kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

সমতার দিনে চেনা সাকিব

সাইদুজ্জামান, চট্টগ্রাম থেকে   

১৬ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সমতার দিনে চেনা সাকিব

এই ম্যাচে তাঁর খেলা নিয়েই তৈরি হয়েছিল ঘোর অনিশ্চয়তা। তবে কভিড নেগেটিভ হয়ে চট্টগ্রাম টেস্টে খেলতে নেমে প্রথম দিন দারুণ বোলিং করেছেন সাকিব আল হাসান। ১৯ ওভারে ৭ মেডেনসহ ২৭ রান খরচায় নিয়েছেন একটি উইকেটও। ছবি : মীর ফরিদ

স্পটলাইট ছিল তাঁর ওপর। নিজেকে ফিট ঘোষণা করে টেস্টে নেমে পড়া তিনি কতটা কী করেন। তিনি, সাকিব আল হাসান চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিন দেখালেন তাঁর ইচ্ছাশক্তির দাপট। গভীরতম মনোযোগের দাবি থাকে স্লিপ ফিল্ডারের কাছে।

বিজ্ঞাপন

টস জিতে শ্রীলঙ্কার ওপেনাররা গার্ড নিতেই দেখা গেল প্রথম স্লিপে সাকিব। হেড কোচের দাবি ছিল দিনে ১৫ ওভার বোলিং। ১৯ ওভার বোলিং করে একটি উইকেট নেওয়া তিনি দিনের সবচেয়ে হিসেবি বোলারও (১.৪২ ইকোনমিতে)। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে প্রতিপক্ষকে ৪ উইকেটে ২৫৮ রানে বেঁধে রাখার দিনে সাকিবের প্রত্যাবর্তনও সমান তৃপ্তির।

বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ রঙ্গনা হেরাথও রীতিমতো মুগ্ধ, ‘আমি শতভাগ নিশ্চিত ছিলাম যে প্র্যাকটিস ছাড়াও ভালো করবে ও (সাকিব)। ’ তাঁর এই বিশ্বাসের কারণও আছে, ‘এই মানের খুব বেশি ক্রিকেটার আমাদের নেই। কোনো রকম প্র্যাকটিস ছাড়াই প্রথম বলটা ঠিক জায়গায় ফেলেছে। আজ খুব ভালো বোলিং করেছে, সবচেয়ে কম রান দিয়েছে। ’ প্রচণ্ড গরম, উইকেটের ধরন, প্রস্তুতির ঘাটতি এবং সর্বোপরি সদ্যই কভিড থেকে সেরে ওঠা একজন ক্রিকেটারের কাছে যা অভাবিত। খুঁজে-টুজে বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গনে একজনকেই পাওয়া গেছে, যিনি এমন প্রস্তুতিহীন অবস্থায় নেমে পড়েও প্রতিপক্ষ ব্যাটারকে চিন্তিত রাখতে পারতেন। তিনি মাশরাফি বিন মর্তুজা। অমূল্য অভিজ্ঞতাই তাঁদের মূল শক্তি। অবশ্য বোলিং নিয়ে মোটেও চিন্তিত ছিলেন না সাকিব। সেরকম কিছু হলে চট্টগ্রাম টেস্টের আগের দিন ব্যাটিংয়ের সঙ্গে বোলিংও করতেন তিনি। করেননি, কারণ বোলিংটা এখনো সাকিবের কাছে ডালভাত।

অথচ শুরুতে চট্টগ্রামের উইকেটে বাংলাদেশি বোলারদের হাড়ভাঙা খাটুনি দেখার আশঙ্কা ছিল। হোক পাঁচ বোলারের একাদশ। তবু রানওয়েসদৃশ উইকেটে কতটুকু আর কী করার আছে বোলিং ইউনিটের! বিশেষ করে পেসারদের।

দক্ষিণ আফ্রিকায় দুর্দান্ত বোলিংয়ের পুরস্কার হিসেবে এবাদত হোসেনকে টপকে খালেদ আহমেদ জুটি বেঁধেছেন শরিফুল ইসলামের সঙ্গে। প্রথম দিনে বাংলাদেশের পথের কাঁটা হয়ে থাকা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজকে তুলেও নিতে পারতেন খালেদ, যদি লেগ সাইডে দেওয়া কঠিন ক্যাচটা নিতে পারতেন উইকেটকিপার লিটন কুমার দাস। বোলিং শুরু করা শরিফুল তো দুইবার রিভিউও নিয়েছিলেন। কিন্তু দুটিই নষ্ট হয়েছে বল ট্র্যাকিংয়ে। অবশ্য মমিনুল হকের রসিকতা ভুল নয়। শরিফুলের মতো মাঠের আম্পায়াররাও ‘রোবট’ নন। নইলে এক দিনেই তাঁদের পাঁচটি সিদ্ধান্ত পাল্টে দেবে কেন ডিআরএস!

যাক, পেসাররা অন্তত স্পিনারদের কাঁধে বোলিংয়ের বোঝা চাপিয়ে সটকে পড়েননি। তাতে দম ফেলার ফুরসত পেয়েছেন বাংলাদেশের তিন স্পিনার। যদিও যথারীতি সর্বোচ্চ ধকল গেছে তাইজুল ইসলামের, ৩১ ওভার বোলিং করেছেন এই বাঁহাতি স্পিনার। দুই পক্ষ থেকেই সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন তাইজুল। সাকিবের কথা তো শুরুতেই বলা হয়েছে। তবে দিনের সফলতম বোলার নাঈম হাসান। প্রায় ১৫ মাস পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা এই অফস্পিনার প্রথম বলেই তুলে নিয়েছেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দিমুথ করুণারত্নেকে। প্রথম সেশনটা বাংলাদেশ জিতেছে নাঈমের দ্বিতীয় শিকারে।

একেকটা সেশন জয় পরের সেশনের জন্য টনিক জোগায়। চা-বিরতির পর প্রথম বলেই অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের সঙ্গে ৯২ রানের জুটি গড়ে ফেলা কুশল মেন্ডিসের উইকেটটি যেন তারই ফলশ্রুতি। নইলে তাইজুলের ওই বলটা ছিল নিখাদ লং হপ, নিশ্চিত গন্তব্য সীমানার বাইরে। কিন্তু মেন্ডিসের পুল শটে বল জমা পড়ে মিড উইকেট ফিল্ডারের হাতে। ক্লান্তিহীন বোলিংয়ে আরো বড় পুরস্কার প্রাপ্য ছিল তাইজুলের। দারুণ এক ডেলিভারিতে ম্যাথুজকে পরাস্ত করেছিলেন বাঁহাতি স্পিনার। কিন্তু উইকেটকিপার ও প্রথম স্লিপের ফাঁক গলে নিরাপদে বেরিয়ে যায় সেই ক্যাচ। ম্যাথুজ তখন ৬৯ রানে দাঁড়িয়ে। ক্যাচটি নিতে পারলে আরো চওড়া হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত বাংলাদেশ।

উল্টো ক্যারিয়ারের দ্বাদশ সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশকে চোখ রাঙাচ্ছেন ম্যাথুজ (২১৩ বলে ১১৪*)। তাঁর কল্যাণে দিনের শেষে কুশল মেন্ডিস আশাবাদী, ‘প্রথম দিনে ২৫৮ ভালো স্কোর। আমার মনে হয় এই উইকেটে চার-পাঁচ শর বেশি রান করা সম্ভব। ’ প্রথম দিনের স্বস্তিতে ভর করে আশার কথা শুনিয়েছেন বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ রঙ্গনা হেরাথও, ‘কাল (আজ) দ্রুত গোটা দুই উইকেট তুলে নিতে হবে। ওদের আমরা চার শর নিচে আটকে রাখতে চাই। ’ দুুই পক্ষের প্রতিক্রিয়ায়ই প্রথম দিন ড্র হওয়ার স্বস্তি।

বলার অপেক্ষা রাখে না, বাংলাদেশের এই লক্ষ্য পূরণে প্রধানতম বাধা ১১৪ রানের আত্মবিশ্বাস নিয়ে আজ আবার ব্যাট হাতে নামা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। সঙ্গে আছেন দীনেশ চান্ডিমাল। ড্রেসিংরুমে অপেক্ষায় আছেন নিরোশান ডিকভেলা। এর পরই লেজ বেরিয়ে পড়বে সফরকারী দলের। তাতে লঙ্কানদের প্রথম ইনিংস চার শ পেরিয়ে যাওয়া অসম্ভব নয়।

পাঁচ বোলারের শক্তিতে কি সেটি অসম্ভব করতে পারবে বাংলাদেশ দল? এই পারা না পারার ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে মমিনুলদের ভাগ্য। সফরকারীরা যত দূর যাবে, ততই চট্টগ্রামের গরমে হাঁপিয়ে উঠবে বাংলাদেশ দল। রানের চাপ এবং মাঠের তাপের সহযোগিতায় যে তখন মমিনুলদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে লঙ্কানদের বৈচিত্র্যময় বোলিং আক্রমণ!



সাতদিনের সেরা