kalerkantho

শনিবার । ২৫ জুন ২০২২ । ১১ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

অস্ত্র ও হেলমেটধারীরা গ্রেপ্তার হয়নি

তিন মামলায় ১৩০০ আসামি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



তিন মামলায় ১৩০০ আসামি

রাজধানীর হাইকোর্ট মোড়, দোয়েল চত্বরসহ আশপাশের এলাকায় ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে হেলমেট পরে অংশ নেওয়া অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা গ্রেপ্তার হননি। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের খোঁজ চলছে। ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ৩১টি ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, সংঘর্ষে লিপ্ত একজন আগ্নেয়াস্ত্রধারীকে ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী বা নেতা, তা জানার চেষ্টা চলছে। ঘটনায় আরো কোনো অস্ত্রধারী ছিলেন কি না, থাকলে তাঁরা কারা এবং লাঠি, রড হাতে যাঁরা মারমুখী ছিলেন তাঁদের খোঁজ করা হচ্ছে।

সূত্র জানিয়েছে, গত দুই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ আশপাশের এলাকা ও কয়েকটি জেলায় ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত তিনটি মামলা হয়েছে। এতে ছাত্রদল, বিএনপির কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয়সহ মোট এক হাজার ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আর গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত সারা দেশে ৫৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানিয়েছে, তিনটি মামলার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মঙ্গলবারের ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ৪০০ জনকে আসামি করে বুধবার শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ মামলায় দুজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। আবার ক্যাম্পাসের ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মশাল মিছিল করে ছাত্রদল। ওই সময় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়াধাওয়ি হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী এবং ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ১৫০ জনকে আসামি করে পল্টন থানায় মামলা করেছে পুলিশ।

এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার খুলনা সদরে সংঘর্ষের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় ৮০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এতে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ৪২ জন। তবে একই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসংলগ্ন হাইকোর্ট মোড়, দোয়েল চত্বরসহ আশপাশের এলাকায় ছাত্রলীগ ও

 ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, মামলা হবে। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা, সরকারি মালামাল ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের সম্পর্কে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে।

ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনোকুল ইসলাম শ্রাবণ দাবি করেছেন, দুই দিনে ছাত্রদলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ছাত্রলীগ তাঁদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। ছাত্রদল এ ঘটনায় মামলা করবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাঁরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে ছাত্রদলের অন্য এক নেতা বলেন, থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তাঁদের হয়রানি করে। গ্রেপ্তারও করা হয়।

তাঁর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, শুধু ছাত্রদল নয়, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে যে কেউ চাইলে থানায় মামলা করতে পারেন। এতে তারা কোনো বাধা দেন না।

হেলমেট-অস্ত্রধারী কারা?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সংঘর্ষ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শাহদীন মালিক হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘প্রথম কথা হলো বিশ্বের যেসব দেশে গণতন্ত্র যত সংকুচিত হয়, সেই সব দেশে সংঘাত-সংঘর্ষ এবং রাজনীতির নামে সহিংসতা ক্রমে বৃদ্ধি পায়। এটাই আমাদের দেশে হচ্ছে। এগুলো ধীরে ধীরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ছে। এর প্রতিফলনই আমরা আদালত প্রাঙ্গণে দেখলাম। এর আশু প্রতিকারের সত্যিকার কোনো উপায় এখন আর নেই। এই সব মেনে নিয়েই আমদের চলতে হবে। ’

এ বিষয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল বলেন, ‘আমাদের ওপর হামলার ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও চোখ বন্ধ করে রেখেছে। প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন এবং গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটার পরও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ’

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্রলীগ হামলা করেনি বরং দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা করেছে ছাত্রদল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী প্রথম দিনের সংঘর্ষের পর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ক্যাম্পাসে বছরের পর বছর ধরে সহাবস্থান চলছে। ক্যাম্পাসে কী এমন হয়েছে, জঙ্গি মনোভাব নিয়ে সন্ত্রাস সৃষ্টি করার জন্য লাঠিসোঁটা হাতে ক্যাম্পাসে ঢুকতে হবে? প্রক্টর বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বলা হয়েছে, কার কী রাজনৈতিক পরিচয়, সেটি বিবেচ্য বিষয় নয়। ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে ভোরবেলা যারা সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। কী ঘটেছে, সে বিষয়ে প্রক্টরিয়াল টিমের কাছেও প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে?

আহত ছাত্রদলকর্মী হাসপাতালে

গত বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের হামলায় শাহাবুদ্দিন শিহাব নামে ছাত্রদলের আহত এক কর্মীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ভর্তি করা হয়েছে। তিনি নিজেকে ঢাকা মহানগর (উত্তর) ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে দাবি করেছেন, মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় হাইকোর্ট মোড় পার হতেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিতে আমাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় তিনি মাথায় আঘাত পান।

শাহবাগ থানার ওসি মওদুদ আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গাড়ি ভাঙচুরসহ কয়েকটি অভিযোগে একটি মামলা করছে। তবে হামলার বিষয়ে ছাত্রদল কোনো অভিযোগ করেনি।

 



সাতদিনের সেরা