kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

তদন্ত প্রতিবেদন

টিটিই নির্দোষ, রেলমন্ত্রীর স্ত্রীও নির্দোষ

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি   

১৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



টিটিই নির্দোষ, রেলমন্ত্রীর স্ত্রীও নির্দোষ

শফিকুল ইসলাম

বিনা টিকিটে ট্রেনে চড়ায় রেলপথ মন্ত্রীর আত্মীয়কে জরিমানা করা টিটিই (ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনার) শফিকুল ইসলাম নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। একই সঙ্গে টিটিইকে বরখাস্তের নির্দেশ প্রদানকারী রেলপথ মন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মী আক্তারের দোষ খুঁজে পায়নি তদন্ত কমিটি। গতকাল সোমবার সকালে জমা দেওয়া রেলওয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বরখাস্ত আদেশের বার্তা প্রদানকারী পাকশী রেলওয়ের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিন এবং এর সঙ্গে জড়িত সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (এসিও) নুরে আলমের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়নি তদন্ত কমিটি।

বিজ্ঞাপন

যদিও ডিসিওকে এরই মধ্যে কারণ দর্শাতে বলেছে রেল কর্তৃপক্ষ। আর মিথ্যা অভিযোগ করায় তদন্ত প্রতিবেদনে মন্ত্রীর স্ত্রীর ভাগ্নে প্রান্তকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। প্ররোচনার অভিযোগে ওই ট্রেনের গার্ড (পরিচালক) শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান পাকশী রেলওয়ের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম ৪৭ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শাহীদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় তদন্ত কমিটির অন্য দুই সদস্যসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিআরএম শাহীদুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘তদন্তে টিটিই শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি, যে কারণে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘কোনো কারণে গার্ড টিটিইর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। এই কারণে গার্ড যাত্রীকে উসকানি বা প্ররোচনা দিয়ে টিটিইর বিরুদ্ধে অভিযোগ করিয়েছেন। তদন্ত কমিটি গার্ড শরিফুলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী ট্রেনযাত্রীকে রেলওয়ের বিভাগীয় কার্যালয়ে এসে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। অন্য দুই যাত্রী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের কথা উল্লেখ করা হয়নি। ’

টিটিই বরখাস্তের সঙ্গে রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের স্ত্রী শাম্মী আক্তার মনি জড়িত ছিলেন কি না—জানতে চাইলে ডিআরএম শাহীদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনা ট্রেনের মধ্যে যাত্রীর সঙ্গে। সে কারণে শুধু সেই বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছে। এর বাইরে কোনো বিষয় এর সঙ্গে আনা হয়নি। আর তদন্তে অভিযোগকারী বা অভিযুক্তের বক্তব্যে মন্ত্রীর স্ত্রীর কোনো কথা বা অভিযোগ উঠে আসেনি। ’

তবে গার্ড শরিফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দেখিনি। দেখার পর বুঝতে পারব কেন আমাকে অন্যায়ভাবে এই ঘটনার সঙ্গে জড়ানো হচ্ছে। ’ তিনি জানান, ঘটনার দিন তিনি খুলনা থেকে আন্ত নগর সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেন নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। এ সময় এসিও নুরে আলম মুঠোফোনে জানান, রেলপথ মন্ত্রীর স্ত্রীর তিন আত্মীয় ঈশ্বরদী স্টেশন থেকে ঢাকায় যাবেন। তাঁদের নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। একই সঙ্গে কোন বগিতে আসন খালি আছে, তা জানতে চান। তখন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) কামরায় কিছু আসন ফাঁকা দেখতে পান। এরপর ঈশ্বরদী স্টেশনে ওই তিন যাত্রী এলে ট্রেনের অ্যাটেন্ড্যান্ট খন্দকার মাসুদ আলম ও এসি অপারেটর আকাশ হাওলাদারকে যাত্রীদের ট্রেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। ওই দিন ট্রেনে ডিএমইওর অসুস্থ মা-বাবা থাকায় তিনি তাঁদের খোঁজ নিতে যান। সেখান থেকে ফেরার সময় ওই তিন যাত্রীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। তখন তাঁরা জানান, টিটিই শফিকুল তাঁদের টিকিট করে দিয়েছেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘টিটিই টিকিট করে দিলে আমার কি করার আছে?’ এর বেশি কিছু বলেননি। এখন কেন তাঁকে দোষারোপ করা হচ্ছে, তা তিনি কিছুই বুঝতে পারছেন না।

এ বিষয়ে টিটিই শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গার্ড শরিফুল ইসলামকে সন্দেহ করি। কারণ এর আগেও তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছিলেন। ’

এ বিষয়ে অভিযোগকারী যাত্রী ইমরুল কায়েস প্রান্ত কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে অশালীন আচরণ করায় আমি টিটিইর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি। রেল কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে কী পেয়েছে এবং কী করবে সেটা আমার ব্যাপার না। ডিআরএম কার্যালয়ে গিয়ে ক্ষমা চাইব কেন?’

 

 



সাতদিনের সেরা