kalerkantho

সোমবার । ২৭ জুন ২০২২ । ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৬ জিলকদ ১৪৪৩

অভিমত

মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন

মোস্তাফিজুর রহমান

১৯ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন

মোস্তাফিজুর রহমান

বর্তমান পরিস্থিতিতে আস্থার অভাব ও অনিশ্চয়তা— দুটিই সৃষ্টি হয়েছে। ডলারের ব্যাংক নির্ধারিত বিনিময় হারের অনেক বেশি দামে কার্ব মার্কেট ও এলসি খোলা হচ্ছে। যেহেতু এলসিগুলো কেনা হচ্ছে বেশি দামে, তাই আমদানি মূল্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে আমদানি করা পণ্যের দাম বেড়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন

বৈশ্বিক বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এখন বিনিময় হারের ক্ষেত্রে যদিও অস্থিরতা চলে, তার নানামুখী প্রভাব পড়বে। ভোক্তা-উৎপাদক সবার জন্যই এটা চাপ সৃষ্টি করবে। ক্রয়ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। উৎপাদকের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ওপরও এটার প্রভাব পড়বে।

তাই মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখাকেই এখন সবচেয়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক দেরিতে হলেও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। হয়তো টাকার আরো অবমূল্যায়ন করতে হবে। আবার অন্যদিকে রিজার্ভকে স্থিতিশীল রেখে ডলারের সরবরাহ বাড়ানোর দিকেও কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। দুই দিকেই কাজ করতে হবে। এই অনিশ্চয়তা আমরা যদি কাটাতে না পারি তাহলে অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ সৃষ্টি হবে, যেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

আমদানি পর্যায় থেকে ভোক্তা পর্যায়ে আমাদের পণ্যের দাম যদি আরো বাড়ে সরকারকে সেটাও মোকাবেলা করতে হবে। এ জন্য কিছু শুল্ক সমন্বয়, ভর্তুকি সমন্বয়, বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হবে। সিন্ডিকেশন, মজুদদারি ঠেকানোর দিকে শক্তভাবে নজর দিতে হবে। আমাদের নিজেদেরও চাহিদার দিক থেকে সংযত হতে হবে।

সব দেশেই মূল্যস্ফীতির প্রভাব পড়েছে। এখন আমাদের মূল্যস্ফীতির চাপের সঙ্গে বিনিময় হারের চাপের সংযুক্তি হয়েছে। চক্রবৃদ্ধি হারে যে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এটা ভালো বার্তা দিচ্ছে না।

এলসি মার্জিন বাড়ানো হয়েছে, বিলাসপণ্য আমদানি অনুৎসাহিত করা হচ্ছে, প্রকল্পের অধীনে যে আমদানি হয় সেগুলো কিছুটা এখন সংযত করা সঠিক পদক্ষেপ। কিন্তু টাকা-ডলারের বাজারে যে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটাকে স্বস্তির অবস্থায় নিতে এখন আরো ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। আস্থার অভাব ও অনিশ্চয়তায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনিশ্চয়তা কাটাতে না পারলে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। তাই দরকার হলে টাকার আরো কিছু অবমূল্যায়ন এবং রিজার্ভ থেকে ডলারের সরবরাহ বাড়িয়ে সংকট মোকাবেলা করতে হবে।

লেখক : অধ্যাপক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো

 



সাতদিনের সেরা