kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

গোয়াইনঘাট

দুর্গম ইউনিয়নটিতে ত্রাণ কম যাচ্ছে

তামজিদ হাসান তুরাগ, সিলেট থেকে   

২৪ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুর্গম ইউনিয়নটিতে ত্রাণ কম যাচ্ছে

সিলেট সদর থেকে অটোরিকশায় ৩০ মিনিটের পথ সালুটিকর বাজার। বাজার থেকে এক ঘণ্টার নদীপথ। এরপর গোয়াইনঘাট উপজেলায় নন্দীরগাঁও ইউনিয়ন। ভারতের মেঘালয় থেকে আসা ঢলে প্রথমেই তলিয়েছিল এই ইউনিয়ন।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু সেখানে খুব একটা ত্রাণ যাচ্ছে না।

এলাকাবাসী বলছে, তাদের এই বন্যার্ত অঞ্চলে যাওয়া-আসার একমাত্র বাহন নৌকা। আর নৌকায় করে ভেতরের দিকে কেউ যেতে চায় না। তাই ত্রাণও কম যাচ্ছে সেখানে।

গোয়াইনঘাট উপজেলার মোট ১২টি ইউনিয়ন। সেগুলো হলো লঙ্গুরা, রুস্তমপুর, ফতেপুর, পশ্চিম জাফলং, পূর্ব জাংফল, পূর্ব আলীরগাঁও, নন্দীরগাঁও, তোয়াকুল, ডৌবাড়ি, পশ্চিম আলীরগাঁও, মধ্য জাফলং, গোয়াইনঘাট সদর। এই উপজেলার সব ইউনিয়নে এখনো কোমর পানি।

সরেজমিনে গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের ৫, ৮, ৯ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, পানি কমলেও দুর্ভোগ বাড়ছে। বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকট। স্থানীয়রা জানায়, সেখানে সরকারি ত্রাণ যায়নি। বেসরকারি ত্রাণ গেছে মাত্র এক দিন।

৫ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরীকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মো. রহমত আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা আজ ছয় দিন ধরে পানিবন্দি। সরকারি কোনো ত্রাণ পাইনি। আমাদের এখানে আসতে অনেক কষ্ট হয়। তাই অনেকে ত্রাণ নিয়ে আসে না। গত ছয় দিনের মধ্যে আজ একটা ত্রাণ পাইছি। তার মধ্যে ছিল চিড়া, মুড়ি আর বিস্কুট। ’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রথমে বন্যার পানি আমাদের এলাকা দিয়ে যাওয়া শুরু করে। কিন্তু আমরাই এখন পর্যন্ত ত্রাণ পাইনি। ’

কান্দি গ্রামে আরো ১১০ পরিবারের বাস। তাদের বেশির ভাগের বক্তব্য একই রকম। গ্রামের শাহজাহান আহমেদ বলেন, ‘আমরা দুই দিন আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলাম, সেখানে কিছু ত্রাণ পেয়েছি। কিন্তু বাড়িতে আসার পর আমরা আর কোনো ত্রাণ পাইনি। এদিকে কেউ ত্রাণ নিয়ে আসে না। সবাই শহরের দিকে ত্রাণ দেয়। ’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার বাড়িতে দুটি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তাদের দুজনের বাড়ি বন্যায় ভেসে গেছে। তারাও অনেক কষ্টে আছে। ’ আশ্রয় নেওয়াদের একজন জমিলা খাতুন (৭৮) কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সব বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। আমাদের এটা হাওর এলাকা হওয়ায় বাড়িঘর বাতাসে ভেঙে গেছে। আমার কোনো যাওয়ার রাস্তা নেই। আমি এই বাড়িতে আজ দুই দিন আছি। আর কত দিন থাকতে হবে কে জানে!’

এলাকার সবচেয়ে বড় বাড়িটি মন গোপালের। পেশায় কাঠমিস্ত্রি মন গোপাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার বাড়ি কখনো বন্যার পানিতে ভাসেনি। কিন্তু এবার আমার বাড়িতেও গলাপানি ছিল। আমরা অনেক কষ্টে আশ্রয়কেন্দ্রে গেছিলাম। ’

কথা হয় এই এলাকার বাসিন্দা জয়জর আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দুঃখের কথা কী আর বলব। আমার ঘরে ধান ছিল ৪০ মণ। আমি কৃষক মানুষ, সব ধান ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। আজ পাঁচদিন পর বাড়ি ফিরলাম, পানি আগের তুলনায় কিছুটা কম। এখন এক বস্তা ধান আছে, তা-ও পচে গেছে প্রায়। এখন সেগুলো শুকাতে নিয়ে যাচ্ছি। ’

তাঁর সঙ্গে কথা বলতে বলতে চলে আসেন আরেক বাসিন্দা আবদুর রহমান । তিনি বলেন, ‘এ রকম ভয়াবহ বন্যা আগে কখনো দেখিনি। আমাদের এখানে এবারই এমন বন্যা হয়েছে। এখান থেকে আশ্রয়কেন্দ্র প্রায় চার কিলোমিটার দূরে। খুব কষ্ট করে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। ’

গোয়াইনঘাটের এই উপজেলায় বাড়ছে শিশুদের ঠাণ্ডাজনিত রোগ। আট মাস বয়সী নাতি আব্দুর রাহিমকে নিয়ে সালুটিকর বাজারে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন জোছনা বেগম। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নাতির ঠাণ্ডা লেগেছিল, তাই ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। তার হালকা জ্বর আর সর্দি ছিল। এলাকার ঘরে ঘরে শিশুদের ঠাণ্ডা জ্বর, সর্দি লাগছে। ’

 

 



সাতদিনের সেরা