kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

বন্যা পরিস্থিতি

ভেসে গেছে ২০ হাজার জলাশয়ের মাছ

সিলেট অফিস ও সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৩ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভেসে গেছে ২০ হাজার জলাশয়ের মাছ

পানিতে ডুবে আছে পথঘাট। দোকানপাট, বাসাবাড়িতেও ঢুকেছে পানি। পেটের দায়ে পানির মধ্যেই ভ্যান নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন এক কলা বিক্রেতা। সিলেট শহর থেকে শনিবার তোলা। ছবি : এএফপি

সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। বন্যায় দুই জেলার ২০ হাজার ৫৯টি জলাশয়ের মাছ ভেসে গেছে। এতে ১৬ হাজারের বেশি মৎস্য খামারি ক্ষতির মুখে। মৎস্য অধিদপ্তর ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করেছে।

বিজ্ঞাপন

ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে খামারিরা সহজ শর্তে সরকারি ঋণ চাচ্ছেন।

মৎস্য অধিদপ্তর সিলেটের কর্মকর্তা এবং ভুক্তভোগী মৎস্য খামার মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন্যায় সিলেট জেলার ১১টি উপজেলার দুই হাজার ২৯৬.৭ হেক্টর আয়তনের ১৮ হাজার ৭৪৯টি পুকুর, দিঘি ও খামার প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে দুই হাজার ৩০৫.৫৭ মেট্রিক টন মাছ। টাকার হিসাবে তা দাঁড়ায় ১৬ কোটি ৯২ লাখ ৮৭ হাজার। মাছের পাশাপাশি ভেসে গেছে দুই কোটি ১৩ লাখ ৯৭ হাজার পোনাও। টাকার হিসাবে যা তিন কোটি ২৪ লাখ ৫৪ হাজার। এতে ক্ষতির মুখে পড়ে দিশাহারা জেলার ১৫ হাজার ১৬৩ জন মৎস্য চাষি ও খামার মালিক।

মৎস্য অধিদপ্তর সিলেটের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ উপজেলার মৎস্য চাষি ও খামার মালিকরা। বিশেষ করে অমলসিদে তিন নদীর মোহনায় কুশিয়ারার ডাইক (বাঁধ) ভাঙায় ক্ষতি বেশি হয়েছে। শুধু এই উপজেলায় বন্যায় প্লাবিত হয়েছে ছয় হাজার ৩৫০টি পুকুর, দিঘি ও খামার। ভেসে গেছে ৩৬০ মেট্রিক টন মাছ ও ৪০ লাখ মাছের পোনা। এতে ক্ষতি হয়েছে ছয় কোটি ২২ লাখ টাকা। ক্ষতির দিক দিয়ে এর পরই আছে গোয়াইনঘাট উপজেলা। সেখানে দুই হাজার ৫৯২টি পুকুর, দিঘি ও খামারের মাছ ভেসে গেছে। ক্ষতির মুখে দুই হাজার মৎস্য চাষি ও খামার মালিক। এরপর যথাক্রমে কানাইঘাট উপজেলায় দুই হাজার ৩৫০টি, জৈন্তাপুরে দুই হাজার ১০০টি, বিশ্বনাথে দুই হাজার ১৫০টি, বিয়ানীবাজারে এক হাজার ৪০২টি, গোলাপগঞ্জে ৮৪৫টি, সিলেট সদর উপজেলায় ৫৩৫টি, দক্ষিণ সুরমায় ২১০টি, কোম্পানীগঞ্জে ১৪৫টি এবং বালাগঞ্জ উপজেলায় ৭০টি পুকুর, দিঘি ও খামারের মাছ ভেসে গেছে।

জকিগঞ্জের বারহাল ইউনিয়নের ফারুক আহমদ বলেন, ২০১২ সালে দুবাই থেকে ফিরে ১০ বছরে জমানো সঞ্চয় ভেঙে বিনিয়োগ করেছিলেন মৎস্য চাষে। বাড়ির পাশে ৬০ শতাংশ করে দুটি জায়গায় গড়ে তোলেন মাছের খামার। আকস্মিক বন্যায় তাঁর দুটি খামারের পার ভেঙে ভেসে গেছে সব মাছ। প্রায় আট লাখ টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি। সব হারিয়ে দিশাহারা এই মাছ চাষি বলেন, ‘অনেক পরিচর্যা করে মাছগুলো বড় করেছি। একেকটি মাছের ওজন ছিল আড়াই থেকে তিন কেজি। চলতি মাসেই ফিশারি সেচে মাছ বিক্রির প্রস্তুতি সেরে রেখেছিলাম। কিন্তু সব কষ্ট ভেস্তে গেল। ’

সিলেটের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা জেলার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। এ ক্ষেত্রে করণীয় নিয়ে তারাই সিদ্ধান্ত নেবে। ’

সুনামগঞ্জ জেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের চারটি উপজেলার খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার খামারিরা। সূত্র মতে, চারটি উপজেলার ১৭৪ হেক্টর আয়তনের খামার পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় প্লাবিত হয়ে বা বাঁধ ভেঙে মাছ ভেসে গেছে। এতে প্রায় ১৬৮ টন মাছ ও ৫০ টন পোনা ভেসে গেছে। এ ছাড়া অবকাঠামোগত ক্ষতিও হয়েছে খামারিদের।

জানা গেছে, সদর উপজেলার ৫০ জন খামারির ৬৫টি পুকুর, ছাতক উপজেলার ৬৪০ জন খামারির ৭৫০টি পুকুর, দোয়ারাবাজার উপজেলার ৪১০ জন কৃষকের ৪৩৫টি পুকুর এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৪৭ জন কৃষকের ৬০টি পুকুরের মাছ ও পোনা ভেসে গেছে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইবরাহিমপুরের খামারি মুসলিম উদ্দিন বলেন, ‘আমার ৯টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মতো। এখন কিভাবে এই ক্ষতি সামাল দেব এই চিন্তায় অস্থির আছি। আমাদের বিশেষ বিবেচনায় ও সহজ শর্তে ঋণ দিলে হয়তো ঘুরে দাঁড়াতে পারব। ’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুনীল মণ্ডল বলেন, ‘বন্যায় আমাদের প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার মাছ, পোনাসহ অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার সংশ্লিষ্টদের দিয়ে প্রাথমিক ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করেছি। এই তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হবে। ’



সাতদিনের সেরা