kalerkantho

সোমবার । ২৭ জুন ২০২২ । ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৬ জিলকদ ১৪৪৩

আলোচনাসভায় প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচন নিয়ে কথা বলার অধিকার বিএনপির নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নির্বাচন নিয়ে কথা বলার অধিকার বিএনপির নেই

শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপির নির্বাচন নিয়ে কথা বলার কোনো অধিকার নেই। কারণ, তারা তাদের মেয়াদে নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে কলুষিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ বিএনপি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলে, কিন্তু তাদের নির্বাচনের ইতিহাস এতটা কলুষিত যে তাদের এ নিয়ে কথা বলার কোনো অধিকারই নাই। কোন মুখে তারা বলে?’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বুধবার বিকেলে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির আলোচনাসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেওয়া বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া। কারাগার থেকে বাসায় থাকার সুযোগ দিয়েছি, অসুস্থ সে জন্য। যে আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে বারবার, তাকেই আমি এই করুণা ভিক্ষা দিয়েছি, যেন বাসায় থাকতে পারে। সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে আমরা নির্বাহী আদেশে এটুকু সুযোগ দিয়েছি। ’

আলোচনাসভায় এক ঘণ্টারও কিছু বেশি সময় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর বক্তব্যে ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে দেশে ফেরার নানা অভিজ্ঞতা, এক-এগারো পরিস্থিতিতে দেশে ফেরা এবং সরকারের সমালোচকদের নানা বক্তব্যের জবাব প্রাধান্য পায়।

পদ্মা সেতু নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়া বলেছিল জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু বানাচ্ছে। সেটায় চড়া যাবে না। চড়লে ভেঙে পড়বে। তার সঙ্গে তার কিছু দোসরও গলা মিলিয়েছে। তাদের কী করা উচিত? পদ্মা সেতুতে নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে পদ্মা নদীতে টুস করে ফেলে দেওয়া উচিত। আর যে একটা এমডি পদের জন্য পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করেছে তাকেও পদ্মা নদীতে নিয়ে গিয়ে দুইটা চুবানি দিয়ে উঠিয়ে আনা উচিত। ’

২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত সরকারের আমলে দেশে ফেরার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অনেক নেতাও ফোন করেছেন। তাঁরা বলেছেন, আপনার আসার দরকার নেই। এয়ারপোর্টে নামলেও ঢুকতে দেবে না, নামলেই গুলি করে মেরে ফেলবে। আমার জবাব ছিল, মরলেও তো নিজের মাটিতে মরলাম। ’

দেশে ফেরার দিনের স্মৃতিচারণা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কেউ এয়ারপোর্টে যেতে পারবে না। আমাদের দলের পক্ষ থেকেও তখনকার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল সাহেব একটা ঘোষণা দিয়ে দিলেন, কেউ গেলেই বহিষ্কার করা হবে। ’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেদিন যদি দেশে ফিরে না আসতাম, যদি জেল না খাটতাম তাহলে দেশের মানুষের এত ভোট পেতাম না। সেই নির্বাচনে জয়ী হয়েই কিন্তু এখন পর পর তিনবার ক্ষমতায় আছি। ’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে সারা দিন কথা বলেই যাচ্ছে। আমি বলি, এত টক টক কথা না বলে একটু মিষ্টি কথাও তো বলতে পারেন। সব কথা বলার শেষে বলবে, আমাদের কথা বলতে দেওয়া হয় না। বিএনপির এক নেতা তো সারা দিন মুখে মাইক লাগিয়েই আছে। কথা বলতে বলতে তো একবার গলায় অসুখ হলো। চিকিৎসা করে এখন আবার কথা বলছে। কেউ তো কথা বলতে নিষেধ করেনি। এখন মানুষ আপনাদের ডাকে সাড়া না দিলে আমরা কী করব?’

সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের নানা সমালোচনারও জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘নতুন একজন আঁতেল জুটেছে। একজন অর্থনীতিবিদ বলে দিল, আমরা যে রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করেছি সেটা নাকি অর্থনৈতিকভাবে ভীষণ ক্ষতিকর। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র এটা হচ্ছে সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব। গ্যাস তো সব সময় থাকে না। তেল, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অনেক খরচ। আমাদের যদি গ্যাস ফুরিয়ে যায় তাহলে তো এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেই আমাদের বিদ্যুৎ আসবে। ...একটা বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক জীবনে যে কী পরিমাণ ভূমিকা রাখে তা কি তিনি জানেন না? আমাদের উন্নয়ন বিদেশের মানুষ দেখে, কিন্তু এরা দেখে না। ’

 

 



সাতদিনের সেরা