kalerkantho

শুক্রবার । ১ জুলাই ২০২২ । ১৭ আষাঢ় ১৪২৯ । ১ জিলহজ ১৪৪৩

সুনামগঞ্জ

সব ভেসে গেছে পারুলের

শামস শামীম, সুনামগঞ্জ   

২৩ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সব ভেসে গেছে পারুলের

পারুল বেগমের স্বামী বেঁচে নেই। তাই নিজেই দিনমজুরি করে পাঁচ সন্তানের মুখে আহার জোগাতেন। কখনো কখনো না খেয়েও থাকতেন। মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না।

বিজ্ঞাপন

তাঁর অসহায়ত্ব নাড়া দেয় এলাকাবাসীকে। তারা চাঁদা তুলে তাঁকে টিনের ঘর বানিয়ে দেয়। সেই ঘরটির অংশবিশেষ বন্যায় ভেসে গেল। ভাঙা ঘরের খাটে সন্তান নিয়ে আছেন তিনি।

বন্যায় পারুলের ঘরের হাঁড়ি-পাতিলও ভেসে গেছে। কিছু খাদ্যসামগ্রী জমিয়ে রেখেছিলেন। সেগুলোও ভেসে গেছে।

পারুল বেগমের (৪০) বাড়ি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উড়াকান্দা আমিরপুর গ্রামে। পাহাড়ি ঢল নামলে ঘর তলিয়ে যায়। তখন শিশুদের নিয়ে খড়ের গাদার ওপর আশ্রয় নিয়েছিলেন। এখন পানি নামার পর এসে দেখেন, তাঁর ঘরের মেঝেতে বিরাট গর্ত। ঘরের খুঁটি, টিন ও দরজা ভেসে গেছে। শুধু খাট রয়ে গেছে। সেটার ওপর বসে কাঁদছেন তিনি। সন্তানদের নিয়ে কোথায় থাকবেন, কিভাবে চলবেন—কিছুই ভেবে পাচ্ছেন না।

পারুল গ্রামের প্রয়াত রহিম আলীর কন্যা ও প্রয়াত কোরবান আলীর স্ত্রী। তাঁর মা-বাবা নৌকা ডুবে এবং স্বামী নদীতে বালুচাপায় মারা যান।

গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় উড়াকান্দা আমিরপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ছোট গ্রামটি এখনো ডুবে আছে। গ্রামের বসতভিটা থেকে পানি নামলেও পুকুরের মতো হয়ে গেছে উঠান, ঘরের কাঁচা মেঝে। এ সময় দেখা যায়, সুনামগঞ্জ-২৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাহবুবুর রহমান গ্রামে বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনা খাবার ও ত্রাণ দিচ্ছেন। পারুলকে সেখানে পাওয়া যায়। তাঁকেও এক প্যাকেট ত্রাণ দেওয়া হয়। ত্রাণ পেয়ে পারুলের চোখে পানি চলে আসে।

পারুলের অসহায়ত্বের বিষয়ে গ্রামবাসীর কাছে জানতে পেরে এই প্রতিবেদক তাঁর সঙ্গে যান। তাঁর ঘরের সামনে গিয়ে দেখেন, ঘরের অর্ধেক ভেসে গেছে। বাশের খুঁটির বেশির ভাগই বন্যার তোড়ে ভেসে গেছে। যেগুলো আছে সেগুলো বাঁকা হয়ে গেছে। অন্যান্য জিনিসের সঙ্গে বিছনাপত্রও ভেসে গেছে। ঘরের এক পাশে খাটে পাঁচ সন্তানকে নিয়ে থাকছেন তিনি।

উড়াকান্দা আমিরপুর গ্রামের মিনারা খাতুন বলেন, ‘পারুল অসহায়। কাম কইরা পাঁচ বাচ্চারে নিয়া কষ্ট কইরা চলে। আমরার গেরামের মানুষ চান্দা তুইল্যা তারে সস্তা টিন দিয়া একখান কাঁচা ঘর বানাইয়া দিছিল। হেই ঘরখানা বিষিতবার বইন্যায় ভাসাইয়া নিছেগা। সে বাইচ্চা কাইচ্চারে নিয়া গরুঘরের উপরে খেড়ের মইধ্যে আশ্রয় নিছল। ’

একই গ্রামের মো. আবু সিদ্দিক বলেন, ‘পারুল এতিম। পাঁচ বাইচ্চা নিয়া হে অসহায় আছে। ইবারের বইন্যায় তার ঘরের সব জিনিসপত্র ভাসাইয়া নিছে। তার কুন্তা (কোনো বস্তু) অবশিষ্ট নাই। এখন কিভাবে থাকবে সে?’

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইউনুস আলী বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডের একটি ঘরদোর বাকি নেই নিমজ্জিত হওয়ার। সবার অবস্থা করুণ। কারণ বেশির ভাগ মানুষেই দরিদ্র, ঘরবাড়ি কাঁচা। সবার খাবারদাবার ধান-চাল, বাসন-কোসন বন্যায় ভেসে গেছে। মানুষের ভয়াবহ অবস্থা। ’



সাতদিনের সেরা