তারা তাত্ক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার হয়, কিন্তু যখন এটি আপনার বিরুদ্ধে হয়, তখন কেউ আপনাকে ছোঁয়ার সাহস করেনি। ’

গত মাসে নূপুর শর্মার মন্তব্য নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল আরবসহ মুসলিম বিশ্বের অনেক দেশ। প্রায় ২০টি দেশে ব্যাখ্যা চেয়ে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়। দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশেও বের হয়েছিল প্রতিবাদ মিছিল। সে সময় ভারতে পুলিশের হাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন দুই প্রতিবাদকারী।

এ নিয়ে উত্তেজনার রেশ কাটেনি। মঙ্গলবার রাজস্থানে এক হিন্দু দরজিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ হত্যায় অভিযুক্ত ও গ্রেপ্তারকৃত দুই মুসলিম ব্যক্তি নিজেরা ওই হত্যার ভিডিও তুলে অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়। জানা গেছে, নিহত দরজি ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে নূপুর শর্মাকে সমর্থন করেছিলেন। এ কারণে তিনি কয়েকবার হুমকি পেয়েছিলেন। পুলিশ তাঁকে আটকও করেছিল।

এ ছাড়া গত সপ্তাহে মোহাম্মদ জুবায়ের নামের এক মুসলিম সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জুবায়ের মোদি সরকারের সমালোচক হিসেবে পরিচিত। নূপুর শর্মার বিতর্কিত মন্তব্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণে ভূমিকা রেখেছিলেন জুবায়ের। সূত্র : এনডিটিভি, এএফপি

 

 



সাতদিনের সেরা