kalerkantho

শনিবার । ২০ আগস্ট ২০২২ । ৫ ভাদ্র ১৪২৯ । ২১ মহররম ১৪৪৪

আশুলিয়ায় শিক্ষক খুন

সেই জিতু বহিষ্কার, আজ খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি

সাভার প্রতিনিধি   

২ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সেই জিতু বহিষ্কার, আজ খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি

ঢাকার আশুলিয়ায় শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বন্ধ থাকা আশুলিয়ার হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে আজ শনিবার থেকে ক্লাস শুরু হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি থেকে বখাটে আশরাফুল ইসলাম জিতুকে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার কথা বিবেচনা করে গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় আশুলিয়ার চিত্রশাইলে হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঢাকা জেলা পুলিশের মতবিনিময়সভা হয়। সভা শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ক্লাস শুরুর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার।

স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উৎকণ্ঠা আর আতঙ্ক এখনো কাটেনি। তারা স্কুলে নিয়মিত পুলিশ টহল ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দাবি করেছে।

মতবিনিময় সভায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শিক্ষক উৎপল কুমারের হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে ধন্যবাদ জানায়। পাশাপাশি হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিহতের পরিবারের ক্ষতিপূরণ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি করে তারা। এ ছাড়া তারা বিভিন্ন সময় বখাটেদের ইভ টিজিংসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে।

এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মুন্নী আক্তার মিম বলেন, ‘পুলিশ যেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যেতে সহযোগিতা করে। আমরাও পড়ালেখার মাধ্যমে আমাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চেষ্টা করব। বখাটে জিতু ও তার বাবা গ্রেপ্তার হয়েছে। যাঁরা আমাদের পাশে ছিলেন সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। ’

হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষক উৎপলের হত্যাকারী বখাটে জিতুকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমরা ঘটনার পরই তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করি। আমাদের আতঙ্ক এখনো কাটেনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে ও আশপাশে এখনো অনেক বখাটের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে শিক্ষকতা করছেন। আমরা বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে এসেছি। এখানকার শিশুদের শিক্ষায় আলোকিত করছি। যদি আমরা নিরাপত্তা না পাই তাহলে থাকা অসম্ভব। অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। তাঁরা বারবার ফোন করে তাঁদের আতঙ্কের কথা জানাচ্ছেন। আমরা সাহস দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে অনুরোধ করব, স্কুল চলাকালীন পুলিশ টহলের ব্যবস্থা যেন থাকে। পাশাপাশি এই হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি। আমাদের সঙ্গে সাভারের বেশির ভাগ স্কুল ও কলেজ একাত্মতা প্রকাশ করেছে। ’

সভায় পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহলের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার কথাও জানান তিনি।

মতবিনিময়সভা শেষে গতকাল বিকেল থেকে পুলিশের একাধিক দল ওই এলাকাসহ আশপাশের বখাটেদের তথ্য সংগ্রহ করার কাজ শুরু করেছে।

শিক্ষক হত্যার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার এসআই এমদাদুল হক বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে গোপনে বখাটে ও অপরাধীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া গ্রেপ্তার জিতুর সঙ্গে আরো কোনো বখাটে জড়িত আছে কি না সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মূল কথা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আমরা কাজ করছি। ’

তিনি আরো বলেন, ‘জিতু ও তার বাবা রিমান্ডে আছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আশা করি জিতু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবাবনবন্দি দেবে। সেই দিক মাথায় রেখে তদন্তকাজ চলছে। এ ছাড়া ঘটনায় আরো কেউ জড়িত আছে কি না সে বিষয়গুলো জানার চেষ্টা চলছে। ’

প্রসঙ্গত গত শনিবার দুপুরে আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকায় হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে প্রকাশ্যে শিক্ষক উৎপলকে ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে আঘাত করে শিক্ষার্থী জিতু। পরে শিক্ষককে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এদিকে শিক্ষককে হামলার ঘটনার দিন থেকে হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের সব কার্যক্রম বন্ধ করে বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় নিহত শিক্ষকের ভাই বাদী হয়ে মামলা করেন। পরে ২৮ জুন রাতে কুষ্টিয়া থেকে জিতুর বাবা উজ্জ্বল হাজিকে এবং ২৯ জুন গাজীপুর থেকে জিতুকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে জিতু পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছে। একই সঙ্গে জিতুর বাবা উজ্জ্বল হাজিও পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

 

 



সাতদিনের সেরা