kalerkantho

রবিবার । ৩ জুলাই ২০২২ । ১৯ আষাঢ় ১৪২৯ । ৩ জিলহজ ১৪৪৩

বন্যা পরিস্থিতি

পানির নিচে ৫০০০ হেক্টরের ফসল

ইয়াহইয়া ফজল, সিলেট   

২১ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



পানির নিচে ৫০০০ হেক্টরের ফসল

খারাপের দিকে যাচ্ছে সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি। ডুবছে পথঘাট, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল। মানুষের সঙ্গে গবাদি পশুও দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বন্যায় পানির সঙ্গে বাড়ছে খাবার ও সুপেয় পানির সংকট। বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজি এলাকায় গৃহপালিত ছাগল ভেলায় তুলে এর খাদ্যের খোঁজে ছুটেছে দুই শিশু। গতকাল তোলা। ছবি : মোহাম্মদ আলী শিপন

বন্যায় সিলেট জেলার প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এসব জমিতে বোরো ধান, আউশের বীজতলার পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষেতও আছে। এতে কৃষকের ঘুম হারাম। ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

বন্যায় সহস্রাধিক পুকুরের এক হাজার ৩৩৭ মেট্রিক টন মাছও ভেসে গেছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ৩০টি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝুঁকির মুখে আছে অন্য বাঁধগুলোও।

ভুক্তভোগী কৃষক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন্যায় তলিয়ে যাওয়া ফসলের মধ্যে এক হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের বীজতলা, এক হাজার ৭০৬ হেক্টর জমির বোরো ধান এবং এক হাজার ৪০০ হেক্টর জমির গ্রীষ্মকালীন সবজি রয়েছে। বন্যার আগে কৃষকরা আউশের বীজতলা ভালোভাবে প্রস্তুত করেছিলেন। কেউ কেউ বীজ লাগানো শুরু করেছিলেন।

সিলেটে বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর অন্যতম কোম্পানীগঞ্জ। উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের কৃষক আশিক মিয়া বলেন, ‘সাত হেক্টর বোরো ধান চাষ করেছিলাম। পুরো জমিই এখন পানির নিচে। ধান সবেমাত্র পাকতে শুরু করেছিল। তোলার সময়টুকু পাইনি। ছয় দিন ধরে ফসল পানির নিচে। ধানের চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না। ’ একইভাবে ছয় একর জমিতে বোরো ধান চাষ করা আটগ্রাম এলাকার ইসমাঈল হোসেন বলেন, ‘প্রয়োজনের তুলনায় অধিক শ্রমিক লাগিয়ে তড়িঘড়ি করে দেড় একর জায়গার ধান তুলতে পারলেও বাকিটা তলিয়ে গেছে। এখনো পানির নিচে সাড়ে চার একর জমির ধান। ডুবে থাকা ধান তোলা কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। খুব দুশ্চিন্তায় আছি ধান নিয়ে। ’

জেলায় এক হাজার ৪০০ হেক্টরেরও বেশি জমির গ্রীষ্মকালীন সবজি এখন পানির নিচে। জকিগঞ্জ পৌরসভার হাইদ্রাবন্দ গ্রামের কৃষক নজমুল ইসলাম ধানের পাশাপাশি কুশিয়ারা নদীর তীর এলাকায় কয়েক একর জায়গাজুড়ে ঢেঁড়স, টমেটো, কাঁচকলাসহ বিভিন্ন রকমের মৌসুমি সবজি চাষ করেছিলেন। তার প্রায় সবটাই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘কয়েক হাজার টাকার কাঁচকলা তুলতে পারলেও বাকিটা সম্ভব হয়নি। আকস্মিক বন্যায় বাকিটা ডুবে গেছে। এতে ক্ষয়ক্ষতি হবে পাঁচ-ছয় লাখ টাকা। ’

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কৃষক বাছির মিয়া বলেন, ‘বন্যার পানিতে পাঁচ দিন ধরে তলিয়ে আছে আমার কষ্টের ফসল। পাঁচ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে। এ ছাড়া এবার সবজি চাষও করেছিলাম। সেগুলোও পানির নিচে। ’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক মোহাম্মদ কাজী মজিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বোরো ধানের বেশির ভাগ কাঁচা ছিল। সেগুলো বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। তা ছাড়া এবার আউশের মৌসুম বেশ ভালোভাবে শুরু হয়েছিল। কৃষকদের অনেকে বীজতলা তৈরির কাজ শেষ করেছিলেন। অনেকে চারা রোপণও শুরু করেছিলেন। কিন্তু বন্যায় সব ডুবে গেছে। ’ এখনো পুরোপুরি হতাশ হওয়ার সময় আসেনি জানিয়ে তিনি বলেন, যদি দ্রুত পানি নেমে যায়, তাহলে হয়তো ফসলের বেশির ভাগ রক্ষা করা সম্ভব হবে। গ্রীষ্মকালীন ফসল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবজি তুলনামূলক সহজে নষ্ট হয় না। বন্যার পানি চলে গেলে সেগুলো আবার পরিচর্যা করে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা আছে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ৩০টি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝুঁকির মুখে আছে অন্য বাঁধগুলোও। বিশেষ করে জকিগঞ্জ উপজেলার বাঁধগুলো ২৫ থেকে ৩০ বছরের পুরনো। দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কার না হওয়ায় এগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সিলেট জেলার ৩০টি স্থানে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ’ অমলসিদে কুশিয়ারার ডাইক (বাঁধ) ভাঙায় অন্য উপজেলার মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে ডাইক ভাঙার কারণে জকিগঞ্জ পুরোটাই প্লাবিত হয়েছে। তবে এ কারণে অন্য উপজেলা আক্রান্ত হবে না। বাঁধ নিয়ে একটি প্রস্তাব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘উপজেলার বাঁধগুলো আরো প্রশস্ত এবং তিন মিটার উঁচু করা দরকার। এসংক্রান্ত একটি প্রকল্প আমরা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি ২০২০ সালে। অনুমোদিত হলে তখন বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা যাবে। ’

কয়েক দিনের বন্যায় সিলেটের ১৩ উপজেলাই কমবেশি আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১০ উপজেলার অন্তত ৮৬টি ইউনিয়ন বন্যায় সম্পূর্ণ ও আংশিক প্লাবিত হয়েছে। এতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চরম দুর্ভোগে রয়েছে জেলার কয়েক লাখ মানুষ। জেলায় ৯৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সাত হাজার ৩৪৯ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েনে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ২৩৪ মেট্রিক টন চাল, ১৩ লাখ টাকা এবং তিন হাজার ৯৯ প্যাকেট শুকনা খাবার বন্যার্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১১টি উপজেলার আট হাজার ৩২২টি পুকুর, দীঘি ও খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে এক হাজার ৩৩৭ মেট্রিক টন মাছ। ক্ষতিগ্রস্ত এসব জলাশয়ের আয়তন ৮৫৪.৭০ হেক্টর। টাকার হিসাবে ছয় কোটি ৭৪ লাখ। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাত হাজার ২৫১ জন মৎস্য চাষি ও খামার মালিক।

সুনামগঞ্জ পৌর শহরে ৬০ হাজার পরিবার পানিবন্দি

সুনামগঞ্জ পৌর শহরে বর্ধিত এলাকার প্রায় ৬০ হাজার মানুষ তিন দিন ধরে পানিবন্দি। গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পৌর শহরের  (বর্ধিত এলাকা) কালিপুর, ওয়েজখালি, বড়পাড়া, হাজিপাড়া, পশ্চিম হাজিপাড়া, তেঘরিয়া, পূর্ব নতুনপাড়া, নতুন হাসননগর, নবীনগর, হাসনবাহারসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ডুবে গেছে বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট। যে সড়কে নিয়মিত যান চলাচল করত, এখন সেখানে চলছে ছোট ছোট নৌকা। শহরের পরিবেশবিদরা জানিয়েছেন, শহরের খাল-বিল ও জলাধার ভরাট করার ফলে এই নাগরিক দুর্ভোগে নাকাল শহরবাসী। এ কারণে বন্যা বিলম্বিত হবে, পানি কমবে ধীরে। বন্যায় এই সচ্ছল মানুষজনের থাকা-খাওয়ার সমস্যা না হলেও দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষজন বিপাকে পড়েছে। যারা কাঁচা ঘরে বসবাস করত তাদের বসতঘর ধসে যাচ্ছে। অনেকে গবাদি পশু নিয়ে এসে রাখছে পুলিশ লাইনস ও বিসিক চত্বরে। নিমজ্জিত পরিবারগুলোর শৌচাগার ও নলকূপ পানিতে নিমজ্জিত। তাই বিশুদ্ধ পানি ও পয়োনিষ্কাশন সমস্যায় রয়েছে তারা।

কালিপুর গ্রামের পিয়ারা বিবি বলেন, ‘আমার বসতঘরে পানি ছুঁই ছুঁই করছে। গোয়ালঘরে হাঁটু সমান পানি। এখন দুটি গরুকে বসতঘরের বারান্দায় এনে রেখেছি। খড় পানিতে ভেসে গেছে। এখন আরেক বাড়ি থেকে কিছু কাঁঠাল পাতা ও কদমগাছের পাতা নিয়ে এসেছি। ’

কালিপুর গ্রামের রফিকুল বলেন, ‘ঘরো পানি উঠে গেছেগা। অনে খানিখাদ্যের অসুবিধা। পোকামাকড়, সাপ, বিচ্ছুর ডর আছে। বাইচ্চাকাইচ্চারে অন্য জাগাত পাঠাই দিছি। ’

কমলগঞ্জে ধলাই নদীর বাঁধে ফাটল

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রতিরক্ষা বাঁধের এখন নড়বড়ে অবস্থা। গতকাল বিকেলে পানি বাড়ায় পৌরসভার করিমপুরসহ আরো পাঁচটি স্থানে নতুন করে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে হুমকির মুখে রয়েছে আরো ১০টি স্থান। খবর পেয়ে মৌলভীবাজারে পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান কমলগঞ্জের লক্ষ্মীপুর এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ পরিদর্শন করে দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দিয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধলাই নদীর বিভিন্ন এলাকার বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মোকাবিল, কালারাবিল, হোমেরজান, ভাণ্ডারীগাঁও, উত্তর ঘোড়ামারা, আদমপুরের দক্ষিণ তিলকপুর, রানীরবাজার, মাধবপুরের কাটাবিল, শুকুরুল্ল্যাহ, ধলাই পার, পৌরসভার আলেপুর, করিমপুর ও বড়গাছ, উজিরপুর, মুন্সিবাজারের খুশালপুর, লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে।

দৌলতদিয়ায় দুটি ঘাট বন্ধ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মায় পানি বেড়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৪ ও ৫ নম্বর ঘাটের পন্টুনের পথ তলিয়ে গেছে। পরে ওই রাতেই পন্টুনে লাল পতাকা উড়িয়ে ঘাট দুটি বন্ধ ঘোষণা করে বিআইডাব্লিউটিসি। এতে ফেরিঘাটের দৌলতদিয়া প্রান্তে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বিকেল পর্যন্ত বন্ধ ঘাট দুটি চালু করতে প্রয়োজনীয় মেরামতকাজ শুরু করতে পারেনি বিআইডাব্লিউটিএ।

এদিকে ঘাটের সংকটে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে স্বাভাবিক ফেরি পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি ফেরি পার থেকে আসা বিভিন্ন গাড়ির চাপ অব্যাহত থাকায় ঘাটে যানজট লেগেই থাকছে। বিকেলে দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি পারের অপেক্ষায় ছিল যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ শত শত গাড়ি। এতে জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ পৌরসভার পদ্মার মোড় পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

বিআইডাব্লিউটিএর সহকারী প্রকৌশলী শাহ্ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, পদ্মায় পানি বৃদ্ধির কারণে লো-ওয়াটার লেভেলে থাকা ৪ ও ৫ নম্বর ঘাট দুটির পকেটপথ তলিয়ে গেছে। চালু করতে ওই দুটি ঘাট মিড-ওয়াটার লেভেলে স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে।   

নদীগর্ভে বিলীন ২৫ বসতবাড়ি

যমুনা নদীর পানি বাড়তে থাকায় সিরাজগঞ্জের নদীতীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চারটি গ্রামের ২৫টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এলাকার মানুষজন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর অবস্থায় আছে।

জালালপুর গ্রামের কামরুল ইসলাম ও আকশেদ আলী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ঝড়-বৃষ্টির সময় যমুনা নদীতে তীব্র ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। এ সময় নদীর তীরবর্তী আরকান্দি, ঘাটাবাড়ী, জালালপুর ও পাকুড়তলা গ্রামের অন্তত ২৫টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়। ভাঙনের সময় মানুষজন নিজেদের জীবন বাঁচাতে পারলেও জিনিসপত্র রক্ষা করতে পারেনি। চোখের সামনে সব কিছু যমুনা নদীতে তলিয়ে গেছে।

টাঙ্গাইলে স্রোতে ভাঙল বাঁশের সাঁকো

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে লৌহজং নদীতে পানি বেড়েছে। উপজেলা সদরের কুমুদিনী হাসপাতাল ঘাটে লৌহজং নদীর ওপর থাকা বাঁশের সাঁকো পানির স্রোতে ভেঙে গেছে। এতে মির্জাপুরের দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত ৩৫ গ্রামের মানুষের সঙ্গে সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। হাসপাতালে সেবা নিতে আসা মানুষকে প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরে আসতে হচ্ছে।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে প্রচুর বৃষ্টি হয়। এতে উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবহমান বংশাই ও লৌহজং নদীর পানি বেড়ে যায়। লৌহজং নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উজান থেকে কচুরিপানা আসতে থাকে, যা ভাটির দিকে যেতে নদীর ওই স্থানে থাকা বাঁশের সাঁকোতে বাধাগ্রস্ত হয়। এক পর্যায়ে সাঁকোটি ভেঙে যায়।

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা। ]



সাতদিনের সেরা