kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

সড়কে ধান মাড়াই

তিন গাড়ির সংঘর্ষে দুই দম্পতিসহ নিহত ৯

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



তিন গাড়ির সংঘর্ষে দুই দম্পতিসহ নিহত ৯

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর দক্ষিণ ফুকরা গ্রামে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে দুর্ঘটনায় দুমড়েমুচড়ে যাওয়া প্রাইভেট কার। গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

মহাসড়কের একটা অংশজুড়ে মেশিনে ধান মাড়াই করছিলেন স্বামী-স্ত্রী। এক চিকিৎসক স্ত্রী-সন্তানসহ প্রাইভেট কারে করে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ শহরে যাচ্ছিলেন অসুস্থ মাকে দেখতে। মোটরসাইকেলে করে দুজন যাচ্ছিলেন গোপালগঞ্জ শহরের দিকে। আর যাত্রীবাহী একটি বাস আসছিল ঢাকায়।

বিজ্ঞাপন

এ সময় বাস, প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষে এই তিন পরিবারের সাতজনসহ ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।

গতকাল শনিবার সকাল ১১টার দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার দক্ষিণ ফুকরা গ্রামে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয়রা এবং প্রশাসন বলেছে, মহাসড়কে ধান মাড়াই ও গাড়িগুলোর দ্রুতগতির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

আরো পাঁচ জেলায় গত শুক্রবার রাতে এবং গতকাল সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীসহ পাঁচজন নিহত ও ৩৩ জন আহত হয়েছেন।

কাশিয়ানীতে নিহতরা হলেন গোপালগঞ্জ শহরের সাবেক কমিশনার প্রফুল্ল কুমার সাহার ছেলে ডা. বাসুদেব সাহা, বাসুদেবের স্ত্রী শিবানী সাহা এবং ছেলে আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র স্বপ্নীল সাহা, প্রাইভেট কারের চালক ঢাকার আদাবর থানার দোয়ারী এলাকার আ. রশিদ মিয়ার ছেলে মো. আজিজ মিয়া, কাশিয়ানীর ফুকরা গ্রামের ফিরোজ মোল্লা ও তাঁর স্ত্রী রুমা বেগম, ফুকরার ব্যবসায়ী অনিক মিয়া, উপজেলার খায়েরহাট গ্রামের জেসমিন আক্তার ও অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত ১৯ জনকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। বাকি আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, সকালে প্রাইভেট কারে করে বারডেম হাসপাতালের চিকিৎসক বাসুদেব সাহা স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জে আসছিলেন। কাশিয়ানীর ফুকরা থেকে একটি মোটরসাইকেলে অনিক ও জেসমিন গোপালগঞ্জ শহরের দিকে আসছিলেন। ঘটনাস্থলে প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। মুহূর্তের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটা থেকে ঢাকাগামী রাজীব পরিবহনের একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস একটি নসিমনকে সাইড দিতে গেলে প্রাইভেট কারটির সঙ্গে বাসের সংঘর্ষ হয়। তখন প্রাইভেট কারটি দুমড়ে-মুচড়ে মহাসড়কের পাশে ধান মাড়াইরত মেশিনের ওপর ছিটকে পড়ে। আর বাসটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে রাস্তার ওপর উল্টে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই বাসুদেব, তাঁর স্ত্রী, সন্তান এবং ধান মাড়াইরত ফিরোজ মোল্লা, তাঁর স্ত্রীসহ সাতজনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজন ও হাসপাতালে আরেকজনের মৃত্যু হয়।

বাসযাত্রী মো. শহিদুল আলম বলেন, তিনি বাসের পেছনের দিকে সিটে বসে পাথরঘাটা থেকে ছেলেকে নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। বাসটির গতি অনেক বেশি থাকায় চালক নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। মুহূর্তের মধ্যে বাসটি রাস্তায় উল্টে যায়।

স্থানীয়রা বলেছে, মহাসড়কের ওপর যত্রতত্র মেশিনে ধান মাড়াইয়ের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। গতকালের দুর্ঘটনাও মূলত এ কারণে ঘটেছে। কারণ ধান মাড়াইয়ের সময় আশপাশের বেশ কিছু জায়গায় ধানের খড় ও অবশিষ্টাংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ায় যানবাহন ও পথচারীদের ভোগান্তির মধ্যে ফেলে।

জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন, মহাসড়কে ধান মাড়াই ও গাড়ির দ্রুতগতির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আহতদের গুরুত্বের সঙ্গে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবার ও আহতদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কাশিয়ানী ইউএনওসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দুর্ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন।

দুই শিক্ষার্থীসহ আরো পাঁচজনের মৃত্যু

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে দুলাভাইয়ের প্রাইভেট কার নিয়ে ঘুরতে বের হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁদের এক বন্ধু। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার পুরাবাজার এলাকায় একটি নির্মাণাধীন সেতুর কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জিসান (১৯) মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তর চরমসুরা এলাকার মো. মানিক মিয়ার ছেলে। তিনি এবার এসএসসি পাস করেছেন। নিহত (১৭) ফাহিম একই এলাকার সরবতুল্লার ছেলে এবং দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আহত জাহিদ হাসান (১৬) মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। প্রাইভেট কারটি জিসানের দুলাভাইয়ের। জিসানের পরিবারের অভিযোগ, নির্মাণাধীন সেতুতে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড থাকলে হয়তো দুর্ঘটনাটি ঘটত না।

যশোরের ঝিকরগাছার ছুটিপুর মহাতাব মার্কেটের সামনে শুক্রবার রাতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত রবিউল ইসলাম ওরফে লবা (৬৫) ফুলতলা গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি ছুটিপুর বাজার থেকে ওষুধ নিয়ে বাইসাইকেলে বাড়িতে ফিরছিলেন।

টাঙ্গাইলের মধুপুরের গাংগাইর এলাকায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কে গতকাল সকালে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একটির চালক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুই বাসের অন্তত ৩০ জন। নিহত প্রান্তিক পরিবহনের চালক শামীমের (৪৫) বাড়ি টাঙ্গাইল সদর উপজেলায়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ময়মনসিংহ থেকে আসা প্রান্তিক পরিবহন ও টাঙ্গাইল থেকে আসা মাহি পরিবহনের মধ্যে সংঘর্ষটি হয়। স্থানীয়রা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসংলগ্ন মোড়ে গতকাল সকালে শ্যালোর ইঞ্জিনচালিত করিমন উল্টে গরু ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান (৩৫) নিহত হন। তিনি পাবনার আমিনপুর থানার কাশিনাথপুর বাজার এলাকার আব্দুল আউয়ালের ছেলে।

যশোরের কেশবপুর ট্রাক টার্মিনালের পাশে গতকাল দুপুরে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যশোর-চুকনগর সড়কের পাশে ধাক্কা লেগে দুই মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন। যশোরের বসুন্দিয়া এলাকার ইকবাল হোসেন (৪৫) ও গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর উড়াকান্দার আফগান মোল্লাকে (৫৪) কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে যশোর ২৫০ শয্যার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন কালের কণ্ঠের গোপালগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মধুপুর, ঝিকরগাছা, ঈশ্বরদী ও কেশবপুর প্রতিনিধি]



সাতদিনের সেরা