kalerkantho

রবিবার । ১৪ আগস্ট ২০২২ । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৫ মহররম ১৪৪৪

অভিমত

পারিবারিক বন্ধন জোরদার ও স্কুলে কাউন্সেলিং জরুরি

উম্মে ওয়ারা

২ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পারিবারিক বন্ধন জোরদার ও স্কুলে কাউন্সেলিং জরুরি

উম্মে ওয়ারা

কিশোর-তরুণদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার নানা কারণ আছে। তবে প্রধান কারণ হলো পরিবারের অসচেতনতা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিংয়ের অভাব।

আমরা জানি যে বয়ঃসন্ধিকালে মানুষের মধ্যে কিছু পরিবর্তন আসে। এ কারণে কিশোরদের মধ্যে যে পরিবর্তন আসে সেটি তারা বুঝতে পারে না।

বিজ্ঞাপন

এই সময়ে হরমোনের কারণে তার শক্তির সূচক সবচেয়ে বেশি থাকে। নিজেকে হিরো হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে সে। এই হিরোইজম দেখানোর প্রবণতা মোটামুটি সবার থাকে। কিন্তু কারো কারো কাছে সহিংস হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। একটি কিশোর যখন বয়ঃসন্ধিকালে, তখন তার মধ্যে যে পরিবর্তন আসে সেটা সহিংসপ্রবণ কি না, সেটা পরিবারের মানুষজনই আগে দেখতে পায়। কিন্তু আমাদের সমাজে একটা ভুল ধারণা হচ্ছে, বাচ্চা যদি ছেলে হয়, তাহলে তার রাগ একটু থাকা ভালো। তখন তাদের এই রাগ পরিবার গুরুত্বসহকারে দেখে না। এটাকে পাশ কাটিয়ে চলে যায়। এ থেকে কিশোরদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যায়।

এ ছাড়া আমাদের মা-বাবাদের মধ্যে সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করার চেয়ে রাগী বা শাসন করার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এই কারণে বয়ঃসন্ধিকালে বাচ্চারা তার পরিবর্তন বা সমস্যাগুলো কারো কাছে খোলাখুলি বলতে না পেরে অসৎ সঙ্গ পেয়ে তাতে জড়িয়ে পড়ে। সেখান থেকে মাদক নেওয়া ও নানা অপরাধে যুক্ত হয়।

আমাদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে বয়ঃসন্ধিকালে বাচ্চাদের জন্য আলাদা করে কোনো কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা নেই। সেই কারণে কিশোরদের মানসিক ও শারীরিক যে পরিবর্তন, সেসব নিয়ে পরিবারের বাইরে কারো সঙ্গে কথা বলতে পারে না। কারো সঙ্গে কথা বলতে না পেরে তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয় এবং অপরাধপ্রবণতাও কাজ করে।

সাধারণত নিম্নবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের কিশোর-তরুণদের অপরাধে জড়িয়ে পড়াটা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। মধ্যবিত্ত পরিবারে এই প্রবণতা কিছুটা কম। এর কারণ হলো আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা। উচ্চবিত্ত পরিবারের কিশোররা ছোট থেকেই সব কিছু পেয়ে আসার কারণে তার মধ্যে কোনো কমতি থাকে না। যার কারণে বয়ঃসন্ধিকালে তার যে উত্তেজনা কাজ করে তাতে কোনো কমতি না থাকায় এটিকে ভালো জায়গায় ব্যবহার না করে খারাপ জায়গায় করে, যা তাদের অপরাধের দিকে নিয়ে যায়। আর নিম্নবিত্ত পরিবারে কিশোররা ছোট থেকেই দেখতে পায় যে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে তারা পিছিয়ে আছে। তাই তারা নিজেদের মধ্যে এমন একটি জগৎ তৈরি করে, যেখানে তারাই থাকে শক্তিশালী। তারা সেখানে নিজেদের শক্তিশালী করতে নানা ধরনের চক্র তৈরি করে।

এই অবস্থা থেকে বের হতে সমাজের কোন কোন বিষয়গুলো দিয়ে বয়ঃসন্ধিকালের কিশোর-তরুণদের নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সাধারণত দেখা যায়, কিশোর-তরুণদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ থাকলে, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলে, সমাজের নীতি-নৈতিকতার প্রতি আস্থা থাকলে তাদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা কাজ করে না।

তাই প্রয়োজন আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিবারের সঙ্গে ভালো বন্ধন, বিদ্যালয়ে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পরিবারের। পরিবারকে তার বন্ধু হতে হবে। বয়ঃসন্ধিকালে বন্ধু হয়ে তার পাশে থাকতে হবে। সে যেন নিঃসঙ্গ না হয়, মাদকের দিকে যেন না যায়, সেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, অপরাধবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 



সাতদিনের সেরা