kalerkantho

রবিবার । ২৬ জুন ২০২২ । ১২ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৫ জিলকদ ১৪৪৩

পাম তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলল ইন্দোনেশিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২০ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাম তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলল ইন্দোনেশিয়া

ভোজ্য তেলের বাজারে স্বস্তির খবর দিল ইন্দোনেশিয়া। আগামী সোমবার থেকে পাম তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। বাংলাদেশের ভোক্তারাও এর সুফল পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে দেশে খুচরা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়তে কিছুদিন সময় লাগবে।

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়, ভোজ্য তেলের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আগামী সোমবার থেকে পাম তেল রাপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো। দেশটির ভেতরেও পাম তেলের দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে এসেছে। ইন্দোনেশিয়ার এই ঘোষণায় শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়েই ভোজ্য তেলের বাজারে স্বস্তি এনেছে। ইন্দোনেশিয়ার এই ঘোষণার আগে থেকেই অবশ্য বাংলাদেশের পাইকারি বাজারে পাম তেলের দাম কমছিল। ঈদের পর সরকার খোলা পাম তেলের দর বেঁধে দেয় মণপ্রতি ছয় হাজার ৯৫০ টাকা। তিন দিন পর সেই তেল বিক্রি হয় ছয় হাজার ৪০০ টাকা। পরে আরো কমে দাঁড়ায় ছয় হাজার ২০০ টাকা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সেই পাম তেল মণপ্রতি বিক্রি হয় পাঁচ হাজার ৮৫০ টাকা থেকে পাঁচ হাজার ৯০০ টাকায়। ইন্দোনেশিয়ার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের খবর বাজারে পৌঁছলেও এর প্রভাব জানা যাবে আগামী রবিবার। কারণ, শুক্রবার খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজার বন্ধ আর শনিবার পর্যন্ত ব্যাংক বন্ধ।

জানতে চাইলে এস আলম গ্রুপের জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক কাজী সালাহ উদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সংকট এড়াতে সরকারের অনুরোধে আমরা প্রচুর পাম তেল বুকড করে রেখেছিলাম। সেগুলো আসছিল দেশে। রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের খবরে আমাদের খুশির খবর হচ্ছে সংকটটা কাটবে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘ভোক্তা পর্যায়ে এর সুফল পেতে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে। কারণ এখনো তো বাড়তি দামে কেনা তেল বিক্রি করছি। নতুন দামে তেল দেশে এসে পরিশোধন হয়ে বাজারে আসতে কিছুটা সময় তো লাগবেই। ’  

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) হিসাবে, সয়াবিন, পাম, সরিষা ও রাইস ব্র্যান তেল মিলিয়ে দেশে বছরে প্রায় ২০ লাখ টন ভোজ্য তেলের চাহিদা রয়েছে।

চাহিদার বেশির ভাগ ১৩ লাখ টনই পাম তেল এবং পাঁচ লাখ টন সয়াবিন। বাকিটা সরিষা, রাইস ব্র্যানসহ অন্য তেল। বর্তমানে সয়াবিন ও পাম তেল পুরোটাই আমদানিনির্ভর। ১৩ লাখ টন পাম তেল আমদানির বড় অংশ অর্থাৎ ৯০ শতাংশই আমদানি হয় ইন্দোনেশিয়া থেকে। বাকি ১০ শতাংশ আমদানি হয় মালয়েশিয়া থেকে।

বিশ্বে পাম তেলের বড় রপ্তানিকারক ইন্দোনেশিয়া গত ২৮ এপ্রিল থেকে রপ্তানি বন্ধ করার পর থেকে পাম তেলের দামে রেকর্ড ছুঁয়ে যায়। ইন্দোনেশিয়া তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারে—এমন খবরে পাম তেলের দর দিন দিন কমছিল।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী জামাল হোসেন বলেন, ঈদের পর সরকার পাম তেলের দাম নির্ধারণের পর থেকে পাইকারি বাজারে খোলা পাম তেলের দাম কমছিল। রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আগেই গতকাল দাম কমে মণপ্রতি পাঁচ হাজার ৮৫০ টাকা থেকে পাঁচ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি সংস্থার তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে পাম তেলের প্রায় ৫৬ শতাংশই রপ্তানি করে ইন্দোনেশিয়া। গত মৌসুমে ২০২০-২১ (অক্টোবর-সেপ্টেম্বর) দেশটি রপ্তানি করে দুই কোটি ৬৮ লাখ টন। একই মৌসুমে প্রায় ৩৩ শতাংশ রপ্তানি করেছে দ্বিতীয় স্থানে থাকা মালয়েশিয়া, যা পরিমাণে এক কোটি ৫৮ লাখ টন। এর বাইরে গুয়াতেমালা, কলম্বিয়া, পাপুয়া নিউগিনি রপ্তানি করলেও পরিমাণ খুবই কম, ১৮ লাখ ৭৫ হাজার টন।

 

 



সাতদিনের সেরা