kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জুন ২০২২ । ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৯ জিলকদ ১৪৪৩

সংবাদ সম্মেলনে ইউএনএইচসিআর

রাখাইনে বৈষম্য থাকলে রোহিঙ্গারা এখানেই ভালো

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৬ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাখাইনে বৈষম্য থাকলে রোহিঙ্গারা এখানেই ভালো

ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বৈষম্য অব্যাহত থাকলে রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশই নিরাপদ বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি। পাশাপাশি বাংলাদেশের ওপর রোহিঙ্গাদের চাপ আর না বাড়াতে ভারতসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশে পাঁচ দিনের সফর শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি এসব কথা বলেন। তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচর টেকসই হওয়া নিয়ে দাতাদের প্রশ্ন, নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন ইস্যুতে উদ্বেগের কথা সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন

হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডির কাছে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, ভাসানচর নিয়ে উদ্বেগ জানাচ্ছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচর বেশি নিরাপদ, নাকি মিয়ানমারের রাখাইন? জবাবে এই প্রশ্নকে জটিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, উত্তরটিও জটিলভাবে তিনি দিতে চান। এরপর ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বলেন, রাখাইনে যদি বৈষম্য থাকে তবে বাংলাদেশ তাদের জন্য নিরাপদ। তিনি বলেন, এর আগের সফরগুলোর মতো এবারও তিনি রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের বেশির ভাগই মিয়ানমারে ফিরতে চায়। তবে এই পরিস্থিতিতে কেউ ফিরতে চায় না।

ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি এ ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে কভিড পরিস্থিতি এবং মিয়ানমারে রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইতিবাচক বিষয় হলো, মিয়ানমারে সামরিক কর্তৃপক্ষ রাখাইন রাজ্যে ইউএনএইচসিআরের কাজ করার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক নবায়নে সম্মত হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারত থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ইউএনএইচসিআর বলেন, ‘ভারতসহ অন্য দেশগুলোর প্রতি আমাদের আবেদন, তারা যেন বাংলাদেশের ওপর রোহিঙ্গাদের চাপ আর না বাড়ায়। বাংলাদেশ যেভাবে রোহিঙ্গাদের সেবা দিচ্ছে তারাও যেন সেভাবে তাদের দেশগুলোতে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সেবা দেয়। ’

ভারতসহ অন্য দেশগুলোতে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা উল্লেখ করে হাইকমিশনার গ্র্যান্ডি বলেন, ওই সংখ্যা বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গার তুলনায় নগণ্য।

ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি কালের কণ্ঠের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ঢাকায় দাতা দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রদূতরা বলেছেন, ভাসানচরে যুক্ত হওয়ার মতো যৌক্তিক কারণ তাঁদের জানাতে। ভাসানচরে অর্থায়নের পক্ষে সেসব যুক্তি তাঁদের দেশে তুলে ধরতে হবে। ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বলেন, ভাসানচরে অর্থায়ন কতটা টেকসই হবে তা নিশ্চিত না হয়ে কেউ সেখানে টাকা ঢালতে চাইবে না। টেকসই হওয়া নিয়ে ইউএনএইচসিআরেরও কিছু প্রশ্ন আছে। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তুলে ধরেছেন।

ইউক্রেন, আফগানিস্তানে সংকটের কারণে আগামী দিনগুলোতে রোহিঙ্গাদের জন্য অর্থ সহায়তা পাওয়া কঠিন হতে পারে বলেও স্বীকার করেন ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি। তিনি বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য আরো সহায়তার আবেদন জানান।

ইউএনএইচসিআর জানান, এ বছর কক্সবাজারের ৯ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা এবং পাঁচ লাখ ৪০ হাজার স্থানীয় জনগণের জন্য প্রায় ৮৮ কোটি ১০ লাখ ডলার প্রয়োজন। গত মে মাস পর্যন্ত মাত্র ১৩ শতাংশের অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে।

 



সাতদিনের সেরা