kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

মিরপুরে ভাগ্য বদলানোর লক্ষ্য

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২৩ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মিরপুরে ভাগ্য বদলানোর লক্ষ্য

অনুশীলনের ফাঁকে মিরপুরের উইকেট দেখছেন মমিনুলরা। ছবি : মীর ফরিদ

চট্টগ্রাম নিষ্ফলা হলেও ঢাকা ফলের দুয়ার খুলবেই। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে এখন পর্যন্ত হওয়া টেস্ট ম্যাচগুলোর খতিয়ান জানাচ্ছে, এখানে ফল হবেই হবে। যদি বিরূপ প্রকৃতি বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। এই মাঠে হওয়া ২২ টেস্টের মধ্যে তিনটিই শুধু ড্র হয়েছে, যার কোনোটিতেই ব্যাট-বলের আগুনে লড়াইয়ের উত্তাপ মিশে ছিল না।

বিজ্ঞাপন

বরং বৃষ্টির হানায় ওই ম্যাচ তিনটির একাধিক দিন ভেসে গিয়েছিল। তবে নির্বিঘ্নে খেলা হতে পারলে যে ফল হয়, সেটি বাংলাদেশ দলের মতো অজানা নয় সফরকারী শ্রীলঙ্কারও। তাই আজ থেকে মিরপুরে শুরু হতে যাওয়া সিরিজ নির্ধারণী টেস্টে ফল হচ্ছে ধরে নিয়েই নামছে দুই দল। সেই ফল ঝুঁকবে কোন দলের দিকে? স্বাগতিকরা শেষ হাসি হাসবে, নাকি লঙ্কানরা?

ইতিহাস বলছে, দেশের মাটিতে তাদের বিপক্ষে সর্বশেষ দুই টেস্ট সিরিজেই মিরপুর সৌভাগ্য বয়ে আনেনি বাংলাদেশের জন্য। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে এখানে ইনিংস ও ২৪৮ রানে হারার পর চট্টগ্রামে গিয়ে ড্র করেছিল তারা। লঙ্কানদের ২০১৮-র সফরে ঘটেছিল এর উল্টোটা। চট্টগ্রামে বীরত্বপূর্ণ ড্রয়ের পর ঢাকায় এসে স্বাগতিকদের ভাগ্যে জুটেছিল ২১৫ রানে হারের লজ্জা। এবার সেই চট্টগ্রাম থেকেই ড্র করে ফেরা মমিনুল হকদের সামনে সেরকম কিছুর পুনরাবৃত্তি ঠেকিয়ে লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো সিরিজ জেতার হাতছানিও।

টেস্ট অধিনায়ক মমিনুলের কণ্ঠে সেই তাড়নাই শোনা গেল গতকাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে, ‘আমাদের ভালো সুযোগই আছে বলে মনে হচ্ছে আমার। চট্টগ্রাম টেস্টের কথা না ভেবে এখানে আমাদের নতুন করে শুরু করতে হবে। কারণ আগেও অনেক সময় এ রকম হয়েছে (সিরিজের প্রথম টেস্ট ড্র করে পরের ম্যাচে হেরে যাওয়া)। ওই জায়গা থেকে তাই বের হওয়ার চেষ্টা করছি। এই টেস্টে দল হিসেবে খেলতে পারলে ফল আমাদের পক্ষেই আসবে। ’

ফল নিজেদের অনুকূলে নিতে লঙ্কানদের সম্ভাব্য রণসজ্জাও ইতিহাস-আশ্রয়ী। দলটির ইংলিশ হেড কোচ ক্রিস সিলভারউডও সংবাদমাধ্যমকে বললেন সেটিই, ‘প্রতিটি মাঠের পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখি আমরা। আগে এখানে আমাদের ফলাফল কেমন ছিল, বোলিং ও ব্যাটিংয়ের সজ্জা কেমন ছিল, সেসব দেখি। ইতিহাসে চোখ বুলিয়েই দল বাছাই করি আমরা। ’ দল বাছাইয়ে এক পেসার ও তিন স্পিনার নিয়ে নামার সম্ভাবনার কথা চট্টগ্রাম টেস্ট শেষ হওয়ার পরপরই জানিয়ে দিয়েছিলেন অফস্পিনার ধনঞ্জয়া ডি সিলভা। যিনি কিছুদিন আগে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) খেলে গেছেন এখান থেকে। তবে সিলভারউড বললেন তাঁর আরেকজন জ্ঞানভাণ্ডারের কথাও। তিনি ২০২০ সালে বাংলাদেশের যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের হেড কোচ নাভিদ নেওয়াজ। এখানে চার বছর কাজের অভিজ্ঞতা থেকে লঙ্কান শিবিরের সহকারী কোচ ‘যথেষ্ট কাজের’ পরামর্শ দিতে পারবেন বলেই আশা সিলভারউডের।

যেসব কাজ করলে জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকবে, সেসব নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানালেন মমিনুলও, ‘মিরপুরে ফলাফল ছাড়া ম্যাচ খুব কমই হয়। শেষ কবে ফল আসেনি, বলা কঠিন। সব সময়ই ফল হয় এখানে। বোলিং খুব গুরুত্বপূর্ণ, সেই সঙ্গে ব্যাটিংও। অবশ্যই আমরা পরিকল্পনা করি, কোন জিনিস নিয়ে কাজ করলে জেতার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। ’ মিরপুরে ফল হওয়া ১৯ ম্যাচের মাত্র ছয়টিতেই ফল অনুকূলে এসেছিল বাংলাদেশের। এই ম্যাচের আগে দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে চট্টগ্রামে প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা নাঈম হাসানের চোটে ছিটকে পড়াও। হাতের আঙুল ভেঙে মেহেদী হাসান মিরাজের সিরিজ আগেই শেষ হয়ে যাওয়ার পর নাঈম তাঁর অভাব তেমন একটা টেরই পেতে দেননি। কিন্তু এখন তিনি না থাকায় প্রভাব বিস্তারকারী আরেকজন অফস্পিনারের সংকট রয়েই যাচ্ছে। মোসাদ্দেক হোসেন দলে আছেন, তবে লাল বলে তাঁর অফস্পিনকে তেমন কার্যকর বলে ধরা হয়নি কখনোই। মমিনুলও বললেন যে, এই অফস্পিনিং অলরাউন্ডার খেললে তাঁকে ‘বুদ্ধিমত্তা’র সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে। লঙ্কান ব্যাটিং লাইনে একাধিক বাঁহাতি ব্যাটার থাকলেও টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও তাইজুল ইসলামের বাঁহাতি স্পিনেই আস্থা খুঁজে নেবেন বলে মনে হলো তাঁর কথায়। তাই মোসাদ্দেক খেললেও ব্যাটিংয়ের গভীরতা বাড়ানোর ভাবনাই প্রাধান্য পাবে টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে। মিরপুরে খেলা হলে সাধারণত একজন পেসার নিয়েই নামে স্বাগতিকরা। তবে মমিনুল একাধিক পেসার নামানোর কথাই বলে রাখলেন। এবাদত হোসেন আর সৈয়দ খালেদ আহমেদকে একাদশে রাখার ইঙ্গিতও দিলেন। যদিও চট্টগ্রামে তেমন সুবিধা করতে পারেননি খালেদ। তবে ঢাকায়ই বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা বেশি ম্যাচ খেলেন বলে খালেদ চেনা মাঠে ঠিকই আস্থার প্রতিদান দেবেন বলে বিশ্বাস অধিনায়কের। যদিও চেনা মাঠে আগের দুই সিরিজেই লঙ্কানরা জিতেছিল। এবার সেই ধারা বদলাতে মরিয়া মমিনুলরা যদি সদলবলে জ্বলে উঠতে পারেন, তাহলে ভাগ্য বদলাতেও পারে।

 



সাতদিনের সেরা