kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

প্রধানমন্ত্রী বললেন

সমালোচনা করার আগে গ্রামে গিয়ে দেখে আসুন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সমালোচনা করার আগে গ্রামে গিয়ে দেখে আসুন

শেখ হাসিনা

যাঁরা শহরে বসে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের সমালোচনা করেন, তাঁদের গ্রামে গিয়ে সারা দেশের উন্নয়নচিত্র দেখে আসার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, খেটে খাওয়া কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করাই আওয়ামী লীগ সরকারের লক্ষ্য। সরকার ‘ঘরে ঘরে’ বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে, দেশের উন্নয়নে বিভিন্ন ‘মেগাপ্রকল্প’ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে, এর সুফল দেশের মানুষই পাবে।

এসডিজি বাস্তবায়ন পর্যালোচনাবিষয়ক তিন দিনব্যাপী দ্বিতীয় জাতীয় সম্মেলন-২০২২-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী গতকাল সোমবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের জেনারেল ইকোনমিক ডিভিশন (জিইডি) আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

প্রধানমন্ত্রী ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সম্মিলিত প্রচেষ্টার পাশাপাশি যথাযথ ও উদ্ভাবনী কর্মপরিকল্পনা এবং কার্যকর পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ে এসডিজি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। কিন্তু আমি এখনো বিশ্বাস করি, সম্মিলিত প্রচেষ্টার পাশাপাশি যথাযথ উদ্ভাবনী কর্মপরিকল্পনা ও কার্যকর পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে এই লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছা সম্ভব। ’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলে ২০৩০-এর আগেই নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে এবং ২০৪১ সালের আগেই জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সক্ষম হব। ’

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং এসডিজি অর্জনে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য নীতি সহায়তা এবং তহবিল প্রদান অব্যাহত রাখব, তবে আমাদের অবশ্যই তহবিলের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং অপচয় রোধ করতে হবে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে পূরণ এবং তা যেন বাস্তবায়িত হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া দরকার। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এসডিজিকে কেবল একটি বৈশ্বিক উন্নয়ন ধারণা হিসেবে গ্রহণ করেনি। এ কার্যক্রমের আওতায় ১৭টি অভীষ্ট থেকে ৩৯টি সূচককে বাংলাদেশের জন্য ‘এসডিজি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতিটি জেলার বাস্তবতা বিবেচনায় একটি করে অতিরিক্ত সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, আশা করা যায়, এই অগ্রাধিকার তালিকা অনুযায়ী জেলা, উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের সব সরকারি দপ্তরে দ্রুত ও সফলতার সঙ্গে এসডিজি পরিবীক্ষণ ও বাস্তবায়ন সম্ভব হবে এবং দেশের চলমান উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে।

সরকারের উন্নয়ন নিয়ে যাঁরা সমালোচনা করেন তাঁদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে বসে তাঁর সরকারের করে দেওয়া স্বাধীন গণমাধ্যমের সুযোগে ঢালাও সমালোচনা না করে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে ঘুরে এসে স্বচক্ষে উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করে এরপর বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘ঢাকায় বসে অনেকেই সমালোচনা করেন। তাঁদের আমার অনুরোধ থাকবে, সারা বাংলাদেশ আপনারা একটু ঘুরে দেখবেন। পরিবর্তনটা কোথায় এসেছে, কতটুকু এসেছে—সেটা বোধ হয় সবাই গ্রাম পর্যায়ে একটু যোগাযোগ করলে জানতে পারবেন। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই হয়তো এখন সমালোচনা করেন, এটা করা হচ্ছে কেন বা এত টাকা খরচ হয়েছে। খরচের দিকটা অনেকে শুধু দেখেন কিন্তু এই খরচের মধ্য দিয়ে দেশের জনগণ যে কত লাভবান হবে এবং আমাদের অর্থনীতিতে কতটা অবদান রাখবে, আমাদের উন্নয়ন গতিশীল হবে, মানুষের জীবন পরিবর্তনশীল হবে—সেটা বোধ হয় তাঁরা বিবেচনা করেন না। এটা হচ্ছে খুব দুঃখজনক। ’

নদীমাতৃক বাংলাদেশে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন একান্তভাবে অপরিহার্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যোগাযোগ যত দ্রুত বৃদ্ধি পাবে, মানুষের পণ্যের পরিবহন বৃদ্ধি পাবে। মানুষের যাতায়াত বৃদ্ধি পাবে, অর্থনীতি সচল হবে। একবারে তৃণমূল পর্যায়ে যে উৎপাদিত পণ্য, তা বাজারজাত করা সহজ হবে এবং দারিদ্র্য বিমোচন করে আমাদের অর্থনীতিকে আরো গতিশীল করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ’

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম ও জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক (ভারপ্রাপ্ত) তুওমো পাউতিয়ানেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক জুয়েনা আজিজ।

জিইডির সদস্য (সচিব) মো. কাওসার আহমেদ বাংলাদেশের এসডিজি অগ্রগতি এবং এসডিজি অর্জনের পরিকল্পনা সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা করেন। অনুষ্ঠানে এসডিজিবিষয়ক একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়। প্রধানমন্ত্রী এসডিজিবিষয়ক একটি প্রকাশনার মোড়কও উন্মোচন করেন। সূত্র : বাসস

 



সাতদিনের সেরা