kalerkantho

সোমবার । ১৫ আগস্ট ২০২২ । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৬ মহররম ১৪৪৪

দগ্ধ ৩৩ জনের চোখ ক্ষতিগ্রস্ত

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১২ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দগ্ধ ৩৩ জনের চোখ ক্ষতিগ্রস্ত

দগ্ধ নজরুলের স্ত্রী-সন্তান

সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনায় মোহাম্মদ আরিফ নামে এক যুবকের শরীরের ৬ শতাংশ পুড়ে গেছে। চোখের কর্নিয়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আট দিন ধরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

গতকাল শনিবার দুপুর ১টার দিকে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ড থেকে আরিফকে চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগে আনা হয় ক্ষতিগ্রস্ত চোখ পরীক্ষার জন্য।

বিজ্ঞাপন

এ সময় আরিফের চোখ দেখে চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক তনুজা তানজিন এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘তাঁর দুই চোখের কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চোখ লালচে হয়ে গেছে। মণি সাদা হয়েছে। চিকিৎসা চলছে। ’ তিনি জানান, কেমিক্যাল চোখে পড়ার কারণে আরিফের কর্নিয়ার সমস্যা হয়েছে।

বিভাগীয় প্রধান জানান, তাঁদের ওয়ার্ডের পাশাপাশি হাসপাতালের অন্যান্য ওয়ার্ডে চোখের সমস্যা নিয়ে ৩৩ জন চিকিৎসাধীন। এই রোগীদের কমবেশি কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তাঁদের দৃষ্টিশক্তি কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা এখনই বলা যাবে না। আরো এক সপ্তাহ পর জানা যাবে দৃষ্টিশক্তিতে কী রকম প্রভাব পড়েছে।

চিকিৎসকরা জানান, সীতাকুণ্ডের ওই দুর্ঘটনায় মোহাম্মদ মোরশেদ (৩৫) নামে এক যুবকের বাঁ চোখ ফেটে যায়। ওই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন তিনি। হাসপাতালের ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন মোরশেদ।

বিভাগের চিকিৎসক লিপিকা ঘোষ বলেন, ‘আমাদের ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীনদের মধ্যে গত ৭ জুন মোরশেদসহ পাঁচজনকে (সাইদুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইসমাইল, জসিম উদ্দিন ও মঈন উদ্দিন) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাঁদের সবার কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ’

জানতে চাইলে অধ্যাপক তনুজা তানজিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের আশঙ্কা কারো কারো কর্নিয়া সাদা হয়ে যেতে পারে। এতে চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে। এটা ভয়ের বিষয়। তবে আমরা আশাবাদী চিকিৎসায় সবাই সুস্থ হয়ে উঠবেন। ’

এর আগে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেডিক্যালে রোগীদের দেখার পর ন্যাশনাল আই কেয়ারের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক দীন মোহাম্মদ নুরুল হক বলেন, ‘চিকিৎসাধীন ৬৩ জন রোগীকে আমি দেখেছি। তাঁরা কোনো না কোনোভাবে চোখে আঘাত পেয়েছেন। এখানে কয়েকজন রোগী রয়েছেন, যাঁদের চোখে বেশি ক্ষতি হয়েছে। আবার কয়েকজন রোগী শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে আঘাত পেয়েছেন, তাঁরাও কোনো না কোনোভাবে চোখে আঘাত পেয়েছেন। ’

বিস্ফোরণে নূর হোসেন নামে এক যুবকের ডান চোখ, কাঁধ ও পিঠ ঝলসে যায়। কাঁধ ও পিঠের চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ বোধ করলেও ওই যুবক ডান চোখে ঝাপসা দেখছেন।

এদিকে চিকিৎসাধীন অনেকেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। চোখের কর্নিয়া সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় তাঁদের স্বজনরা খুব চিন্তায় আছেন।



সাতদিনের সেরা