kalerkantho

সোমবার । ২৭ জুন ২০২২ । ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৬ জিলকদ ১৪৪৩

সিলেটে ৪৪২ কিমি সড়কের ক্ষতি

নেত্রকোনায় তলিয়েছে ফসল

সিলেট অফিস ও নেত্রকোনা প্রতিনিধি   

২৪ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সিলেটে ৪৪২ কিমি সড়কের ক্ষতি

কয়েক দিন ধরে ঘরের ভেতর ছিল বন্যার পানি। ধীরে ধীরে পানি সরতে থাকায় নিজ নিজ ঘর সংস্কারে ব্যস্ত এখন স্থানীয়রা। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থেকে গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে নেত্রকোনার নদ-নদীর পানি বেড়েছে। গতকাল সোমবার পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৫০০ হেক্টর বোরো ধান তলিয়ে গেছে। সিলেটে বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যমান হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতি। ৪৪২ কিলোমিটারের বেশি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত জানান, গতকাল দুপুরে জেলায় কংস নদীর পানি বিপত্সীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ ছাড়া জেলার সোমেশ্বরী, উব্দাখালী, ধনু, মগড়াসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়েছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জেলার কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন, পোগলা, কৈলাটি, দুর্গাপুরের গাঁকান্দিয়া, কাকৈরগড়া, বারহাট্টার চিরাম, রায়পুর ও মদনের ফতেপুর, মাঘানসহ বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। শ্রমিক সংকটে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটতে পারছেন না কৃষকরা।

কৃষকরা জানিয়েছেন, রোদের কারণে ধানের খড় শুকাতে পারেননি কৃষকরা। হাওরের পানিতে ডুবে পচে গেছে। এ কারণে এবার গবাদি পশুর খাদ্যসংকট হবে।

কলমাকান্দা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ বলেন, উপজেলায় এ পর্যন্ত ১১৫টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এফ এম মোবারক আলী বলেন, ঢলের পানিতে জেলায় ৪৮০ হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এর মাঝে প্রায় ৬০ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়ে গেছে। ফসলের তেমন ক্ষতি হবে না।

নেত্রকোনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল্লাহ বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, কলমাকান্দা ও মদন উপজেলার দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি ঢুকেছে। এতে পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে সিলেটে নগর ও উপজেলাগুলোতে বন্যার পানি নামছে। এতে দৃশ্যমান হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সিলেটের ৫৯২ কিলোমিটার সড়ক। উপজেলাগুলোতে কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলোর মেরামতে দিন পার করছে দুর্ভোগে পড়া মানুষ। নগর এলাকায়ও একই দৃশ্য। পানি কমে যাওয়ায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের জোর প্রস্তুতি চলছে।

বন্যার পানিতে সিলেটের ৪৪২ কিলোমিটারের অধিক সড়কের ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় ১০০ কিলোমিটার, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ২৭৭ কিলোমিটার এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে থাকা ৬৫ কিলোমিটার সড়ক। এ ছাড়া সিলেট সদর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় দুটি কালভার্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এলজিইডি সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইনামুল কবীর বলেন, এখনই ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়। প্রকৃত চিত্র জানতে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

সিলেটের বেশির ভাগ উপজেলায় বন্যার পানি ঘরবাড়ি থেকে নেমে গেছে। তুলনামূলক নিচু এলাকা এখনো জলমগ্ন। আশ্রয়কেন্দ্র ও স্বজনদের বাড়ি থেকে মানুষ নিজ বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছে। ঘরবাড়ি মেরামতে ব্যস্ত সময় কাটছে তাদের।

উপশহর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন বাড়িতে ঘরের মেঝে পরিষ্কার থেকে শুরু করে ক্ষতিগ্রস্ত আসবাব মেরামত চলছে। আবার ব্যবহার অনুপযোগী আসবাব ফেলে দেওয়া হচ্ছে।

উপশহরের বাসিন্দা রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘ঘরের মেঝেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি তোলার পাম্প নষ্ট হয়ে গেছে। পানির রিজার্ভ ট্যাংক ময়লায় ভরে গেছে। পরিষ্কার করানোর লোক পাচ্ছি না। ’ 

চার দিন ধরে পানি কমছে সিলেটের গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট উপজেলার। এসব উপজেলার বেশির ভাগ ঘরবাড়ির পানি নেমে গেছে। তবে তুলনামূলক নিম্নাঞ্চল এখনো জলমগ্ন। ধীরে পানি নামছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার।

পানিতে ডুবে গেছে ধানক্ষেত। কষ্ট করে সেই ধান কেটে আনছেন কৃষক। নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার চানপুর এলাকা থেকে গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ



সাতদিনের সেরা