kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জুন ২০২২ । ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৯ জিলকদ ১৪৪৩

যে কারণে অস্ত্র আইন আটকে যায় কংগ্রেসে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



যে কারণে অস্ত্র আইন আটকে যায় কংগ্রেসে

শিক্ষাঙ্গন ও বিপণিকেন্দ্রসহ জনসমাগমের স্থানে প্রায়ই গণগুলির ঘটনা ঘটছে যুক্তরাষ্ট্রে। আগ্নেয়াস্ত্রের সহজলভ্যতা এর বড় কারণ বলে মনে করা হয়। বড় বড় হত্যাযজ্ঞের পর অনেকবারই অস্ত্র আইন সংশোধনের প্রস্তাব উঠলেও শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় আইনসভার পর্যায়ে গিয়ে প্রবল বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে প্রস্তাবগুলো।

মার্কিন সংবিধানে আত্মরক্ষার্থে প্রত্যেক নাগরিকের অস্ত্র রাখার অধিকার সংরক্ষিত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আগ্নেয়াস্ত্রের পক্ষের লোকজন এ সাংবিধানিক বিধানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। রিপাবলিকান দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কয়েক কোটি সদস্যের অতি প্রভাবশালী সংগঠন ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন (এনআরএ) অস্ত্র রাখার অধিকারের পক্ষের এক বিরাট লবি। আইনে কঠোরতা আনা ঠেকাতে তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করে থাকে।

কিন্তু ঠিক কী কারণে প্রতিবার মার্কিন কংগ্রেসে আটকে যাচ্ছে অস্ত্র আইন? বর্তমানে পুরো বিষয়টি আসলে কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে?

ফাঁকফোকর বন্ধে নেই পর্যাপ্ত সমর্থন

অস্ত্র বিক্রির আগে ক্রেতার অতীত কর্মকাণ্ড প্রশ্নে খোঁজখবরের (ব্যাকগ্রাউন্ড চেক) বিষয়টি থাকলেও কিছু ফাঁকফোকরের কারণে অনেক সময় তা করা হয় না। বিষয়টি ‘চার্লসটন লুপহোল’ নামে পরিচিত। এটি কাজে লাগিয়ে শ্বেতাঙ্গ এক অস্ত্রধারী বৈধভাবেই অস্ত্র কিনে ২০১৫ সালে ৯ জনকে হত্যা করেছে।

সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জিম ক্লিবার্নের প্রস্তাবিত ২০২১ সালের দ্য এনহান্সড ব্যাকগ্রাউন্ড চেক আইন এ সমস্যার ইতি টানতে পারে।

এরই মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া এ আইন মূলত অস্ত্র কেনার জন্য অপেক্ষার সময় বাড়িয়ে দেবে। এতে করে লাইসেন্সবিহীন ব্যক্তির কাছে আগ্নেয়াস্ত্র হস্তান্তরের আগে একজন ফেডারেল লাইসেন্সধারীকে অবশ্যই পরিপূর্ণভাবে তার অতীত কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখার জন্য অন্তত তিন থেকে ১০ কার্যদিবস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

মঙ্গলবার রাতেই সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা ওই প্রস্তাবিত আইন ভোটাভুটির জন্য সামনে আনার ব্যবস্থা করেছে। ভোট কবে হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে ফিলিবাস্টার নামের বাধার সম্মুখীন হওয়া এড়াতে আইনটির পক্ষে ৬০টি ভোটের প্রয়োজন পড়বে। ওই ৬০ ভোটের সমর্থন অবশ্য এই মুহূর্তে নেই।

ফিলিবাস্টার হলো এমন একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, যা কংগ্রেসে প্রস্তাবিত আইন নিয়ে বিদ্যমান বিতর্ককে দীর্ঘায়িত করে, যাতে সিদ্ধান্ত বিলম্বিত করা বা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

দ্বিদলীয় সমর্থন নিয়েও সিনেটের গণ্ডিতে আটকা

দুই দলের সমর্থন পাওয়া প্রস্তাবিত আইনও অনেক সময় সিনেটের গণ্ডি পার হতে পারে না। যেমন—বর্তমানে লাইসেন্সবিহীন ও ব্যক্তিগত বিক্রেতাদের অস্ত্র বিক্রি ও হস্তান্তরের ক্ষেত্রে অতীত কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখার প্রয়োজন পড়ে না। তবে এটিকে বদলে দিতে পারে প্রস্তাবিত ব্যাকগ্রাউন্ড চেক আইন। ওই আইন প্রণীত হলে সব ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি ও হাতবদলের জন্য অতীত কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখার প্রয়োজন পড়বে।

কিন্তু এটি সিনেটে আটকে যেতে পারে—এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন ডেমোক্রেটিক সিনেটর জো মানচিন। এ প্রসঙ্গে নিজের এক প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ‘আপনি যদি মানচিন-টুমিই পাস না করাতে পারেন, তাহলে কোনো কিছুর জন্য পর্যাপ্ত ভোট কিভাবে পাবেন?’

মানচিন এখানে যে ঘটনার কথা বলছেন, তা ২০১৩ সালের। ওই বছর তিনি এবং রিপাবলিকান সিনেটর প্যাট টুমি মিলে সামনে নিয়ে এসেছিলেন এক আইনের প্রস্তাব। তাতে বলা হয়েছিল, সব ধরনের বাণিজ্যিক অস্ত্র বিক্রিতে অতীত খতিয়ে দেখতে (ব্যাকগ্রাউন্ড চেক) হবে। তবে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে কিনলে অতীত খতিয়ে দেখার কোনো প্রয়োজন পড়বে না।

সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পেয়েও সিনেটে ফিলিবাস্টারের মুখে পড়েছিল সেটি। পরে আর আলোর মুখ দেখেনি প্রস্তাবিত আইনটি। ফলে দ্বিদলীয় সমর্থন পেয়েও শেষ পর্যন্ত লাভ হচ্ছে না।

ফিলিবাস্টারের অবসানেই সমাধান?

ফিলিবাস্টার-প্রক্রিয়াটির ইতি টানতে হলে প্রত্যেক ডেমোক্র্যাটের সম্মতি পেতে হবে। কিন্তু আদৌ কি তা সম্ভব? ডেমোক্র্যাট মানচিন, যিনি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার পক্ষে এবং এ ব্যাপারে একাধিক প্রস্তাব সামনে নিয়ে এসেছেন, তিনিও ফিলিবাস্টারের অবসান চান না। এমনকি মঙ্গলবারের গোলাগুলির ঘটনার পরও না। ওই দিনটিতেই তিনি বলেছেন, ‘একমাত্র ফিলিবাস্টারই আমাদের পুরোপুরি পাগলামির হাত থেকে রক্ষা করছে। ’

এখন হয় সব ডেমোক্র্যাটকে ফিলিবাস্টারের ইতি টানতে সম্মত হতে হবে, আর না হয় রিপাবলিকানদের মধ্যে বড় পরিসরে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন গড়ে উঠতে হবে। এর আগ পর্যন্ত নতুন কোনো ফেডারেল অস্ত্র আইন আনা সম্ভব নয়।

আইন প্রণেতাদের উদ্দেশে বাইডেনের আহ্বান

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হোয়াইট হাউস থেকে বলেছেন, ‘আমি আশা করেছিলাম, আমি যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হব, তখন আমাকে এটি আর করতে হবে না। ’

এ সময় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নেও তাগিদ দেন বাইডেন। আইন প্রণেতাদের প্রতি ‘শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করার’ আহ্বান জানান তিনি। প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘কেন আমরা বারবার এটি হতে দিচ্ছি? লবিদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ও ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস জোগানোর মেরুদণ্ড কোথায় গেল আমাদের?’ সূত্র : সিএনএন

 



সাতদিনের সেরা