kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

সরকারগুলোকে ভর্তুকির পরামর্শ আইএমএফের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সরকারগুলোকে ভর্তুকির পরামর্শ আইএমএফের

বিশ্বব্যাপী খাদ্যদ্রব্য ও জ্বালানির মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে এবার সরকারগুলোকে এসব খাতে ভর্তুকি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইএমএফ-প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এই ভিন্নধর্মী পরামর্শ দেন।

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের মতো আন্তর্জাতিক অর্থবিষয়ক সংস্থাগুলো সাধারণত মুক্তবাজার অর্থনীতির আলোকে সরকারি ভর্তুকির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে থাকে।

বিবিসিকে আইএমএফ-প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, বিশ্বের সরকারগুলোর উচিত সমাজের দরিদ্রতম মানুষগুলোর জন্য খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যে ভর্তুকি দেওয়া।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করে সহায়তা করতে হবে। সরাসরি মানুষের হাতে সহায়তা দিলে বেশি ভালো হয়। ’

জর্জিয়েভা বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার সংকটের ক্ষেত্রে দুটি অগ্রাধিকারের জায়গা রয়েছে। এর একটি হচ্ছে সমাজের যেসব মানুষ খাদ্য ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের সঙ্গে সংগ্রাম করছে; দ্বিতীয়টি ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ‘সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত’ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করা।

আইএমএফ সংস্থার কাজ হচ্ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে বিশ্বের সরকারগুলোর সঙ্গে কাজ করা। তবে এ বছর খাদ্যপণ্যের দাম রেকর্ড মাত্রায় ওঠায় এবং তেল ও গ্যাসের দামও অনেক বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনা মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধের দ্বৈত প্রভাবেই এ অবস্থা হয়েছে।

মন্দার ভয়

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে খাদ্যশস্য ও তেলগ্যাস পণ্যের গুরুত্ব এমনই যে এসবের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির হার কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। যুক্তরাজ্যে তা ৯ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ৮.৩ শতাংশ এবং ইউরোজোনে ৭.৪ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এ কারণে মূল্যবৃদ্ধির গতি ঠেকানোর চেষ্টায় সুদহার বাড়াচ্ছে। এ বিষয়টি আবার মন্দার আশঙ্কা জাগাচ্ছে। সুদহার বাড়ানো মহামারিকালে বড় ঋণ নেওয়া সরকারগুলোর ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে তা নিয়েও জর্জিয়েভা উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, টাকাগুলো কিভাবে এবং কোথায় খরচ করা হবে সে সম্পর্কে সরকারগুলোর ‘খুব যত্নবান’ হওয়া প্রয়োজন।

খাদ্যসংকটের আশঙ্কা

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি উন্নয়ন সংস্থা খাদ্য নিরাপত্তার সংকট নিরসনে এ সপ্তাহে একটি বড় পরিকল্পনা হাজির করেছে। এর নেতৃত্বে ছিলেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বে খাদ্য ও সারের দাম বৃদ্ধির ফলে আরো মানুষের ক্ষুধার্ত থাকার সত্যিকারের ঝুঁকি রয়েছে। ’ এ বিষয়ে ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, বিশ্বে প্রচুর খাবার থাকলেও তা সমানভাবে বিতরণ হয় না। সংকট সমাধানে তিনি আরো বেশি শস্য উৎপাদনের ওপর জোর দিয়েছেন। উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর দিকেও আরো বেশি নজর দেওয়ার তাগিদ দেন আইএমএফ প্রধান। তিনি বলেন, এ কাজটি করতে হবে ‘শুধু ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্যও’।

গম রপ্তানি নিয়ে ভারতের প্রতি আহ্বান

ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বাণিজ্য উন্মুক্ত রাখার তাগিদ দিয়ে বলেন, কোনো দেশের নিজেদের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাবার মজুদ রাখা ঠিক নয়। ভারতের গম রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েও কথা বলেন তিনি। জর্জিয়েভা বলেন, ‘বিশ্বের এমন এক সংকটময় মুহূর্তে আমরা তাদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আকুল আবেদন জানাই। আমরা জানি, তাদের নিজের জনগণকে খাওয়াতে হবে। তবে আমাদের মিলেমিশে কাজ করতে হবে। কেবল তা হলেই আমরা এ সংকট পার হতে পারব। ’

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান আইএমএফের অবস্থানের বিষয়ে বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান পরিস্থিতিই আইএমএফের এ মতামতের কারণ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এখন ভর্তুকি দিয়েই সাময়িকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া উচিত। সরকার মূলত যে তিন খাত সার, জ্বালানি ও গ্যাসে ভর্তুকি দিয়ে থাকে এই ভর্তুকি এখন দরকার সার্বিকভাবে খাদ্য নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন  খাতে। যাতে করে নিম্ন আয়ের মানুষ সুফল পায়। ’

তবে তৌফিকুল ইসলাম ভর্তুকির বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘এটি যেন নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে থাকে। আর সরকার যেন ভর্তুকি দিতে গিয়ে তার সাময়িক আয়-ব্যয়ের হিসাব ঠিক রাখে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে যেন প্রণোদনার অর্থ ছাড় ও বাজেটে কর ছাড় থেকে বিরত থাকে। ’

 

 



সাতদিনের সেরা