kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

কুড়িগ্রামে চরাঞ্চল প্লাবিত, বাঁধে ভাঙন সিরাজগঞ্জে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কুড়িগ্রামে চরাঞ্চল প্লাবিত, বাঁধে ভাঙন সিরাজগঞ্জে

টানা বর্ষণ আর উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে চরাঞ্চলের বীজতলাসহ বোরো, বাদাম, ভুট্টা ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বেশ কয়েকটি পয়েন্টে নদীভাঙন তীব্র হয়েছে। লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের চরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে ভাঙন।

বিজ্ঞাপন

নাটুয়ারপাড়া রক্ষা বাঁধেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভাঙনের ঝুঁকিতে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র গতকাল জানিয়েছে, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, পদ্মা ও যমুনার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তত্সংলগ্ন ভারতের আসাম, মেঘালয়, হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা প্রদেশের কিছু এলাকায় মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে।

উত্তরাঞ্চলের ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি স্থিতিশীল আছে। সুরমা-কুশিয়ারা ছাড়া দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ২৮ ঘণ্টা পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি পাবে। কিছু স্থানে পানি দ্রুত বাড়তে পারে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সিলেট জেলার কিছু স্থানে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চলের কিছু স্থানে পরিস্থিতি কিছুটা অবনতি হতে পারে।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চরগতিয়াশাম গ্রামের কৃষক জোবাইদুল ইসলাম জানান, এই চরে আবাদ করা প্রায় ১০০ একর বাদামের ক্ষেত এখন পানির নিচে। একই অবস্থা তিস্তাপারের থেতরাই, বিদ্যানন্দ, বজরা, দলদলিয়া, ব্রহ্মপুত্র পারের হাতিয়া, যাত্রাপুর, বেগমগঞ্জসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চরগুলোর।

এদিকে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্রসহ বিভিন্ন নদ-নদীর ভাঙন তীব্র হয়েছে। রাজারহাটের গতিয়াশাম, মেকলি, বিদ্যানন্দ, সদর উপজেলার সারডোব, উলিপুরের বজরা, থেতরাই ও অর্জুন, নাগেশ্বরীর কচাকাটার তরিরহাট, রৌমারী ও রাজীবপুরের বিভিন্ন এলাকায় নদ-নদীর ভাঙন চলছে। এসব এলাকায় এক সপ্তাহে অর্ধশত পরিবার গৃহহীন হয়েছে।

লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি শুক্রবারের চেয়ে গতকাল কিছুটা কমে বিপত্সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ধরলা নদীর পানিও বিপত্সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের গতকালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নদী দুটির পানি সমতল স্থিতিশীল আছে, যা পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ (ডালিয়া) পয়েন্টে বিপত্সীমা হচ্ছে ৫২.৬০ সেন্টিমিটার। ওই পয়েন্টে প্রতিদিন তিন ঘণ্টা পর পর পানিপ্রবাহ পরিমাপ করা হয়। সেখানে গতকাল সকাল ৬টা ও ৯টায় এবং দুপুর ১২টায় তিস্তা নদীর পানির প্রবাহ ছিল ৫১.৭০ সেন্টিমিটার। বিকেল ৩টা ও সন্ধ্যা ৬টায় কিছুটা কমে প্রবাহ ছিল ৫১.৬৫ সেন্টিমিটারে।  

তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীটির পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে ব্যারাজের ভাটিতে থাকা লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার নদী-তীরবর্তী এলাকাগুলো প্লাবিত হয়।

সিরাজগঞ্চের কাজিপুরের চরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে ভাঙন। বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভাঙনের ঝুঁকিতে। চরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র নাটুয়ারপাড়া রক্ষা বাঁধে দেখা দিয়েছে ভাঙন। এতে বাঁধের ভেতরের প্রায় দুই হাজার একর জমি যমুনায় বিলীন হওয়ার উপক্রম। ওই বাঁধে থাকা বেশ কয়েকটি বিদ্যুতের খুঁটি এরই মধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

গতকাল সকালে ভাঙনকবলিত নাটুয়ারপাড়া রক্ষা বাঁধে গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের উভয় পাশেই ভাঙছে। ভাঙন ঠেকাতে সিরাজগঞ্জ পাউবোর দুজন ঠিকাদার বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছেন ভাঙনস্থলে। বাঁধে ভাঙন ঠেকানোর কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার মেসার্স সরকার ফার্মের প্রতিনিধি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘নাটুয়ারপাড়াকে রক্ষায় নদীর দিকে পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা বাঁধের দক্ষিণাংশে জিও ব্যাগ ফেলছি। কয়েক দিন ধরে কাজ করছি। কিন্তু এখন পানি বাড়তে থাকায় ভাঙন বাড়ছে। ’

সিরাজগঞ্জ পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী হায়দার আলী বলেন, ‘নাটুয়ারপাড়ার ওই বাঁধটি রক্ষায় এরই মধ্যে আট হাজার বস্তা ফেলেছি। আবারও ভাঙন দেখা দেওয়ায় এখন দুই হাজার বস্তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ’

এদিকে পানি বাড়তে থাকায় ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে চরাঞ্চলের ডিক্রি তেকানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাজলগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডগলাস ভেটুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ চরজগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

{প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা}



সাতদিনের সেরা