kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২৯ সফর ১৪৪৪

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন

গত মাসে সড়কে নিহত ৫৪৩

♦ দুর্ঘটনার ৪৪% এবং মৃত্যুর ৩৭.৯৩% মোটরসাইকেলে
♦ ৬৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
♦ ৮৭ পরিবহন শ্রমিকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গত মাসে সড়কে নিহত ৫৪৩

এপ্রিলে সারা দেশে ৪২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪৩ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত আরো ৬১২ জন। নিহতদের মধ্যে ৬৭ জন নারী ও ৮১টি শিশু রয়েছে। গেল এক মাসে এসব সড়ক দুর্ঘটনায় ৮৭ জন পরিবহন শ্রমিকেরও মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সেই সঙ্গে মারা গেছে ৬৩ শিক্ষার্থী।

গত মাসে ১৮৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে মারা গেছে ২০৬ জন, যা মোট নিহতের ৩৭.৯৩ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪৪.২৬ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১১৬ জন পথচারী নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতের ২১.৩৬ শতাংশ।

এই সময় ছয়টি নৌদুর্ঘটনায় আটজন নিহত হয়েছে এবং ছয়জন নিখোঁজ রয়েছে। ২১টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছে।

গতকাল শনিবার রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত  প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসে। সংস্থাটি সাতটি জাতীয় দৈনিক, পাঁচটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে প্রচারিত খবরের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেলচালক ও আরোহী ২০৬ জন, বাসযাত্রী ১৩ জন, ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি আরোহী ৬৩ জন, মাইক্রোবাস-প্রাইভেট কার-অ্যাম্বুল্যান্স-পুলিশ জিপের যাত্রী ১৪ জন, থ্রি হুইলার যাত্রী ১০০ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৯ জন এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান আরোহী ১২ জন নিহত হয়েছে।

দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৮৭টি জাতীয় মহাসড়কে, ১২৩টি আঞ্চলিক সড়কে, ৬৫টি গ্রামীণ সড়কে, ৪৬টি শহরের সড়কে এবং অন্যান্য স্থানে ছয়টি সংঘটিত হয়েছে। দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৭৫৭টি। এর মধ্যে ট্রাক ১৪৪, বাস ৭৯, কাভার্ড ভ্যান ২৬, পিকআপ ৫৮, মোটরসাইকেল ১৯৭, থ্রি হুইলার ১১৬ এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন রয়েছে ৪৩টি।

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। এখানে ১৩১টি দুর্ঘটনায় ১৫৬ জন নিহত হয়েছে। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ১৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম ২৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে। একক জেলা হিসেবে ঢাকা জেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে, ৩৯টি দুর্ঘটনায় নিহত ৪৪ জন। সবচেয়ে কম ঝালকাঠি জেলায় তিনটি দুর্ঘটনা ঘটলেও কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। রাজধানী ঢাকায় ২২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত হয়েছে।

দেশে সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন; বেপরোয়া গতি; চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা; মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল; তরুণ ও যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো; দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতিসহ ১০টি কারণ চিহ্নিত করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

সড়কে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সংস্থাটি ১০টি সুপারিশ দিয়েছে। সুপারিশে বলা হচ্ছে, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করতে হবে; চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করতে হবে; মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা পার্শ্ব রাস্তা (সার্ভিস রোড) তৈরি করতে হবে এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাধাহীনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।



সাতদিনের সেরা