kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

গ্যাসের দাম ঠিক না করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণশুনানি

সজীব আহমেদ   

১৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গ্যাসের দাম ঠিক না করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণশুনানি

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে আগামীকাল বুধবার গণশুনানি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কিন্তু বর্তমানে দেশে মোট বিদ্যুতের ৫৫ শতাংশ আসে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে। এ অবস্থায় গ্যাসের দাম ঠিক না করে এই গণশুনানি ফলপ্রসূ হবে না বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর গত ২১-২৪ মার্চ চার দিনের একটি গণশুনানি করে বিইআরসি।

বিজ্ঞাপন

গ্যাস বিতরণ কম্পানিগুলো ১১৭ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়। বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়।

কমিশনের আইন অনুযায়ী, শুনানির ৯০ দিনের মধ্যে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের বিষয়ে ঘোষণা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাসের দাম আগে ঠিক করে তার ওপর ভিত্তি করে বিদ্যুতের দামের গণশুনানি করা উচিত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিইআরসির এক সদস্য কালের কণ্ঠকে বলেন, যেহেতু এখনো গ্যাসের দাম ঠিক হয়নি, তাই শুধু জ্বালানি তেলের দামের ভিত্তিতে বিদ্যুতের এই গণশুনানি সুফল বয়ে আনবে না।

জানতে চাইলে বিইআরসির চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জলিল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এখন চাইলেই গ্যাসের দাম ঘোষণা দিতে পারছি না। এর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় যুক্ত আছে। আবার যেহেতু বিদ্যুতের গণশুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে, তাই শুনানির তারিখও পরিবর্তন করা হবে না। এরই মধ্যে হল রুম বুকিং এবং খাবারের অর্ডার দেওয়া হয়ে গেছে। পরবর্তী সময়ে দাম ঘোষণা হলে গ্যাসের দাম যা হবে সে অনুযায়ী বিদ্যুতের দাম ঠিক করা হবে। ’

জানা যায়, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে গত জানুয়ারির মাঝামাঝিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় পিডিবি। এতে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ৬৬ থেকে ৭৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়। পাইকারিতে দাম বাড়লে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ে।

এর আগে গত জানুয়ারি মাসেই ছয়টি গ্যাস বিতরণ কম্পানি গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। তাদের প্রস্তাবে আবাসিকে দুই চুলায় গ্যাসের বিল মাসে ৯৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই হাজার ১০০ টাকা ও এক চুলায় ৯২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই হাজার টাকা করার কথা বলা হয়। সেখানে বিইআরসির কারিগরি কমিটি গ্রাহকদের দুই চুলার গ্যাসের দাম ৯৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার ৮০ টাকা এবং এক চুলার গ্যাসের দাম ৯২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৯০ টাকা করার সুপারিশ করে।

জানতে চাইলে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। তাই গ্যাসের দাম বাড়ালেও বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হবে, না বাড়ালেও বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হবে। ’

মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, এখন গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে মোট বিদ্যুতের প্রায় ৫০-৫৫ শতাংশের জোগান আসে। ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলনির্ভর কেন্দ্র থেকে আসছে প্রায় ৪০ শতাংশ। বাকিটা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, আমদানীকৃত ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আসছে।

তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরূল ইমাম কালের কণ্ঠকে বলেন, গ্যাসের দাম আগে ঠিক করে তার ওপর ভিত্তি করে বিদ্যুতের দামের গণশুনানি করা উচিত। গ্যাসের দাম ঠিক করা ছাড়া বিদ্যুতের দাম নিয়ে গণশুনানি পুরোপুরি ফলপ্রসূ হবে না। এই দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি হবে।

বদরূল ইমাম বলেন, গ্যাসের দাম ঠিক করা ছাড়া বিদ্যুতের গণশুনানির যুক্তিকতাটা ঠিক স্পষ্ট নয়। তাই গণশুনানি এখন না করে পিছিয়ে দেওয়া উচিত।

 



সাতদিনের সেরা