kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

মেহেরপুরের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি সুদৃঢ় হবে

ইয়াদুল মোমিন, মেহেরপুর   

২১ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেহেরপুরের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি সুদৃঢ় হবে

কৃষিতে সমৃদ্ধ জেলা মেহেরপুর। তাই পদ্মা সেতু নিয়ে উচ্ছ্বসিত মেহেরপুরের কৃষক ও কৃষির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। তাদের মতে, সেতু চালু হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে জেলার কৃষি ও পরিবহন খাত, বিশেষ করে কৃষিক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে, সুদৃঢ় হবে জেলার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মেহেরপুরে কাঁচা মরিচ, শিম, বেগুন, আলু, পটোল, কচু, শসা, আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ধরনের ফলমূল ও শাক-সবজি উৎপাদন হয়।

বিজ্ঞাপন

এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ঢাকায় পাঠানো হয়। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে অনেক সময় পথেই এসব কাঁচাপণ্য নষ্ট হয়ে যায়, বিশেষ করে ফেরিঘাটে অপেক্ষায় থাকতে হয় বলে ঝুঁকি থাকে বেশি। এসব পণ্য ঢাকায় নিতে সময়ও বেশি লাগে, খরচও বেশি পড়ে।

বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ মেহেরপুর জেলার শাখার সভাপতি অধ্যাপক হাসানুজ্জামান মালেক বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে মেহেরপুর থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে সরাসরি বাড়বে যোগাযোগ। ফলে অন্যান্য জেলার ক্রেতারা এ জেলার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি কৃষিপণ্য কিনতে পারবেন। এতে কৃষকরা লাভবান হবেন। তিনি বলেন, ‘এক শ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী আমাদের কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে পণ্য কিনে নিয়ে যায়। সেতু হলে কৃষকরা যখন সরাসরি মূল কৃষি মার্কেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবেন, তখন তাঁরা দামটাও ভালো পাবেন। ’

মেহেরপুরের কৃষক ডাবলু হোসেন প্রতিবছর দেড় শ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন। তিনি বাসসকে বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে দাম ভালো না পেলে ঢাকাসহ দেশের যেকোনো স্থানে সবজি বাজারজাত করতে পারব। আর লোকসানের আশঙ্কা থাকবে না। ফেরি পারাপারে প্রায় ১৮ ঘণ্টা সময় লেগে যায় রাজধানীতে পৌঁছতে। ট্রাকভাড়া দিতে হয় দেড় গুণ। পদ্মা সেতু চালু হলে পরিবহন খরচ ও সময় দুটিই বেঁচে যাবে। চার ঘণ্টায় ঢাকায় গিয়ে পণ্য বিক্রি করে আবার ফিরে আসা যাবে। ’

বাসসের খবরে বলা হয়, এ বছর ৭১৬ বর্গকিলোমিটারের এই জেলায় ১১ লাখ এক হাজার ১০০ হেক্টর জমি চাষযোগ্য। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ হয়। উৎপাদিত সবজির বেশির ভাগ ঢাকা ও বরিশালে বিক্রি হয়।

জেলার গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের সবজি চাষি মহিবুল ইসলাম ও তহসেন আলীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তাঁদের গ্রামের কৃষকরা সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদন করে থাকেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকার কারণে এত দিন মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে জিম্মি ছিলেন এলাকার শত শত সবজি চাষি। সেতু হলে এমনটা থাকবে না।

মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন বলেন, পদ্ম সেতু সারা বাংলাদেশে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় দিগন্ত উন্মোচন করবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সেতুর কারণে মেহেরপুরের সবজি, ধান, পাটসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য সহজেই যুক্ত হবে জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে। ফলে মেহেরপুর জেলার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ভিত্তি আরো সুদৃঢ় হবে।

 

 



সাতদিনের সেরা