kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

যুক্তরাষ্ট্রে ‘বর্ণবিদ্বেষীর’ গুলিতে নিহত ১০

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্রে ‘বর্ণবিদ্বেষীর’ গুলিতে নিহত ১০

শ্বেতাঙ্গ এক যুবকের গুলিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরের কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত এলাকায় ১০ ব্যক্তি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো তিনজন।

গতকাল শনিবার বাফেলোর এক সুপার মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ এটিকে বর্ণবিদ্বেষপ্রসূত হামলা হিসেবেই দেখছে।

বিজ্ঞাপন

কারণ হামলার শিকার প্রায় সবাই কৃষ্ণাঙ্গ। আক্রমণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের নথি অনুসারে তাঁর নাম পেটন গেনড্রন।

জানা গেছে, প্রায় ২০০ মাইল গাড়ি চালিয়ে আক্রমণস্থলে পৌঁছান হামলাকারী যুবক। গুলি ছুড়তে শুরু করেন সুপার মার্কেটে প্রবেশের আগে থেকেই। গুলি চালানোর সময় তিনি বর্ণবাদী স্লোগান দেন। স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে অনলাইনেও প্রচার করেন আক্রমণের ঘটনা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ ঘটনাকে ‘ঘৃণ্য’ কাজ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে এফবিআইয়ের স্থানীয় কর্মকর্তা স্টিফেন বেলেংগিয়া জানিয়েছেন, বিদ্বেষমূলক ঘটনা ও বর্ণবিদ্বেষপ্রসূত উগ্র সহিংসতা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে আক্রমণটিকে।

বাফেলোর পুলিশ কমিশনার জোসেফ গ্রামাগলিয়া বলেন, ‘হামলাকারী ভারী রাইফেলে সজ্জিত ছিলেন। তাঁর কাছে বিশেষ  হেলমেটসহ বিশেষ সরঞ্জাম ছিল। ’

আহত তিন ব্যক্তি ওই সুপার মার্কেটে কাজ করতেন। তাঁদের কারো আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে জানা গেছে। সুপার মার্কেটটিতে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা আক্রমণকারীকে লক্ষ্য করে গুলি করার চেষ্টা করে প্রাণ হারিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছে পুলিশ।

বাফেলোর মেয়র বায়রন ব্রাউন বলেছেন, ‘কোনো কমিউনিটির জন্য এটি একটি ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন। আমরা কষ্ট পাচ্ছি, আমরা এখন বিক্ষুব্ধ। ’

নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুল বলেন, আক্রমণকারী ‘উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়ানো একজন শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী। ’

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২০ সালে বর্ণবিদ্বেষী অপরাধ ১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে গিয়ে ঠেকেছে। ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিজ জাতি, লিঙ্গ, যৌন বৈশিষ্ট্য, ধর্ম বা প্রতিবন্ধিতার কারণে আক্রমণের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছে। এফবিআইয়ের পরিসংখ্যান বলছে, এশীয় ও কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের বিরুদ্ধে আক্রমণ বিশেষভাবে বেড়েছে বছরটিতে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মানুসারে, এফবিআইয়ের কাছে বিদ্বেষমূলক অপরাধের ডাটা জমা দেওয়া দেশটির পুলিশের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, আক্রমণের প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে।

শনিবারের ঘটনাটিকে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত সবচেয়ে বড় গোলাগুলির ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। বন্দুক নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে দেশটিতে চলমান রাজনৈতিক লড়াইকে এ ঘটনা আরেকবার উসকে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্রের কারণে ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনাও রয়েছে। সূত্র : বিবিসি।

 



সাতদিনের সেরা