kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

প্রধানমন্ত্রী বললেন

জনগণের সাহসে নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু সম্ভব হয়েছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৮ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জনগণের সাহসে নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু সম্ভব হয়েছে

শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। জনগণের সাহস ও সহযোগিতার কারণেই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করা সম্ভব হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল সোমবার সকালে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য তাঁর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে আর্থিক অনুদান গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করে এসব কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদানের চেক হস্তান্তর করে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তাঁর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস অনুদান গ্রহণ করেন।

বাসসের খবরে বলা হয়, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সাফল্যের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশেরই এক ব্যক্তির প্ররোচনায় বিশ্বব্যাংক যখন পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়, পাশাপাশি অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরাও সরে দাঁড়ায়, তখন আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করব। তখন দেশের জনগণের পাশাপাশি আপনারাও অনেকে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে জন্য আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। ’ দেশের জনগণই তাঁর ‘সবচেয়ে বড় শক্তি’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের সাহস এবং সহযোগিতা ও তারা পাশে থাকায় আমরা আমাদের নিজস্ব টাকায় এই পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছি। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সারা দেশে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করছে, কারণ উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তিনি বলেন, ‘আমরা রেল যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত, নতুন নতুন রেলপথ স্থাপন এবং সেতু নির্মাণের পাশাপাশি ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীগুলো খনন করছি। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করে এবং বাণিজ্য ও ব্যবসা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ’

পুরো দেশেই সরকার সেতু ও উন্নত সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলে যোগাযোগের একটা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এসবের পাশাপাশি নদীগুলো ড্রেজিং করে নৌপথও আমরা সচল করেছি। আমাদের পূর্ববর্তী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার রেল যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বন্ধই করে দিয়েছিল। ’

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ৪৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান মোট ৩০৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা অনুদান দেয়। এগুলো হলো সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বিডিবিএল, ইডকল, বিআইএফএফএল, এক্সিম ব্যাংক, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ডাচ্ বাংলা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, যমুনা ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেট বিভাগে পর পর তিনবার বন্যা হলো। সেখানে যেমন ফসলের ক্ষতি হয়েছে, তেমনি ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানি যখন নেমে আসছে, তখন নেত্রকোনা, কুড়িগ্রাম লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তিনি এ দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও দুর্বিপাকে মানবিক সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসায় এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধন্যবাদ জানান।  

প্রধানমন্ত্রী এ সময় করোনার প্রাদুর্ভাব আবার বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সবাইকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলার এবং মাস্ক ব্যবহারের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।



সাতদিনের সেরা