kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

ঐক্যের সরকার গড়তে সমস্যায় বিক্রমাসিংহে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঐক্যের সরকার গড়তে সমস্যায় বিক্রমাসিংহে

জাতীয় ঐক্যের সরকার প্রতিষ্ঠায় শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের আহ্বান  গতকাল শুক্রবার প্রত্যাখ্যান করেছেন বিরোধীদলীয় আইন প্রণেতারা। বিরাজমান অর্থনৈতিক সংকট সামাল দিতে গত বৃহস্পতিবার ষষ্ঠবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন বিক্রমাসিংহে।

গণবিক্ষোভের মুখে মাহিন্দা রাজাপক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়লে তাঁর ভাই প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) প্রধান বিক্রমাসিংহেকে শপথবাক্য পাঠ করান। কিন্তু আইনসভার প্রধান বিরোধী দল সামাগি জানা বালাওয়াগায়ার (এসজেবি) বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা এবং রাজাপক্ষে পরিবারের বিরোধীরা ৭৩ বছর বয়সী বিক্রমাসিংহেকে মেনে নিচ্ছেন না।

বিজ্ঞাপন

বিক্রমাসিংহে গত বৃহস্পতিবার সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আগামী মাসগুলোতে আরো খারাপ অবস্থা তৈরি হতে পারে। সে জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য কামনা করেন। পাশাপাশি সহায়তার জন্য প্রতিবেশী ভারতকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

গতকাল পর্যন্ত দেশটির অন্তত চারটি বিরোধী দল বলেছে, বিক্রমাসিংহের প্রধানমন্ত্রিত্বে বৈধতার অভাব রয়েছে। তারা নতুন নির্বাচনের দাবিও করছে। তবে বিক্রমাসিংহেকে সমর্থন করা না করা নিয়ে এসজেবি দলের অভ্যন্তরে মতভেদ রয়েছে।

বিক্রমাসিংহের সম্ভাব্য নতুন মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রীর পদ প্রত্যাখ্যান করে এসজেবি দলের জ্যেষ্ঠ নেতা হার্শা ডি সিলভা সরকারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ রাজনৈতিক খেলা চায় না, তারা নতুন একটি ব্যবস্থা চায়, যা তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করবে। ’ ডি সিলভা জানান, গোতাবায়া রাজাপক্ষেকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ‘জনগণের সংগ্রামে’ যোগ দিচ্ছেন তিনি। এসজেবির বিক্রমাসিংহেবিরোধী অংশের সম্ভাব্য নেতা হারিন ফার্নান্দো বলেন, ‘আমি বিক্রমাসিংহের সরকারকে সমর্থন করব না। ’

তামিল ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স বলেছে, বিক্রমাসিংহেকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করার মাধ্যমে রাজাপক্ষে প্রশাসন ‘সম্পূর্ণভাবে বৈধতা’ হারিয়েছে। বামপন্থী পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (জেভিপি) বলেছে, বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনের একমাত্র উপায় হচ্ছে নতুন নির্বাচন। বিক্রমাসিংহেকে রাজাপক্ষে পরিবারের আস্থাভাজন বলে মনে করা হয়। এ কারণেই জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর জনপ্রিয়তা দিনে দিনে কমে গেছে। বলা হচ্ছে, ঘনিষ্ঠ এই সাবেক নেতাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা রাজাপক্ষে পরিবারের কূটকৌশল।

নীতিগতভাবে রনিল বিক্রমাসিংহে পশ্চিমাপন্থী। মুক্তবাজার অর্থনীতির সংস্কারবাদী নীতিতে বিশ্বাসী। তিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে বেইলআউট সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি অন্য দেশগুলোর ঋণ নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী।   

২২৫ আসনবিশিষ্ট বর্তমান আইনসভায় বিক্রমাসিংহের দল ইউএনপির মাত্র একটি আসন রয়েছে। সেটি তাঁর নিজের। তবে আইনসভায় বিক্রমাসিংহের পক্ষে সমর্থন হারানোর শঙ্কা নাকচ করে দিয়ে কলম্বোভিত্তিক সেন্টার ফর অলটারনেটিভ থিংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাইকিয়াসোথি সারাভারামুত্তু বলেন, বিক্রমাসিংহে সম্ভবত রাজাপক্ষে জোটের অনুগত আইন প্রণেতাদের সমর্থন নিয়ে শাসনকাজ চালাবেন। তিনি বলেন, ‘তিনি (বিক্রমাসিংহে) মন্ত্রিসভা গঠন করবেন এবং তাঁর কাজ চালাবেন। ’

শ্রীলঙ্কা ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতার পর থেকে সবচেয়ে মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পর্যটননির্ভর অর্থনীতির ভঙ্গুরতা ও ভুল অর্থনৈতিক নীতির কারণে এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের মত। এ কারণে চরম মুদ্রাস্ফীতির সৃষ্টি এবং খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা দেশের প্রভাবশালী শাসক রাজাপক্ষে পরিবারের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিকে এ জন্য দায়ী করছে।

নতুন মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে জটিলতার মধ্যে রাজধানীর গ্যালে ফেস গ্রিন উদ্যানে গোতাবায়ার পদত্যাগ দাবিতে চলতে থাকা বিক্ষোভ গতকাল ৩৬তম দিন পার করেছে। গতকাল ওই উদ্যানের আন্দোলনকারীরা আট দফা দাবিনামা তুলে ধরে। দাবিনামার প্রথম দফায়ই গোতাবায়াকে অবিলম্বে পদত্যাগের আহ্বান জানায় তারা। সূত্র : এএফপি ও ডেইলি মিরর

 



সাতদিনের সেরা