kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

এবার গ্রাহক পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তুতি

সজীব আহমেদ   

২২ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এবার গ্রাহক পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তুতি

বিদ্যুৎ বিতরণ কম্পানিগুলো খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি কমিটি বিদ্যুতের পাইকারি দাম ৫৭.৮৩ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। এই সুপারিশের আলোকে দ্রুত বিদ্যুতের খুচরা মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব তৈরি করছে বিতরণ কম্পানিগুলো।

দেশে বিদ্যুতের একক পাইকারি বিক্রেতা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।

বিজ্ঞাপন

পিডিবির কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনে গ্রাহক বা খুচরা পর্যায়ে বিতরণ করছে দেশের পাঁচটি কম্পানি। এগুলো হলো ডেসকো, ডিপিডিসি, আরইবি, নেসকো ও ওজোপাডিকো। বিপিডিবিও দেশের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।

ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. কাউসার আমীর আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিদ্যুতের পাইকারি দামের সঙ্গে খুচরা পর্যায়ে দামের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাই আমরা খুচরা পর্যায়ের দাম প্রস্তাব করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। পাইকারিতে যে হারে দাম বাড়ানো হবে, আমরা সেভাবে আমাদের প্রস্তাব বিইআরসিকে দেব। ’ কাউসার আমীর আলী বলেন, ‘কারিগরি কমিটি প্রায় ৫৮ শতাংশ দাম বাড়াতে সুপারিশ করেছে। সরকার সব সময় বিদ্যুতে ভর্তুকি দেয়। তাই ভর্তুকি বাড়ালে দাম বৃদ্ধির হার কমে আসবে। বিইআরসি যে অনুপাতে পাইকারি দাম বাড়াবে, সেই অনুপাতে আমাদের গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়বে। এখন বিইআরসি যদি আমাদের বলে তাদের কাছে প্রস্তাব জমা দিতে, আমরা সেভাবেই প্রস্তাব জমা দেব। তারপর আলাদা করে একটি গণশুনানি হয়ে সিদ্ধান্ত হবে। ’

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান বলেন, ‘পাইকারিতে দাম বাড়লে আমাদের অবশ্যই গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়াতে হবে। কারণ আমাদের তো পিডিবির কাছ থেকে বেশি দামে কিনে আনতে হবে। তাই আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। এখন সরকারের ভর্তুকির ওপর নির্ভর করছে পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে দাম কত বাড়বে। ’

অর্থনীতিবিদ, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, ভোক্তা ও খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাম বৃদ্ধির সুপারিশ বাস্তবায়ন না করার অনুরোধ জানিয়েছেন সরকারকে। তাঁরা বলছেন, এই সুপারিশ অযৌক্তিক; কারণ এতে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়নি। এই মুহূর্তে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ চাপে পড়বে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জে পড়বে অর্থনীতি।

তাঁরা বিপিডিবির রাজস্ব ঘাটতি কমাতে উচ্চমূল্যের তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রের বদলে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক—এমন স্বল্প মূল্যের বিদ্যুেকন্দ্রের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

অর্থনীতিবিদ ও সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মূল্যস্ফীতির এই পরিস্থিতিতে ভর্তুকি দিয়ে ভোক্তাকে যতটুকু সম্ভব সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহকে অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, সরকার সর্বোচ্চ পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিপিডিবির যে চাহিদা, সেটা পূরণ করার চেষ্টা করবে। পাশাপাশি সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, অতিদ্রুত ক্যাপাসিটি পেমেন্ট থেকে বেরিয়ে আসা। কারণ এটা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাকে বহন করতে হচ্ছে। ’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিদ্যুতের দাম বাড়ালে বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। এমনিতেই ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আমাদের সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি অর্থনীতিতে এক ধরনের অস্থিতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। এই নিয়ে সরকার নিশ্চয় পরিকল্পনা করছে, ভাবছে। বুঝেশুনেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ’

বর্তমানে পাইকারিতে পিডিবির প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পাঁচ টাকা ১৭ পয়সা। পিডিবি ৬৫.৫৭ শতাংশ বাড়িয়ে ইউনিটপ্রতি আট টাকা ৫৬ পয়সা করার প্রস্তাব দেয়। তাদের এই প্রস্তাব মূল্যায়ন করে বিইআরসির কারিগরি কমিটি ৫৭.৮৩ শতাংশ বাড়িয়ে ইউনিটপ্রতি ৮.১৬ টাকা করার সুপারিশ করেছে।

কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে যৌক্তিকতা, ন্যায্যতা—এসব নিশ্চিত করা হয়নি। যদিও বিইআরসির ক্ষমতা হচ্ছে যৌক্তিক ও ন্যায্য ব্যয় সমন্বয় করে মূল্যহার নির্ধারণ করা। কিন্তু বাস্তবে মূল্যহার নির্ধারণ সেভাবে হচ্ছে না। এটা উদ্বেগের। ’



সাতদিনের সেরা