kalerkantho

শনিবার । ১৩ আগস্ট ২০২২ । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৪ মহররম ১৪৪৪  

বন্যা পরিস্থিতি

ত্রাণের হাসি কষ্টে ম্লান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ত্রাণের হাসি কষ্টে ম্লান

পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে সিলেট ও মৌলভীবাজারে ত্রাণ তৎপরতা বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে বেসরকারি উদ্যোগে এসব এলাকায় অনেক ত্রাণ যায়। আর আগে থেকেই অব্যাহত আছে সরকারি ত্রাণ কার্যক্রম। ত্রাণ পেয়ে অনেকের মুখে হাসি ফুটে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

তবে পরমুহূর্তেই হাসি ম্লান হয়ে যাচ্ছে। ঘরসহ সহায়-সম্পদ বিনষ্ট হওয়ার কষ্ট তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাদের। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জে মানুষ এখনো ত্রাণের জন্য ছুটছে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো বন্যাবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল বলা হয়, দেশে গত ১৭ মে থেকে গতকাল পর্যন্ত বন্যার মধ্যে মোট ৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে ১৬, সুনামগঞ্জে ২৬, ময়মনসিংহে ৫, নেত্রকোনায় ৮, জামালপুরে ৬, শেরপুরে ৩, লালমনিরহাট ১, কুড়িগ্রামে ৩, হবিগঞ্জে ২ ও মৌলভীবাজারে তিনজনের মৃত্যু হয়।

সিলেট সদর, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, জৈন্তাপুরে কয়েক দিন ধরে পানি কমতির দিকে। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছে, পানি নামছে খুব ধীরে। এতে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের বাড়ি ফেরা বিলম্বিত হচ্ছে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, সব কটি নদীর পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগের দিনের তুলনায় গতকাল কিছুটা কমেছে। এর মধ্যে কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি আগের দিনের তুলনায় ১৩ সেন্টিমিটার কমেছে। সিলেট পয়েন্টে সুরমার পানিও আট সেন্টিমিটার কমেছে। বিয়ানীবাজারের শেওলা এবং ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি অপরিবর্তিত আছে।

কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলেটের জকিগঞ্জ, কানাইঘাটের একাংশ, বিয়ানীবাজার, বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর, ও ফেঞ্চুগঞ্জে কয়েক দিন ধরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছিল। তবে গতকাল অবস্থা অপরিবর্তিত ছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে পানি বাড়েনি। বরং ওসমানীনগর, বালাগঞ্জে পানি আগের দিনের তুলনায় গতকাল কিছু কম ছিল।

গতকাল ছুটির দিনে বিভিন্ন উপজেলায় বেসরকারি উদ্যোগে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। সদর উপজেলার সোনাতলা বাজারের রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী জমির মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারি ত্রাণ কতটুকু আসছে না আসছে জানি না; কিন্তু সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে প্রচুর পরিমাণে ত্রাণ এসেছে এলাকায়। ’

একই চিত্র ছিল কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাটসহ বিভিন্ন উপজেলায়। সবচেয়ে বেশি ত্রাণ তৎপরতা যেসব এলাকায় দেখা গেছে তার মধ্যে অন্যতম কোম্পানীগঞ্জ। উপজেলার থানা বাজার এলাকার শহিদুল ইসলাম শাহজাহান বলেন, ‘অন্তত ৩৫টি ছোট-বড় সংগঠন ত্রাণ নিয়ে এসেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের ত্রাণ হবে। মানুষও ত্রাণ পেয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরছে। ’

সুনামগঞ্জে নদীতীরবর্তী অঞ্চল থেকে পানি কমছে। তবে হাওর এলাকা থেকে পানি ধীরে নামছে। দুর্গতরা বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। গো-চারণভূমি এখনো পানির নিচে। গবাদি পশু বাঁচাতে পানিতেই ছেড়ে দিয়েছেন কৃষকরা। গতকাল জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, বিআইডাব্লিউটিএ, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনীসহ সরকারি-বেসরকারিভাবে বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণবাহী নৌকা দেখলেই মানুষ পাগলের মতো ছুটে আসছে।

মৌলভীবাজার বন্যা পরিস্থিতি অনেকটা অপরিবর্তিত। মনু ও ধলাই নদীর পানি কিছুটা কমলেও কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়ার কারণে হাকালুকি হাওরের পানি বাড়তির দিকে। বিশুদ্ধ খাবার পানি, খাদ্যসংকটসহ পানিবাহিত রোগে ভুগছে লোকজন।

হাকালুকি হাওরের তীরবর্তী বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া উপজেলার মানুষ দুর্ভোগে। তবে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো সাধ্যানুযায়ী দুর্গতদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। তাদের ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে বেশির ভাগই শুকনা খাবার।

হাকালুকি হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত ভুকশিমইল ইউনিয়নের বন্যাদুর্গত অনেকেই জানালেন, তাঁরা অর্ধহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

হবিগঞ্জ জেলার সাতটি উপজেলার মোট ৫৪টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত। এর মধ্যে গতকাল নতুন করে প্লাবিত হয় তিনটি ইউনিয়ন। জেলার ৩৪৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ২১ হাজার ২০২ জন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সরকারিভাবে গতকাল পর্যন্ত ৪১৫ মেট্রিক টন চাল এবং তিন হাজার ৪০০ প্যাকেট শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছে।

নেত্রকোনায় বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও ভিটামাটিতে এখনো পানি। বন্যার্ত মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়তে পারছে না। গতকাল কলমাকান্দার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও শিশুখাদ্যের সমস্যা প্রকট। শিশুরা পেটের অসুখে ভুগছে। কলমাকান্দার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৪৩টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। এই কেন্দ্রে উপজেলার মুক্তিনগর থেকে এসেছেন পান্না রানী সরকার। তিনি বলেন, ‘এই এলাকায় সব টিউবওয়েল পানিতে ডুবে গেছে। খাবার পানির খুবই সংকট। শিশুদের বাইরে থেকে কিনে পানি পান করাচ্ছি। ’

{প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা}



সাতদিনের সেরা